সাতছড়ি উদ্যানে কলেজ ছাত্রী ধর্ষণের শিকার

আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০২০, ০২:০৮ এএম

হবিগঞ্জের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে স্কুলছাত্রীর পর এবার ধর্ষণের শিকার হয়েছে এক কলেজছাত্রী (১৯)। গত মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনার পর গতকাল বুধবার হবিগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছেন ওই ছাত্রী। সে বৃন্দাবন সরকারি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। এর আগে গত ১১ ডিসেম্বর উদ্যানে বেড়াতে এসে স্কুলছাত্রী গণধর্ষণের শিকার হয়েছিল।

মামলায় বিবরণে বলা হয়,  সদর উপজেলার বাতাসর গ্রামের আসামি শামীম আহমেদ মামুনের সঙ্গে ওই ছাত্রীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত মঙ্গলবার দুপুরে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে ঘুরতে যায় তারা। ভয় দেখিয়ে কয়েকজন মিলে ধর্ষণ করে। অন্য আসামিরা 

হলেন, আসামি ফজলুর রহমান (২৪), আলী হোসেন (২৫), জুনেদ লতিফ (২৭)।

দুই বোনকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা : দুই বোনকে ধর্ষণ ও হত্যার চেষ্টা এবং ফেইসবুকে আপত্তিকর ছবি পোস্ট করার অভিযোগে আলমগীর খাঁ (২৫) নামে এক ভুয়া সেনাসদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১১। মঙ্গলবার বিকেলে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-১১ এর একটি আভিযানিক দল নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন সাইনবোর্ড এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করে। গতকাল বুধবার বিকেলে র‌্যাব-১১ মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলেপ উদ্দিন পিপিএম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান। আলমগীর খাঁ বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া থানার কাটাকুশিয়া এলাকায়।

র‌্যাব-১১ মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলেপ উদ্দিন পিপিএম জানান, গ্রেপ্তারকৃত আলমগীর ২০১২ সালে ঢাকা সেনানিবাসস্থ কচুক্ষেত আর্মিস্টোরে চাকরি নেয়। সেখানে চাকরির সময়ে সে সেনাবাহিনীর ভুয়া আইডিকার্ড ও টাউজার সংগ্রহ করে। পরবর্তীকালে সে বিভিন্ন সময়ে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র‌্যাবের পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করত। এরই ধারাবাহিকতায় সে সেনাবাহিনীর সদস্য হিসেবে মিথ্যা পরিচয় দিয়ে ফেইসবুক আইডি খুলে দুই বোনের বাড়ি নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার চালাকচর এলাকায় কৌশলে আশ্রয় নেয়। দুই বোনই স্থানীয় একটি হাইস্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী। তাদের বাড়িতে অবস্থানকালে বিভিন্ন আপত্তিকর ছবি তার মোবাইলে ধারণ করে। গত ২৫ ডিসেম্বর রাত ১২টায় কৌশলে তাদের শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেয় এবং ধর্ষণের চেষ্টা করে। একই সঙ্গে এই বিষয়ে কাউকে কিছু না বলার জন্য ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে তাদের বাড়ি থেকে চলে যায়। পরবর্তী সময়ে আসামি আলমগীর তার কথামতো ঘুরতে না গেলে আপত্তিকর ছবি ফেইসবুকে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। আলমগীর গত ৩০ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখে দুই বোনকে বিভিন্ন কৌশলে ফুসলিয়ে ও অভিনব কায়দায় অপহরণ করে ঢাকা হতে বরিশালগামী কীর্তনখোলা লঞ্চের কেবিনে তুলে বরিশালের উদ্দেশে রওনা দেয়। রাত আনুমানিক ১১ ঘটিকার দিকে আলমগীর লঞ্চের কেবিনে দুই বোনকে ধর্ষণের চেষ্টা এবং ব্যর্থ হয়ে মারধর ও হত্যার চেষ্টা করে। পরদিন ভোরে দুই বোনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা ছিনতাই করে পালিয়ে যায়। পরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় দুই বোনকে তাদের নিজ বাড়িতে ফেরত পাঠানো হয়। ওই ঘটনায় পরিবারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে র‌্যাব-১১ গোয়েন্দা নজরদারি ও গোপন অনুসন্ধানের মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা পেয়ে বিশেষ আভিযান চালিয়ে গত ৭ জানুয়ারি বিকেলে নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন সাইনবোর্ড এলাকায় থেকে মো. আলমগীরকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে। তার বিরুদ্ধে আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

সোনারগাঁয়ে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ : সোনারগাঁ উপজেলার বশিরগাঁও এলাকায় গত মঙ্গলবার তৃতীয়  শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর থেকে ধর্ষক সিয়াম মিয়া পলাতক।

জানা যায়, উপজেলার বশিরগাঁও এলাকায় তৃতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে মঙ্গলবার বিকেলে সিয়াম নামের এক বখাটে পরিত্যক্ত জায়গায় নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে বিষয়টি সে বাবা-মাকে খুলে বললে তারা গ্রাম্য সালিশকারী নুরুল ইসলাম ও খবির উদ্দিনের কাছে বিচার দাবি করেন। খবরউদ্দিন ও নূরুল ইসলাম ধর্ষকের শাস্তি হিসেবে ওই মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার সময় যাবতীয় খরচ বহন করার প্রস্তাব দেন। বিষয়টি মেনে না নিয়ে সোনারগাঁ থানায় যেতে চাইলে তাদের বাধা প্রদান করা হয় বলে অভিযোগ করেন ওই ছাত্রীর মা। 

নুরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় বিচার চেয়ে ছাত্রী অভিভাবক আমার কাছে এসেছিল। আমি তাদের সঠিক বিচার পাইয়ে দেওয়ার কথা বলেছি। তবে থানায় যেতে বাধা দেওয়ার বিষয়টি সত্য নয়।

সোনারগা থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, ধর্ষণের ঘটনাটি আমার জানা নেই। কেউ অভিযোগ নিয়ে আসেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিশু ধর্ষণের ঘটনায় একজন গ্রেপ্তার : সাভারের আশুলিয়ায় ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে জুস খাইয়ে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত ধর্ষক মো. কুদরত হোসেনকে (৩২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে উপজেলার গকুলনগর এলাকার মো. রাসেলের ভাড়া বাড়িতে অভিযান চালিতে তাকে গ্রেপ্তার করেছে আশুলিয়া থানা পুলিশ। গতকাল বুধবার দুপুরে ধর্ষণ মামলায় গ্রপ্তার দেখিয়ে কুদরতকে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়। সেখানে ধর্ষণের বিষয়টি স্বীকার করে ধর্ষক কুদরত হোসেন ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেছেন বলে জানিয়েছেন মামলার তন্তত কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. রকিবুল হাসান।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত