জয়পুরহাট চিনিকলের অপরিশোধিত বর্জ্য নিঃসৃত পানির দুর্গন্ধে জেলার শহর ও গ্রামের হাজার হাজার মানুষ অতিষ্ঠ। বর্জ্যরে পানিতে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। কালচে রং ধারণ করেছে নদীর পানি। মরে যাচ্ছে মাছ ও পোকামাকড়। চিনিকল কর্র্তৃপক্ষ জানায়, তাদের বর্জ্যরে পানিতে এসব হচ্ছে না। তবে জেলা প্রশাসক বলছেন, চিনিকলের বর্জ্যরে পানির কারণেই এসব সমস্যা হচ্ছে।
জানা যায়, ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় দেশের বৃহত্তম জয়পুরহাট চিনিকল। তারপর থেকে বর্জ্য শোধনাগার নির্মাণ না করেই চিনি উৎপাদন শুরু করে। সেই থেকেই বর্জ্যরে পানিতে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। চিনিকল থেকে একটি নর্দমার মাধ্যমে অপরিশোধিত বর্জ্য নিঃসৃত পানি অপসারণ করা হয় আক্কেলপুর উপজেলার তুলসীগঙ্গা নদীতে। দুর্গন্ধময় পানি নর্দমার মাধ্যমে খাল-বিল হয়ে নদীতে যাচ্ছে। এতে তুলসীগঙ্গা নদীর পানি কালচে রং ধারণ করেছে। এতে স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হলে জেলা প্রশাসক তদন্ত কমিটি গঠন করেন। এ কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, চিনিকলের বর্জ্যে ও পানিতেই নদীর পানি দূষিত হচ্ছে। তবে গত ২৭ জানুয়ারি সাংবাদিক সম্মেলন করে চিনিকল কর্র্তৃপক্ষ শুধু চিনিকলের বর্জ্যে পরিবেশ দূষণ ও নদীর পানি দূষিত হচ্ছে না বলে দাবি করে।
তুলসীগঙ্গা নদী তীরবর্তী জেলেরা বলেন, সুগার মিলের দূষিত বর্জ্যরে কারণে আমরা নদীতে মাছ মারতে পারছি না। মাছ মেরেই আমরা জীবন বাঁচাই। খুব কষ্টে দিন যাচ্ছে। এলাকাবাসী বলেন, ‘মিলের পানি নদীতে আসার পর থেকে নদীর পানি কালচে রং ধারণ করে। এতে নদীর মাছ, পোকামাকড় মরে যাচ্ছে। পানির দুর্গন্ধে রাস্তা দিয়ে চলাচলও দুষ্কর।’ আমাদের বিশ্বাসÑ পরিবেশ দূষণ, নদী রক্ষা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি রক্ষার্থে চিনিকল কর্র্তৃপক্ষ দ্রুত বর্জ্য শোধনাগার স্থাপন করে সমস্যা সমাধান করবে।
সংবাদ সম্মেলনে জয়পুরহাট চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন আকন্দ বলেন, ‘শুধু সুগার মিলের পানি দিয়েই নদীর পানি দূষিত হচ্ছে এ কথা সঠিক নয়। বিভিন্ন উৎস থেকে অপরিষ্কার বর্জ্য ও পানি নদীর পানিকে দূষিত করছে। আগামী বছরের মধ্যে এসব সমস্যা সমাধানের জন্য বর্জ্য শোধনাগার করা হবে।’
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, ‘নদীর পানি কালচে হওয়ার পর আমাদের আরডিসি (রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর) গত ১৫ জানুয়ারি তদন্ত করে যে প্রতিবেদন দেয়, সেখানে বলা হয়েছে চিনিকলের পানিতে নদীর পানি দূষিত হচ্ছে। পরে ১৬ জানুয়ারি বগুড়ার ক্যামিস্ট্র ও সহকারী দিয়ে পানি পরীক্ষা করি, তাতেও সুস্পষ্ট দেখা যায়Ñ চিনিকলের পানি থেকেই নদীর পানি দূষিত হয়েছে।’ চিনিকল কর্র্তৃপক্ষকে আপাতত তাদের বর্জ্য সংরক্ষণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান ডিসি।
