বিজ্ঞাপনে ‘জনপ্রতিনিধি’ পরিচয় দিয়ে বিপাকে মিমি

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২০, ০৯:১৮ পিএম

বেসরকারি সংস্থার বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপনে নিজের ‘জনপ্রতিনিধি’ পরিচয় ব্যবহার করে বিতর্কে জড়িয়েছেন ভারতীয় অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী। যাদবপুরের সাংসদ মিমি বলছেন, সরকারি নিয়ম না জেনে তিনি ওই বিজ্ঞাপনটি করেছেন।

যে ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সেই ব্র্যান্ডের নারকেল তেলের বিজ্ঞাপন মিমি চক্রবর্তী অনেক দিন ধরেই করেন। অভিনেত্রী তথা সেলিব্রিটি হিসেবে ওই ব্র্যান্ডের হয়ে প্রচার করতেন তিনি। কিন্তু ওই সংস্থা সম্প্রতি যে নতুন বিজ্ঞাপন বাজারে এনেছে, তাতে মিমি চক্রবর্তী নিজের ‘জনপ্রতিনিধি’ পরিচয় তুলে ধরেছেন।

নতুন বিজ্ঞাপনটিতে মিমি ছাড়াও রয়েছেন বিদ্যা বালান। বিজ্ঞাপনে একটি আয়নার সামনে বসে চুল বাঁধছেন মিমি। পেছন থেকে হেঁটে আসছেন বিদ্যা। মিমিকে তিনি প্রশ্ন করছেন, ‘এখনও চুল নিয়ে পড়ে (পোড়ে) ?’

জবাবে মিমি বলছেন, ‘আমি এখন জনপ্রতিনিধি। তাই তার যোগ্য হেয়ারস্টাইল।’

কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী অরুণাভ ঘোষ বলছেন, ‘কোনও সাংসদ এটা করতে পারেন না। জনপ্রতিনিধি পরিচয়কে কাজে লাগিয়ে কেউ এইভাবে পয়সা রোজগার করতে পারেন না।’

তবে ‘অফিস অব প্রফিট’ আইনের আওতায় এই বিষয়টা পড়ছে না বলে তার মত। সাংসদ বা বিধায়ক হওয়ার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকার বা রাজ্য সরকারের অধীনস্থ কোনও পদ নিয়ে কেউ যদি আর্থিকভাবে লাভবান হন, তা হলে সেই পদ ‘অফিস অব প্রফিট’-এর আওতায় পড়বে-ব্যাখ্যা অরুণাভর। মিমি চক্রবর্তীর ক্ষেত্রে তেমন ঘটেনি।

কিন্তু কলকাতা হাইকোর্টেরই আরেক আইনজীবী জয়ন্তনারায়ণ চট্টোপাধ্যায় বলছেন, ‘ভারতের জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫১-র ৮(এ) ধারা অনুযায়ী দুর্নীতিগ্রস্ত কার্যকলাপের জন্য সাংসদ বা বিধায়কের পদ খারিজ করা যায়।’

তার ব্যাখ্যা, ‘একটি বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে একটি বেসরকারি ব্র্যান্ডের হয়ে প্রচার করার জন্য নিজের জনপ্রতিনিধি পরিচয়কে ব্যবহার করে ওই সাংসদ অত্যন্ত অনৈতিক কাজ করেছেন। এই অনৈতিক কাজকে দুর্নীতি হিসেবে ধরা যাবে কি না, তা নিয়ে তর্ক উঠতে পারে। তর্ক যদি ওঠে, তা হলে সংবিধানের সংশ্লিষ্ট ধারাটির বিশদ ব্যাখ্যা করবে আদালত। তার পরেই বোঝা যাবে, ওই সাংসদের পদ খারিজ হবে কি না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত