মতবিনিময়ে ইসি রফিকুল

যত গালিগালাজ সব পাঁচ নির্বাচন কমিশনারের ওপর

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০২০, ০৩:১৫ এএম

নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেছেন, নির্বাচন এমন একটা জিনিস যে পত্রপত্রিকা দেখলে মনে হবে, সব শুধু পাঁচজন নির্বাচন কমিশনার করেন। তাই মানুষের পক্ষ থেকে যত গালিগালাজ, সমালোচনা আছে, সবকিছু এই পাঁচ ব্যক্তির ওপর। গতকাল রবিবার ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বে চার নির্বাচন কমিশনার হলেন মাহবুব তালুকদার, মো. রফিকুল ইসলাম, বেগম কবিতা খানম ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (ইটিআই) মতবিনিময় অনুষ্ঠানে ইসি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণা করার পর থেকে আসল দায়িত্বটা পালন করেন আপনারা (নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী)। আচরণবিধি বাস্তবায়নের কাজটাও আপনারাই করেন। আপনাদের ব্যর্থতাই আমাদের ব্যর্থতা। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাহেবরা আচরণ বিধিমালাকে বাস্তবায়ন করার জন্য আইনের দিকটা বাস্তবায়ন করেন। আপনাদের ব্যর্থতা সম্পূর্ণভাবে আমাদের ওপর দিয়ে যায়। কমিশনকেই অভিযুক্ত করা হয়। আপনাদের সাহায্য-সহযোগিতা ছাড়া আইনানুগ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করা সম্ভব না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আচরণ বিধিমালা প্রয়োগ করার জন্য শাস্তি, জরিমানা করার চাইতে প্রিভেন্টিভ মেজারটা (প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা) নেন। অর্থাৎ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ কর্মকর্তা যদি একটু একসঙ্গে মুভ (চলেন) করেন, তাইলেই আচরণবিধি ভঙ্গের বিষয়টি থাকবে না। অবস্থান দৃশ্যমান করতে পারলে ৫০ শতাংশ আচরণবিধি প্রতিপালনের কাজ হয়ে যাবে। তারপরও কিছু লোক আচরণবিধি ভঙ্গ করবে। আর তাদেরকে নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা দিয়েই শাস্তির ব্যবস্থা করবেন।’

ইসি রফিকুল ইসলাম আরও বলেন, ‘আমরা যখন আইন করি, তখন একটা আদর্শ পরিস্থিতিকে মাথায় রেখে আইনের খসড়া তৈরি করি। কিন্তু বাংলাদেশের সব জায়গায় সবসময় আইনের পরিবেশ থাকবে, এটা আপনারা বিশ্বাস করেন? আমি বিশ্বাস করি, আইনের সিচুয়েশন (পরিবেশ) সব জায়গায় সমান পাওয়া যাবে না। এসব ক্ষেত্রে জুডিশিয়াল মাইন্ড (বিচারিক মানসিকতা) প্রয়োগ করুন।’

উত্তরে আচরণবিধি লঙ্ঘনের ১৯ অভিযোগই নিষ্পত্তি : ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের ১৯টি অভিযোগ উঠেছে জানিয়ে উত্তর সিটির রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবুল কাসেম বলেছেন, সব অভিযোগই নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন পত্রিকায় বলা হচ্ছে, এখন পর্যন্ত নির্বাচনী পরিবেশ ভালো আছে। এটা আমাদের জন্য বড় অর্জন। যে ক’দিন বাকি আছে, এই ক’দিন যদি আমরা নির্বাচনী আচরণবিধি মানাতে পারি, তাহলে আমরা নির্বাচন ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশ ঠিক করতে পারব।’ আচরণবিধি প্রতিপালন নির্বাচনের আগ পর্যন্ত ঠিক রাখতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন এই রিটার্নিং কর্মকর্তা। উত্তরের রিটার্নিং কর্মকর্তার সভাপতিত্বে সভায় সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ উত্তর সিটির সব থানার ওসি উপস্থিত ছিলেন।

 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত