মুজিবনগরের সরস্বতী খাল পুনঃখনন করা হবে। তবে স্থানীয়দের দাবিÑ জমি মালিকদের ক্ষতিপূরণ দিয়ে খালটি পুনঃখনন করা হোক। পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্র্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে খালটি পুনঃখনন করা হবে। খননকালে জমি মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন কি-না সেটা জরিপ করে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ সরস্বতী খালটি মুজিবনগর উপজেলার বাগোয়ান গ্রাম থেকে কেদারগঞ্জ বাজারের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। খালের নাম ইংরেজ আমলে রাখা। কালের বিবর্তনে অনেক আগেই খালটি ভরাট হয়ে এখন কৃষি জমিতে পরিণত হয়েছে। এই সুযোগে অনেকেই ভূমি বন্দোবস্ত নিয়ে সিএস এবং এসএ রেকর্ডে নিজেদের নাম লিপিবদ্ধ করে খাজনা দিয়ে জমি ভোগদখল করে আসছিলেন।
পরে ১৯৭৫ সালে পটপরিবর্তন হলে জিয়া সরকার প্রশাসনিক ক্ষমতাবলে জমি মালিকদের অবগত এবং ক্ষতিপূরণ ছাড়াই খালটি প্রথম পুনঃখনন করে। এই সময় সব সুবিধাবঞ্চিত করা হয় জমি মালিকদের। পুনঃখননের পর রেকর্ডিও জমির মালিকরা খাজনা পরিশোধ করে বর্ষা মৌসুমে মাছ চাষ এবং শুষ্ক মৌসুমে ধান চাষ করে লাভবান হয়ে আসছিলেন। সর্বশেষ আরএস রেকর্ডে অধিকাংশ জমি আগের ভূমি মালিকদের নামে এবং কিছু জমি সরকারের খাস খতিয়ানে লিপিবদ্ধ হয়। এর বিরুদ্ধে ওইসব জমির মালিক রেকর্ড সংশোধনের আবেদন জানিয়ে মেহেরপুর দেওয়ানি আদালতে মামলা করেন। যার কিছু মামলা এখনো বিচারাধীন, আর কিছু মামলার রায় জমি মালিকদের পক্ষে হয়েছে।
ভবেরপাড়ার আবুল হোসেন, ছমির উদ্দিন মোল্লা ও শহিদুল মোল্লা বলেনÑ ‘সোনাপুর মৌজায় সেই জমিতে পুকুর খনন করে ব্যাংকঋণ নিয়ে মাছ চাষ করে আসছি দীর্ঘদিন ধরে। ক্ষতিপূরণ ছাড়া খালটি পুনঃখনন করা হলে আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হব। প্রয়োজনীয় প্রমাণাদিসহ গণস্বাক্ষর করা একটি দাবিপত্র এলাকার এমপি জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীসহ জেলা প্রশাসক এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দিয়েছি।’
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা) নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘খালটি পুনঃখনন হলে ওই অঞ্চলের বিস্তীর্ণ জমির সেচ সুবিধা এবং মৎস্য চাষ পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটবে। যার উপকার ভোগ করবে ওই অঞ্চলের সাধারণ মানুষ।’
এ ব্যাপারে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন দেশ রূপান্তরকে জানান, বিষয়টি অনুসন্ধান করে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশ দিয়েছেন।
