আইসিটি প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আলীকে অপসারণ

আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০২০, ০৩:০০ এএম

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আলীকে শৃঙ্খলা ও পেশাগত আচরণবিধি ভঙ্গ এবং অসদাচরণের দায়ে অপসারণ করেছে সরকার। গতকাল রবিবার আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগ থেকে তাকে অপসারণের প্রজ্ঞাপন জারি হয়।

এর আগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার এক আসামির সঙ্গে গোপন বৈঠকের ঘটনায় গত ১১ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর পদ থেকে আইনজীবী তুরিন আফরোজকে অপসারণ করা হয়েছিল।

মোহাম্মদ আলী ২০১১ সালের ৫ অক্টোবর প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আলীকে শৃঙ্খলা ও পেশাগত আচরণ ভঙ্গ এবং গুরুতর অসদাচরণের দায়ে ৫ অক্টোবর ২০১১ তারিখে প্রদত্ত নিয়োগ বাতিলক্রমে প্রসিকিউটর পদ হতে অপসারণ করা হলো।’

এর আগে ২০১৬ সালে মোহাম্মদ আলীকে ট্রাইব্যুনালের মামলা পরিচালনার দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছিল। এরপর একই বছরের ফেব্রুয়ারিতে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

ওই সময় চিফ প্রসিকিউটরের পক্ষ থেকে পাঠানো অব্যাহতিপত্রে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলির কার্যালয়ের প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আলীকে আলবদর শামসুল হক গং, শামসুল হোসেন তরফদার ও অন্যান্য মামলার তদন্তসংশ্লিষ্টতা থেকে প্রত্যাহার করা হলো। পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পরিচালনাধীন কোনো মামলা পরিচালনার কাজে অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হলো।’

প্রসিকিউশন-সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ২০১৬ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি মোহাম্মদ আলীকে প্রসিকিউশনের সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ওই সময় ময়মনসিংহ-৭ আসনের সাংসদ ও জাতীয় পার্টির নেতা এম এ হান্নানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামিন দিতে ট্রাইব্যুনালের এক বিচারককে ঘুষের প্রস্তাব দিয়েছিলেন মোহাম্মদ আলী। এরপর তাকে সব মামলা থেকে প্রত্যাহার করে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা পরিচালনা করারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অবশেষে তাকে অপসারণ করা হলো।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত