দীর্ঘ এক যুগ পর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে সমাবর্তনে গ্র্যাজুয়েটদের জন্য কোনো খাবারের আয়োজন রাখেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। যার ফলে পুরো দিন না খেয়েই সমাবর্তন করতে হয়েছে গ্র্যাজুয়েটদের।
এ বিষয়ে অনেক গ্র্যাজুয়েটকে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০০১-০২ সেশনের শিক্ষার্থী এ.বি সিদ্দিকী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ধরনের আচরণ খুবই হতাশাজনক। এত বড় একটা অনুষ্ঠানের আয়োজন করল, অথচ কোনো ধরনের খাবারের ব্যবস্থা করেনি। কিন্তু ২০০৭ সালের সমাবর্তনে খাবারের আয়োজন করা হয়েছিল। যা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাবেক শিক্ষার্থী ও গ্র্যাজুয়েট হিসেবে আমাদের জন্য লজ্জাজনক।
একই বিভাগের একই সেশনের শিক্ষার্থী কার্তিক চন্দ্র ঘোষ বলেন, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনের রেজিস্ট্রেশন ফির চেয়ে এখানে অনেক বেশি ফি নেয়া হয়েছে। তারপরও কোনো ধরনের খাবার পরিবেশন করেনি। এছাড়া অন্যান্য উপহার সামগ্রীও খুবই নিম্নমানের।
ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের ২০০৭-০৮ সেশনের শিক্ষার্থী কাজী রাকিন বলেন, দীর্ঘদিন পরে সমাবর্তন হওয়ায় আমি আনন্দিত। কিন্তু সমাবর্তনটি আরও পূর্ণতা পেত যদি শিক্ষার্থীদের খাবার দেওয়া হতো এবং গিফটগুলো আরও উন্নত হতো। খাবার না দেওয়ায় বিষয়টা দৃষ্টিকটু মনে হয়েছে।
সমাবর্তন উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় এবং আশপাশের বিভিন্ন খাবারের দোকান বন্ধ রাখা হয়। যে কারণে অনেকে খুঁজেও কোনো খাবার পাননি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার মো. ইশফাকুল হোসেন বলেন, এত বিশাল পরিমান গ্যাজুয়েটদের হাতে নিরাপদ খাবারা তুলে দেওয়া আমাদের পক্ষে সহজ ছিলো না।
১৯৯১ সালে শিক্ষাকার্যক্রম শুরু হওয়ার পর দীর্ঘ ২৮ বছরে মাত্র দুটি সমাবর্তন পেয়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ১৯৯৮ সালের ২৯ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন এবং এর ৯ বছর পর ২০০৭ সালের ৬ ডিসেম্বর দ্বিতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়।
