লাবুশেনের ডাবলে অস্ট্রেলিয়ার প্রাধান্য

আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০২০, ১২:৩৯ এএম

‘০’ দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু। ২০১৮’র ৭ অক্টোবর দুবাই টেস্টে দ্বিতীয় বলেই আউট হয়েছিলেন তিনি। বছর ঘুরতেই সেই পাকিস্তানের বিপক্ষেই মারনাস লাবুশেন করলেন প্রথম সেঞ্চুরি। ব্রিসবেনের সেই সেঞ্চুরি ডাবলে পরিণত প্রায় করেই ফেলেছিলেন। কিন্তু ১৫ রান আগে থামতে হয় তাকে। কিন্তু ১৮৫ রানের ইনিংসটি দারুণ এক সময়ের জন্ম দেয় লাবুশেনের ক্যারিয়ারে। ১৬২, ১৪৩, ৫০, ৬৩, ১৯-এর পর ডাবল সেঞ্চুরির দেখা পেলেনই লাবুশেন। অস্ট্রেলিয়ায় এক গ্রীষ্মে খেলা ৫ টেস্টে সবচেয়ে বেশি ৮৩৪ রান তুলেছিলেন পূর্বসূরি নিল হার্ভে, ৬০ বছর আগে। তাকে ৩ রানে পেরিয়ে গেলেন লাবুশেন।

তার ২১৫ রানের ইনিংসে গতকাল সিডনি টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস শেষ হয়েছে ৪৫৪ রানে। জবাবে দুই টম- ল্যাথাম আর ব্লান্ডেলের দৃঢ়তায় ৬৩ রান নিয়ে দিন শেষ করেছে নিউজিল্যান্ড। ফ্রেঞ্জ অরিজিনের লাবুশেনের জন্ম দক্ষিণ আফ্রিকার নর্থওয়েস্ট প্রদেশের অপরিচিত এক শহর ক্লার্কসডর্পে। জ্যাক ক্যালিসকে আদর্শ মেনে বড় হচ্ছিলেন। কিন্তু কয়লাখনির চাকরি নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমানো বাবার সঙ্গে কুইন্সল্যান্ডে চলে আসেন ১০ বছর বয়সে। এরপর থেকেই অস্ট্রেলিয়াই তার ধ্যানজ্ঞান।

শূন্য দিয়ে শুরু করা লাবুশেনকে নিয়ে এক বছর আগেও ভাবা সম্ভব ছিল না এমন ধারাবাহিকের অবতার হবেন ব্যাটিংয়ে। একজন অবশ্য ভেবেছিলেন, ম্যাথু মেনার্ড, গ্লামারগনের কোচ। ইংলিশ কাউন্টির একটা ইনিংসে ১৮২ করে আউট হয়েছিলেন লাবুশেন। এরপর মেনার্ড কী বলেছিলেন তা গতকাল দিন শেষে এসসিজি’র সংবাদ সম্মেলনে জানান লাবুশেন। ‘তিনি বলেছিলেন, তুমি জীবনে মাত্র পাঁচটা ট্রিপল সেঞ্চুরি করতে পারো, তার একটা আজ মাঠে ফেলে এলে।’ এরপর নিজের ফর্ম সম্পর্কে বলতে গিয়ে অস্ট্রেলিয়ার নতুন সেনসেশন বলেছেন, ‘এটা আমার জন্য স্পেশাল সামার। এমন সতীর্থদের সঙ্গে খেলতে পারাটা সৌভাগ্যের। এমন দলে খেললে পারফরমেন্সটা আরও বিশেষ হয়ে যায়। কারণ তখন আপনি নিজের জন্য নয় খেলেন দলের জন্য। এটা বেশি তৃপ্তিদায়ক।’

গধৎহঁং খধনঁংপযধমহব. আফ্রিকানারে উচ্চারণটা লাবুশেংহনে, ইংরেজিতে লাবুশেন। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সুযোগ পাওয়ার পর নিজের নামের উচ্চারণটা এমনই দিয়েছিলেন তিনি। এখন ভালোই ইংলিশ বলতে পারেন লাবুশেন যেমন তার ব্যাট কথা বলে। মুগ্ধ শেন ওয়ার্নের মন্তব্য, ‘১২ মাসে এতটা পরিবর্তন হতে পারে! অবিশ্বাস্য।’ আর রিকি পন্টিং বলেছেন, ‘ভবিষ্যতে ক্যাপ্টেন হওয়ার মসলা আছে মারনাসের মধ্যে।’

সংক্ষিপ্ত স্কোর

অস্ট্রেলিয়া : ১ম ইনিংস ৪৫৪ (লাবুশেন ২১৫, স্মিথ ৬৩, ওয়ার্নার ৪৫, পেইন ৩৫। ওয়াগনার ৩/৬৬, গ্র্যান্ডহোম ৩/৭৮)। নিউজিল্যান্ড : ১ম ইনিংস ৬৩/০ (ব্লান্ডেল ৩৪*, ল্যাথাম ২৬*)।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত