প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে উত্তোলিত অর্থের যথাযথ ব্যবহার না করা, আইপিওর শর্ত ভঙ্গ ও কমিশনে মিথ্যা তথ্য দেওয়ায় পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আমান ফিড লিমিটেডের প্রত্যেক পরিচালককে (স্বতন্ত্র ও মনোনীত পরিচালক বাদে) ২৫ লাখ টাকা করে জরিমানা করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। গতকাল কমিশনের নিয়মিত সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে আমান ফিডের আইপিও অর্থের নিরীক্ষক হিসেবে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লিখিত সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের তথ্য না দেওয়ায় নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান অ্যাকনাবিন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্সের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিষয়টি ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্স অব বাংলাদেশের (আইসিএবি) কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে এসইসি।
এসইসি জানায়, আমান ফিড কর্তৃপক্ষ আইপিওতে উত্তোলিত অর্থ যথাযথ ব্যবহার করেনি। আমান ফিডের বিশেষ নিরীক্ষক ম্যাবস অ্যান্ড জে পার্টনারসের বিশেষ নিরীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০১৫ সালের ২৩ এপ্রিল আমান ফিড কমিশনের আইপিও সংক্রান্ত অনুমোদন পত্রের শর্তানুযায়ী পুঁজিবাজার থেকে উত্তোলিত অর্থের যথাযথ ব্যবহার করেনি। এতে উক্ত অনুমোদনপত্রের ৪, ৮ ও ৯ ধারার শর্ত লঙ্ঘন হয়েছে। এছাড়া কমিশনে এ সংক্রান্ত মিথ্য তথ্য দেওয়ায় সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯-এর সেকশন ১৮ লঙ্ঘন হয়েছে। উপরিউক্ত আইন লঙ্ঘনের কারণে আমান ফিডের প্রত্যেক পরিচালককে (স্বতন্ত্র ও মনোনীত পরিচালক ব্যতীত) ২৫ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
একইভাবে আমান ফিডের আইপিওর মাধ্যমে উত্তোলিত অর্থের নিরীক্ষক হিসেবে নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান অ্যাকনাবিন তাদের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লিখিত সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের তথ্য না দিয়ে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯-এর সেকশন ১৮ লঙ্ঘন করেছে। এ কারণে নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান অ্যাকনাবিনের পার্টনার মো. রুকুনুজ্জামানকে এখন থেকে আইপিও তহবিল ব্যবহার সংক্রান্ত বিষয়ে নিরীক্ষায় নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। এছাড়া আইপিওর মাধ্যমে উত্তোলিত অর্থের নিরীক্ষার ক্ষেত্রে যথাযথ পেশাগত আচরণ না করায় অ্যাকনাবিনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিষয়টি আইসিএবিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে এসইসি।
এদিকে আমান ফিড ছাড়াও গতকালের কমিশন সভায় তালিকাভুক্ত কোম্পানি রিজেন্ট টেক্সটাইলের প্রত্যেক পরিচালককে (স্বতন্ত্র ও মনোনীত পরিচালক বাদে) ২ লাখ টাকা করে মোট ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেছে এসইসি। হিসাব মান অনুযায়ী রিজেন্ট টেক্সটাইল ২০১৬ ও ২০১৭ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক বিবরণী প্রস্তুত না করা, আর্থিক বিবরণীতে মিথ্যা ও ভুল তথ্য দেওয়া এবং তথ্য চাওয়ার পরও কমিশনে দাখিল না করায় কোম্পানিটি বিভিন্ন সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন করেছে।
