পুলিশের সাময়িক বরখাস্ত ডিআইজি (উপমহাপরিদর্শক) মিজানুর রহমানের সঙ্গে ঘুষ লেনদেনের মামলায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালক (সাময়িক বরখাস্ত) খন্দকার এনামুল বাছিরকে জামিন দেয়নি হাইকোর্ট। তবে তার জামিন প্রশ্নে রুল দিয়েছে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ। জামিন আবেদনের ওপর শুনানি শেষে গতকাল মঙ্গলবার রুলসহ আবেদন খারিজের এ আদেশ আসে। রুলে খন্দকার এনামুল বাছিরকে কেন জামিন দেওয়া হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী ফারুক আলমগীর চৌধুরী। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশিদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক।
গত বছরের ৯ জুন পুলিশের বিতর্কিত কর্মকর্তা মিজান গণমাধ্যমে দাবি করেন, দুর্নীতির অনুসন্ধান থেকে মুক্তি পেতে দুদক পরিচালক বাছিরকে তিনি ৪০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়েছিলেন। বাছিরের সঙ্গে ঘুষ লেনদেন সংক্রান্ত কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ডও ফাঁস করেন তিনি। এ ঘটনায় দুদকের পক্ষে তিন সদস্যের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বাছিরের বিরুদ্ধে দুদকের তথ্য পাচার, চাকরির শৃঙ্খলাভঙ্গ ও অসদাচরণের অভিযোগের প্রমাণ পায়। এসব অভিযোগে তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে কমিশন।
৪০ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে গত বছরের ১৬ জুলাই বাছির ও ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। পরে ২২ জুলাই রাতে বাছিরকে রাজধানীর দারুস সালাম এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে দুদকের একটি দল। পরদিন ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠায়। সবশেষ গত ৫ জানুয়ারি বিচারিক আদালতে বাছিরের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর হয়। এরপর গত ৬ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করেন তার আইনজীবী।
