বাংলাদেশ-ফিলিস্তিন ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ

আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০২০, ০২:২৬ এএম

বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের শুরুতেই বড় পরীক্ষার মুখে স্বাগতিক বাংলাদেশ। আজ তারা ‘এ’ গ্রুপের মিশন শুরু করবে গত আসরের চ্যাম্পিয়ন ফিলিস্তিনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। কেবল গ্রুপ নয়, ছয়জাতি এই আসরেরই ফেভারিট মানা হচ্ছে বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে ১০৬তম স্থানে থাকা

ফিলিস্তিনকে। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটি ফুটবলে যে বাংলাদেশের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে তা ফিফা র‌্যাংকিংয়েই স্পষ্ট। ৮১ ধাপ এগিয়ে থাকা প্রবল প্রতিপক্ষকে আজ অবশ্য রুখে দেওয়ার প্রত্যয় নিয়ে মাঠে নামবেন জামাল ভুঁইয়ারা। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে বিকেল পাঁচটায়।

ফুটবল গোলের খেলা। যে দল বেশি গোল করবে, বিজয় মিছিল হবে তাদের নিয়েই। এখানে ভালো ফুটবল, শৈল্পিক ফুটবল কিংবা লড়াকু ফুটবল একেবারেই মূল্যহীন। খেলাটা যদি কোনো টুর্নামেন্টের হয়, তবে তো কথাই নেই। এখানে জয়-পরাজয় মুখ্য ভূমিকা পালন করে। জয়-পরাজয়ের ফলটা নিজেদের করে নিতে তাই চাই গোল। আর এই গোল নিয়েই বাংলাদেশ শিবিরে যত গোলমাল। জেমি ডে’র যুগে বাংলাদেশের ফুটবলাররা নান্দনিক ফুটবল খেলছে ঠিক, কিন্তু গোল নষ্টের রোগটা থেকে মুক্তি পায়নি। গোলের দায়িত্বে যারা, সেই ফরোয়ার্ডদের কোনো টনিকেই চেনানো যাচ্ছে না গোলমুখ। প্রতিপক্ষ ডাকাবুকো ফিলিস্তিন হলে তো কাজটা আরও কঠিন। তো সেই কঠিন কাজটা আজ করতে না পারলে সেমিফাইনালের প্রথম লক্ষ্যটাই কঠিন হয়ে পড়বে স্বাগতিকদের জন্য।

ফিলিস্তিনের সঙ্গে ম্যাচগুলো খুব বেশি অনুপ্রেরণা জোগাবে না বাংলাদেশকে। ২০০৬ সালে এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপে ১-১ ড্রয়ের পর খেলা তিন ম্যাচের তিনটিই হেরে যাওয়া দলটির নাম বাংলাদেশ। সর্বশেষটা বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপেরই গত আসরে। কক্সবাজারে সেমিফাইনালে বাংলাদেশকে হার মানতে হয় ২-০ ব্যবধানে। এবার তাদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে গ্রুপপর্বে। আজ হেরে গেলে ১৯ জানুয়ারি শ্রীলঙ্কাকে হারানোর বিকল্প থাকবে না বাংলাদেশের।

ক’দিন আগেই নেপালের মাটিতে এসএ গেমসে দলের কাছ থেকে সেরাটা পাননি বাংলাদেশ কোচ জেমি ডে। অলিম্পিক দলের মোড়কে জাতীয় দলটি রীতিমতো খাবি খেয়েছে পড়শি দেশগুলোর বিপক্ষে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা, দীর্ঘ খেলাজটের ক্লান্তি সব মিলিয়ে দমেই যেন কুলিয়ে উঠতে পারেননি জামাল ভুঁইয়ারা। সেই দলের ফুটবলাররা দেশে এসে খেলেছেন ফেডারেশন কাপ। সব মিলিয়ে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে শিষ্যদের চাঙ্গা করে প্রস্তুত করাটা বড় চ্যালেঞ্জ জেমি’র জন্য। কোচ অবশ্য বিশ্বাস রাখছেন দলের ওপর, ‘যদিও ফিলিস্তিন তাদের পূর্ণ শক্তির দল পাঠায়নি, তারপরও তারা এই আসরের ফেভারিট। তাদের টেকনিক্যালি বেশ কিছু ভালো ফুটবলার আছে। যারা অলিম্পিক দলের হয়ে খেলেছে। তবে আমি মনে করি আমাদের ভালো সুযোগ আছে একটা ইতিবাচক ফল দিয়ে বছর শুরু করার। আমরা যদি নিজেদের সেরাটা দিতে পারি এবং গ্যালারি থেকে পূর্ণ সহযোগিতা পাই, তবে ম্যাচটা আমরাও জিততে পারি।’

