অপরিকল্পিত শহর ঢাকার অনেক চ্যালেঞ্জ আছে মন্তব্য করে সেসব চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতেই নৌকার প্রার্থী হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ কথা জানান তিনি।
আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আতিকুল বলেন, ‘আমরা বিদেশে দেখেছি কীভাবে পরিকল্পনার মাধ্যমে একটি শহর গড়ে তোলা হয়। ঢাকা শহর বাস্তবে তা নয়। এটি একটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। কাউকে না কাউকে সেই চ্যালেঞ্জ নিতে হবে। সেই চ্যালেঞ্জকে নিতেই আজ আমি নৌকার প্রার্থী হয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের সামনে চ্যালেঞ্জ কিন্তু একটি না, অনেকগুলো। যানজট, জলজট যেমন আছে, তেমনি আছে মশার উপদ্রব, বায়ুদূষণ। অনেক ধরনের চ্যালেঞ্জ আছে। তবে শুরু কিন্তু করতেই হবে আমাদের। শুরু যদি করতে পারি শেষ হবেই।’
৯ মাস মেয়র থাকার সময় নিজের নানা কর্মকা- ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আতিকুল বলেন, ‘এই ৯ মাসে একটি দিনও নষ্ট করিনি। নগর পিতা হিসেবে নয়, নগর সেবক হিসেবে কাজ করেছি। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, আমাদের সিটি করপোরেশনে কীটতত্ত্ব বিভাগ নামে কোনো বিভাগ নেই। যারা মশা নিয়ে কাজ করবে, মশার প্রজনন নিয়ে কাজ করবে। এমন বিভাগ ছাড়া মশক নিধন সম্ভব না। গত ৯ মাসে আমি এটা বের করতে পেরেছি এবং সেই ধরনের ইনটিগ্রেটেড ভেক্টর ম্যানেজমেন্ট আমরা চালু করেছি। মশককর্মীরা ওষুধ মেরে যাচ্ছে, কিন্তু তাদের মনিটরিং করার জন্য, কোয়ালিটি কন্ট্রোল করার জন্য কোনো সিস্টেম ছিল না। সেটাও আমরা চালু করতে যাচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘রাস্তা তৈরি হচ্ছে, সেটার কোয়ালিটি নিজেরাই যাচাই করছে, এটা কখনো হতে পারে না। কোয়ালিটি কন্ট্রোল করতে হয় তৃতীয় কোনোপক্ষকে দিয়ে। আমি সেটাও চালু করার চেষ্টা করেছি।’
রশিদ নামে করপোরেশনের দুর্নীতিবাজ এক কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করার উদাহরণ টেনে আতিকুল বলেন, রাজস্ব আদায়ে অটোমেশন পদ্ধতি চালুর কথা বললে ওই কর্মকর্তা বলেছিল এটা এই দেশে কখনই সম্ভব নয়। পরে আমি খোঁজ নিয়ে দেখলাম সে ফেইস টু ফেইস নাগরিকদের কাছ থেকে রাজস্ব নিয়ে অর্ধেক কোষাগারে দিয়েছে, বাকি অর্ধেক নিজের অ্যাকাউন্টে ঢুকিয়েছে। এর মাধ্যমে ঢাকা শহরে সে নয়টি বাড়ি করেছে। পরে তাকে চাকরিচ্যুত করতে গেলে অনেকে বলেছে সে সিন্ডিকেটের প্রধান, তাকে চাকরিচ্যুত করতে পারবেন না। তার চাকরিও খেয়েছি। কারণ প্রধানমন্ত্রী আমাকে বলেছেন, আতিক তুমি কালো চশমা নিবা, আর আমার ফোন নাম্বার নাও। যেকোনো দুর্নীতির বিরুদ্ধে তুমি সোচ্চার হও। সুতরাং রশিদ টাইপের লোকদের বের করতে হলে অবশ্যই আমাদের অটোমেশনে যেতে হবে। এটা বাস্তবায়নে আমরা উদ্যোগও নিয়েছি। তিনি বলেন, ‘আকাশে যত তারা, সিটি করপোরেশনে তত ধারা’ এ ধরনের একটা জুজুর ভয়ে মানুষ সিটি করপোরেশনে যায় না। সব কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে ট্যাক্স দিতে চায়। করপোরেশনের লোকদের সঙ্গে ফেইস টু ফেইস কন্ট্রাক্ট যত বেশি কমাতে পারব, তত দুর্নীতি কমবে, তত কাজের গতি বাড়বে, রাজস্বও আরও বেশি আদায় হবে এবং হয়রানিও বন্ধ হবে।
সিটি নির্বাচন উপলক্ষে ঢাকার দুই সিটির বিএনপি ও আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করছে জাতীয় প্রেস ক্লাব। গত সোমবার এসেছিলেন দক্ষিণের বিএনপির মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন। আজ আসবেন দক্ষিণের আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস। আগামীকাল আসার কথা রয়েছে উত্তরের বিএনপি মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের। এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে আতিকুল বলেন, আজ আমি এসেছি, কাল আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আসবে, এভাবে প্রেস ক্লাব প্রমাণ করেছে এটা সবার জন্য উন্মুক্ত জায়গা। আমরা যে সেøাগান দিই, আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব, সেই প্ল্যাটফর্ম কিন্তু প্রেস ক্লাব তৈরি করে গেছে। আমি মনে করি, সুন্দর পরিবেশে অংশগ্রহণমূলক একটি নির্বাচন হবে। নির্ভয়ে সবাই আসবে। আমি চাইব ১ ফেব্রুয়ারি যেন আমরা সবাই ভোট দিতে পারি।’ প্রতিদিনের মতো এদিনও তিনি বলেন, নৌকার কোনো ব্যাকগিয়ার নেই। নৌকার গিয়ার হচ্ছে একটি। সেটি হচ্ছে উন্নয়নের গিয়ার। নৌকা দিয়েছে স্বাধীনতা, নৌকা দেবে উন্নয়ন, নৌকা দেবে সুস্থ, সচল এবং আধুনিক ঢাকা।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ শ্যামল দত্তের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম, সাংবাদিক নেতা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার প্রধান সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, বিএফইউজের সাবেক মহাসচিব মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি শফিকুর রহমান, সাংবাদিক নেতা রফিকুল ইসলাম রতন, শাবান মাহমুদ, সোহেল হায়দার চৌধুরী প্রমুখ।
