শাবিপ্রবির তৃতীয় সমাবর্তন বুধবার, উৎসবমুখর ক্যাম্পাস

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২০, ১০:৪৩ পিএম

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনকে ঘিরে উৎসব-আনন্দে মুখরিত পুরো ক্যাম্পাস। বিশ্ববিদ্যালয়ের  মুক্তমঞ্চ, গোলচত্বর, চেতনা একাত্তর, চলছে সমাবর্তন গাউন ও ক্যাপ পরিহিত শাবিপ্রবি স্নাতকদের হইচই ও ফটোসেশন। রাত পোহালেই বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত হবে ৩য় সমাবর্তন।

সমাবর্তন অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করবেন রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মো. আবদুল হামিদ । এ ছাড়া সমাবর্তন বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কথাসাহিত্যিক ও অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম।

ক্যাম্পাসে ঘুরে দেখা যায় সমাবর্তনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা নানা রঙের পোশাক পরে  ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে গল্পগুজব, খাওয়া-দাওয়া ও ফটোসেশনে মেতে উঠেছেন। তরুণ-তরুণীদের কারও কারও সঙ্গে তাদের বাবা-মা, ভাই-বোনদেরও ফটোসেশনে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়। নানা রঙের আলোয় সেজেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক, প্রশাসনিক ভবন, বিভিন্ন চত্বর এবং স্থাপনাগুলো।

এবারের সমাবর্তনে মোট ৬ হাজার ৭৫০ শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন করেছেন। এদের মধ্যে স্নাতক ৪ হাজার ৬১৭ জন, স্নাতকোত্তর ১ হাজার ১২৭ জন, পিএইচডি ২ জন, এমবিবিএস ৮৭৮ জন, এমএস ও এমডি ডিগ্রিধারী ৬ জন এবং নার্সিংয়ের ১২০ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন।

২০০১-০২ শিক্ষাবর্ষ থেকে ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষে স্নাতকে সর্বোচ্চ ফলাফলধারী ১২ শিক্ষার্থী ও স্নাতকোত্তরে ৮ শিক্ষার্থীকে রাষ্ট্রপতি স্বর্ণপদক প্রদান করা হবে। অন্যদিকে অনুষদে প্রথম হওয়া মোট ৮৯ জন শিক্ষার্থীকে ‘ভাইস চ্যান্সেলর’ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হবে।

এছাড়াও সমাবর্তনকে ঘিরে ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে আরও ৫০টি অতিরিক্ত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে ক্যাম্পাসে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রসঙ্গে প্রক্টর অধ্যাপক জহীর উদ্দীন আহমদ বলেন, রাষ্ট্রপতি দেশের ভিআইপি ব্যক্তি। তার নিরাপত্তার বিষয়টি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থাগুলো তাদের মতো করে দেখভাল করছে। তারা আমাদের যেভাবে নির্দেশনা দিচ্ছে, সেভাবে পালন করছি।

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, সমাবর্তনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। রাষ্ট্রপতিকে বরণ করতে আমরা প্রস্তুত। শিক্ষার্থীরা উৎসবমুখর পরিবেশে যেন সুন্দর একটি সমাবর্তন উপহার পাই- এমনটা প্রত্যাশা করি। এ ছাড়া ক্যাম্পাসসহ সিলেট নগরীকে নিরাপত্তার চাদরে  ডেকে দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালে শিক্ষাকার্যক্রম শুরু হওয়ার পর দীর্ঘ ২৮ বছরে মাত্র দুটি সমাবর্তন পেয়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ১৯৯৮ সালের ২৯ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন এবং এর ৯ বছর পর ২০০৭ সালের ৬ ডিসেম্বর দ্বিতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত