মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসকদের স্বেচ্ছাচারিতায় ভোগান্তির শেষ নেই রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা নিতে আসা শিক্ষার্থীদের। সময়মতো মেডিকেল সেন্টারে না আসা, আগেই চলে যাওয়া, রোগীদের বসিয়ে রেখে ফেইসবুক চালানো, অ্যাম্বুলেন্স দিতে গড়িমসি করা, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ দেওয়াসহ এন্তার অভিযোগ সেখানকার চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে।
বিশ্ববিদ্যালয়টিতে আবাসিক-অনাবাসিক দশ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসক রয়েছেন পাঁচজন। তাদের মধ্যে একজন ফাউন্ডেশন ট্রেনিংয়ে আছেন। নিয়ম অনুযায়ী, মেডিকেল সেন্টারের নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের অফিস সময় ছুটি বাদে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। তবে চিকিৎসকরা সে নিয়মের তোয়াক্কা না করে ভাগাভাগি করে মাত্র তিন ঘণ্টা করে ডিউটি করছেন। মাঝেমধ্যে থাকেন না একেবারেরই।
ফলে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের সেখানে সেবা না পেয়ে যেতে হয় চার কিলোমিটার দূরে রংপুর মেডিকেল কলেজ বা বিভিন্ন বেসরকারি কোনো হাসপাতালে।
বিভিন্ন সময়ে এই ধরনের ভোগান্তির শিকার হয়ে একাধিক শিক্ষার্থী এই অনিয়ম নিয়ে একাধিকবার ফেইসবুকে স্ট্যাটাসও দিয়েছেন।
কয়েক দিন আগে মেডিকেল সেন্টারের এক চিকিৎসকের ফেইসবুক চালানোর ছবি ভাইরালও হয়। সেখানে দেখা যায়, চিকিৎসা নিতে আসা এক শিক্ষার্থীকে বসিয়ে রেখে মোবাইল স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে আছেন চিকিৎসক।
ভুক্তভোগী বাংলা বিভাগের ওই শিক্ষার্থী রিপন জানান, চিকিৎসকের কাছে অসুস্থতার কথা বলছিলাম আর তিনি ফেইসবুক চালাচ্ছিলেন। তখন আমার বন্ধু ছবিটি তুলেছিল। অভিযুক্ত চিকিৎসক অলক কুমার এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।
আরেক শিক্ষার্থী মুত্তাকিন বলেন, ‘মেডিকেল সেন্টারে গিয়ে চিকিৎসক পাওয়া যায় না। কয়েক দিন আগে অসুস্থ অবস্থায় মেডিকেল সেন্টারে গেলে আমাকে অপেক্ষা করতে বলে ভিসি স্যারের বাংলোতে যান তিনি। দেড় ঘণ্টা বসে থাকার পর কর্মচারী বলেন, চিকিৎসক চলে গেছেন।’
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে মেডিকেল অফিসার শাহরিয়ার বলেন, ‘নন স্টপ সেবা দেওয়ার লক্ষ্যেই আমাদের ডিউটি নিজেরা ভাগ করে নিয়েছি।’ অ্যাম্বুলেন্স দিতে গড়িমসির ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘অনেক সময় আমরা যাচাই করার জন্য বিভাগের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে বলি। তারা বললে দিয়ে দিই।’
উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ বলেন, চিকিৎসকদের অফিস সময় শিফটে ভাগ করার বিষয়টি আমার জানা নেই। একজন চিকিৎসক ফাউন্ডেশন ট্রেনিংয়ে আছেন। তিনি অফিসে যোগ দিলেই সব সমাধান হবে।
