চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে কিট সংকটে প্রায় চার মাস ডোপ টেস্টের (মাদক পরীক্ষা) সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ফলে চট্টগ্রাম ও আশপাশের জেলায় সরকারি চাকরিতে নিয়োগপ্রাপ্তদের ফেনী মেডিকেল কলেজে যেতে হচ্ছে। এতে ব্যয়ের সঙ্গে ভোগান্তি বাড়ছে। তবে হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ বলছে, ডোপ টেস্টের কিট কেনার দরপত্র আহ্বানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। দরপত্র হলে সংকট কেটে যাবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে সরকারি চাকরিতে যোগদানের আগে মাদকাসক্ত ব্যক্তি শনাক্তে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হয়। কিন্তু এ পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় কিট ও প্যাথলজিক্যাল উপকরণ শেষ হয়ে যাওয়ায় প্রায় চার মাস চমেক কর্র্তৃপক্ষ সেবাটি বন্ধ রেখেছে। এজন্য চট্টগ্রামে সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় উর্ত্তীণদের কর্মস্থলে যোগদানের আগে ডোপ টেস্টের জন্য ফেনী মেডিকেল কলেজে যেতে হচ্ছে। এজন্য অনেকে নির্দিষ্ট সময়ে যোগদান করতে পারছেন না। সেবা বন্ধের ঘোষণা না দেওয়ায় অনেকে চমেক এসে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, গত বছর সেপ্টেম্বরে ডোপ টেস্টের কিট শেষ হয়ে যায়। এর আগে বিভাগটি থেকে বিনামূল্যে পরীক্ষা করানো হতো। শুধু সরকারি চাকরিপ্রার্থীরা নন, বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠানেও এখন ডোপ টেস্টের সনদ লাগে। অনেক আসামিরও পরীক্ষা লাগে। এজন্য প্রত্যেক দিন অনেকে এসে ফিরে যাচ্ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্যাথলজি বিভাগের এক চিকিৎসক জানান, যতদিন কিট ছিল, তারা বিনামূল্যে পরীক্ষা করিয়েছেন। এখন গড়ে প্রতিদিন ৫০-৬০ জনকে ফেরত পাঠাতে হচ্ছে। কিট ফুরিয়ে যাওয়ার বিষয় হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সরকারি বিষয় হওয়ায় আগ বাড়িয়ে কেউ কিছু করতে পারছেন না বলেও জানান তিনি।
গত ডিসেম্বরে লক্ষ্মীপুরে কৃষি ব্যাংকে যোগদান করা চট্টগ্রামের বাসিন্দা রাজীব দে জানান, যোগদানের জন্য হাতে সময় আছে ভেবে তিনি একটু দেরি করেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে চমেকে গিয়ে পরীক্ষা হচ্ছে না জানতে পারেন। এরপর বাধ্য হয়ে ফেনী গিয়ে ডোপ টেস্ট করান। চমেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আখতারুল ইসলাম বলেন, ‘কিট শেষ হওয়ায় আমরা চার মাস হলো সেবাটি বন্ধ রেখেছি। আগে অনেকের বিনামূল্যেও পরীক্ষা করে দিয়েছি। ডোপ টেস্টের পাঁচটি পরীক্ষার জন্য কিট কেনার দরপত্র আহ্বানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চিঠি দিয়েছি। আশা করি, দরপত্র হলেই সমস্যার সমাধান হবে।’