জেমির সাম্প্রতিক দলগুলোতে গোলের মূল দায়িত্বে ছিলেন নাবিব নেওয়াজ জীবন। এছাড়া রক্ষণভাগে নিয়মিত মুখ ছিলেন টুটুল হোসেন বাদশা। অসুস্থতা দুজনকেই ছিটকে দিয়েছে এই আসর থেকে। জেমি অবশ্য এ নিয়ে চিন্তিত নন, ‘অসুস্থতার কারণে তারা নেই। আমি মনে করি এটা অন্যদের একটা ভালো সুযোগ করে দিয়েছে মূল একাদশে খেলার। আমাদের লক্ষ্য গ্রুপের দু’টি ম্যাচ জিতেই সেমিফাইনালে যাওয়া।’ গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বারবারই দর্শকদের সমর্থন চাইলেন বাংলাদেশ কোচ, ‘এখানে কাজ করতে আসার পর থেকে গ্যালারিতে অনেক সমর্থন দেখেছি। আমি চাই এই আসরেও তারা আমাদের পাশে দাঁড়াক। এটা আমাদের ভালো খেলতে আরও বেশি উজ্জীবিত করবে। এটা কঠিন একটা টুর্নামেন্ট। কিন্তু ছেলেদের মধ্যে ভালো খেলার বিশ্বাস আছে। ভারত, কাতারের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে যেভাবে খেলেছি, সেভাবে খেলতে পারলে আমাদের ভালো সুযোগ আছে।’ দলের অধিনায়ক জামাল ভুঁইয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী আয়োজন স্মরণীয় করে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মাঠে সৃষ্টিশীল ফুটবলের মাধ্যমে, ‘আমাদের খুব ভালো প্রস্তুতি হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে আমরা আমাদের সেরাটা দিতে চাই। দেশকে এমন কিছু দিতে চাই, যা ইতিহাস হয়ে থাকবে।’ এসএ গেমসে দলের পারফরমেন্সের কথা উল্লেখ করে জামাল বলেন, ‘যারা এসএ গেমসে খেলেছে, তারা সবাই বুঝতে পেরেছে যে তারা ভালো খেলেনি। এই আসরটির মাধ্যমে আমরা প্রমাণ করতে চাই এসএ গেমসটা ছিল একটা ভুল এবং আমরা এরচেয়ে অনেক ভালো দল।’

ফিলিস্তিন এখানে এসেছে দলের মূল খেলোয়াড়দের অনেককেই বিশ্রাম দিয়ে। মূল দলের ছয়জনের সঙ্গে এই দলে রয়েছেন সাতজন অলিম্পিক দলের ফুটবলার। বাকি ১০ জন একেবারেই নতুন মুখ। তারপর দলের কোচ মারকাম দাবুর প্রত্যয়ী শিরোপা ধরে রাখতে, ‘আগের বার এখানে শিরোপা জিতেছিলাম। এবারও এসেছি শিরোপা জিততে। গতবার আমরা বাংলাদেশের বিপক্ষে সেমিফাইনালে জিতেছিলাম। এবার গ্রুপপর্বে খেলব। স্বাগতিক দলের বেশ ক’জন ভালো ফুটবলার আছে। তারা নিশ্চয় নিজেদের মাঠে বড় চ্যালেঞ্জ হয়েই দেখা দেবে। তবে আমাদের ছেলেরা সেই চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত।’

পরিশেষে ওই গোলজটের বিষয়টা চলে আসছে। জীবনের অনুপস্থিতিতে গোলের বাড়তি দায়িত্ব এখন তিন তরুণ সাদউদ্দিন, মাহবুবুর রহমান সুফিল এবং মতিন মিয়ার ওপর। তাদের পায়ে গোলজটটা কেটে গেলেই তো বছরটা শুরু হবে মাথা উঁচু করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত