ভারতের অর্থনৈতিক ভঙ্গুর পরিস্থিতিতে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে ত্রিপুরায়। অভাব ও বেকারত্বের হতাশায় পাঁচ মাসে আত্মহত্যা করেছেন ৫৫৩ জন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আজকাল জানায়, বিরূপ অর্থনীতিতে ব্যবসা-বাণিজ্য অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে ত্রিপুরায়। গ্রাম মিলছে না কোনো ধরনের কাজ। পাম্প অপারেটর থেকে মিড ডে মিল কর্মী পর্যন্ত প্রতিদিন কাজ হারাচ্ছেন। এ থকে সৃষ্ট হতাশা থেকে বাড়ছে আত্মহত্যার ঘটনা।
রাজ্যটির বিধানসভায় দেয়া সরকারের তথ্য থেকে এমন চিত্র উঠে এসেছে।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত শেষ ১৫৩ দিনে রাজ্যটিতে আত্মহত্যা করেছেন ৫৫৩ জন। গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৪ জন। আত্মহত্যাকারীদের মধ্যে রয়েছেন বেকার, ছোট ব্যবসায়ী থেকে দিনমজুর পর্যন্ত। ছেলেমেয়েকে বিষ খাইয়ে মোহনপুরে এক দম্পতির আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটেছে।
ক্ষমতায় এসে ‘রাষ্ট্রীয় গ্রামীণ রোজগার যোজনা কর্মসূচি’র (এম জি এন রেগা) মজুরি ৩৪০ রুপি করার প্রতিশ্রুতি দেয় বিজেপি। বলা হয়, সামাজিক ভাতা ২ হাজার রুপি করা হবে। কিন্তু গত ২২ মাসে একটিও নতুন সামাজিক ভাতা দেয়নি ত্রিপুরা সরকার।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী রেগার কাজও কমেছে আশঙ্কাজনক হারে। ২০২০ সালের ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ত্রিপুরায় গড়ে রেগার কাজ হয়েছে ৩৬ দিন। সরকারি নির্মাণকাজ বন্ধ।
এদিকে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল সিপিএমের দাবি, রাজ্যের গ্রাম পাহাড়ে কাজ ও খাদ্যের সংকট চলছে। সিপিএমের ত্রিপুরার রাজ্য সম্পাদক গৌতম দাসের অভিযোগ, অভাবের কারণে শিশু বিক্রির ঘটনা ঘটছে।
রাজ্যটিতে বিজেপির ২২ মাসের শাসনে সর্বত্র হতাশা নেমে এসেছে বলে মন্তব্য করলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি পীযূষ বিশ্বাস।
