নিয়োগ তালিকায় সুপারিশকৃতদের নাম না থাকায় উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুল ইসলাম ডাকুয়ার নেতৃত্বে পরিসংখ্যান কর্মকর্তার কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।
এ সময় কার্যালয়ের এক কর্মচারীকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাধবী রায় ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই কর্মচারীকে উদ্ধার করেন।
মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা পরিষদ ভবনের নিচ তলায় থাকা পরিসংখ্যান কার্যালয়ে ওই হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
সাইফুল ইসলাম পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লোকমান ডাকুয়ার ভাইয়ের ছেলে। এ কারণে তার দাপটে বাকেরগঞ্জের সবাই তটস্থ থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অবশ্য উপজেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জড়িতদের পরিচয় জানেন না দাবি বলে করেছেন। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন ইউএনও।
প্রত্যক্ষদর্শী কর্মচারী চেইনম্যান শামসুজ্জামান বলেন, মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুল ইসলাম ডাকুয়ার নেতৃত্বে ১৫-২০ জন নেতাকর্মী তার কাছে পরিসংখ্যান অফিসের চাবি চায়। একপর্যায়ে তার কাছ থেকে জোরপূর্বক চাবি ছিনিয়ে নিয়ে দরজা খুলে অফিসের আসবাবপত্র ব্যাপক ভাঙচুর করে।
এ সময় পরিসংখ্যান অফিসের সহকারী কর্মকর্তা মো. আকতার হোসেনকে খুঁজে না পেয়ে তাকে (সহকারী কর্মকর্তা) অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে তারা।
ভাঙচুর শেষে শামসুজ্জামানকে অফিসের একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে তালা ঝুলিয়ে দেয় তারা। খবর পেয়ে ইউএনও গিয়ে তাকে ওই কক্ষ থেকে উদ্ধার করেন।
উপজেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের একাধিক কর্মচারী জানান, পরিসংখ্যান কার্যালয়ের অধীন গণশুমারি ও গৃহগণনায় অস্থায়ী ভিত্তিতে ৩০০ লোক নিয়োগ করা হবে। তারা ১৪টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় ১০দিন কাজ করবেন।
নিয়োগের জন্য সোমবার পরিসংখ্যান কার্যালয়ে মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা শেষে মঙ্গলবার সকালে এর তালিকা কার্যালয়ের সামনে নোটিশ বোর্ডে সাঁটিয়ে দেওয়া হয়।
কিন্তু ওই তালিকায় ছাত্রলীগের সুপারিশকৃতদের নাম না থাকায় উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম ডাকুয়ার নেতৃত্বে ওই ভাঙচুর চালানো হয়। এমনকি নোটিশ বোর্ডের নোটিশও ছিঁড়ে ফেলে তারা।
বাকেরগঞ্জের ইউএনও মাধবী রায় বলেন, ভাঙচুরের সময় তিনি উপজেলা পরিষদে একটি জরুরি সভায় ছিলেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরুদ্ধ কর্মচারীকে উদ্ধার করেন। এ কারণে কারা ভাঙচুর করেছে তা বলতে পারছেন না।
বাকেরগঞ্জে পরিসংখ্যান কর্মকর্তা না থাকায় বরিশালের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা সেখানে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। তার সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন ইউএনও।
পরিসংখ্যান অফিসে হামলা-ভাঙচুরের সত্যতা নিশ্চিত করে বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম বলেন, ইউএনও’র নির্দেশনা অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাকেরগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শামসুল আলম চুন্নু বলেন, পরিসংখ্যান অফিসে হামলা-ভাঙচুরের খবর তিনি শুনেছেন। এটা কাম্য নয়।
তবে তিনি বলেন, উপজেলা পর্যায়ে তিনি প্রধান ব্যক্তি হওয়ার পরও তাকে এই নিয়োগের বিষয়ে কিছুই জানানো হয়নি। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও ভুল করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম ডাকুয়া তার নেতৃত্বে ভাঙচুরের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ওই সময় তিনি পৌর শহরের সাহেবগঞ্জে ২১ ফেব্রুয়ারি পালন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভায় ছিলেন। ভাঙচুরের সঙ্গে তিনি বা তার দলের কেউ জড়িত নয়।
