কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় গতকাল বুধবার ভোররাতে র্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে দুই রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে। কাছাকাছি সময়ে ফরিদপুরে বোয়ালমারী উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছে একজন, যে ধর্ষণসহ ১৩ মামলার আসামি বলে জানায় পুলিশ। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :
কক্সবাজার : র্যাব জানিয়েছে, ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের টেকনাফ উপজেলার শামলাপুর এলাকায় বন্দুকযুদ্ধ হয়। এতে নিহত দুজন হলো উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের হোসাইন শরীফের ছেলে আবুল হাসিম (৩০) ও শামসুল আলমের ছেলে মোহাম্মদ আয়ুব (৪০)। নিহতরা চিহ্নিত মাদক কারবারি। কক্সবাজার র্যাব-১৫-এর সিপিসি-২ টেকনাফের হোয়াইক্যং ক্যাম্পের ইনচার্জ (এএসপি) শাহ আলম জানান, শামলাপুর এলাকায় একটি ইয়াবা চালান পাচার হওয়ার খবর পেয়ে র্যাবের একটি দল অভিযান চালায়। ইয়াবা কারবারিরা র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। আত্মরক্ষার্থে র্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। বেশ কিছুক্ষণ পর ইয়াবা কারবারিরা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে আবুল হাসিম ও আয়ুবকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এবং ১০ হাজার ইয়াবা, দুটি দেশীয় অস্ত্র, পাঁচ রাউন্ড কার্তুজ ও ছয়টি কার্তুজের খোসা পাওয়া যায়। গুলিবিদ্ধ দুজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ফরিদপুর : নিহত এনায়েত শেখের (৩৫) বাড়ি বোয়ালমারী উপজেলার চতুল ইউনিয়নের বাইখির বনচাকী গ্রামে। পুলিশ বলছে, উপজেলার শেখর ইউনিয়নের বাড়ানখোলা এলাকায় ভোররাতের এ ঘটনায় ছয় পুলিশ সদস্য আহত হন। এনায়েতের বিরুদ্ধে ডাকাতি-ধর্ষণ ও মাদকসহ ১৩টি মামলা আছে।
বোয়ালমারী থানার ওসি আমিনুল ইসলাম জানান, এনায়েত শেখকে গত মঙ্গলবার রাতে আটক করা হয়। তাকে নিয়ে বুধবার ভোররাত ৪টার দিকে বাড়ানখোলায় অস্ত্র উদ্ধারে অভিযানে গেলে ওতপেতে থাকা ডাকাত দলের সদস্যরা পুলিশের ওপর গুলি চালায়। এ সময় পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে এনায়েত নিহত হয়। এ ঘটনায় তিনিসহ ছয় পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। ওসি বলেন, তাদের ধারণা, ডাকাত দলের সদস্যদের গুলিতে এনায়েত মারা যায়। ময়নাতদন্তের জন্য তার মরদেহ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি ওয়ান শুটারগান, দুই রাউন্ড গুলি, একটি চাপাতি ও একটি চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করা হয়।
