বনভোজনের চাঁদা দিতে না পারায় ১৮ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৮:১৯ পিএম

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে আতিক, রাকিবুল, লিটন, মুনকার নাঈম ও রবিউল নামে পাঁচ শিশু সবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে। এখনো দেড় মাস হয়নি। প্রধান শিক্ষকের নির্দেশমত বনভোজনের নির্ধারিত চার শ’ টাকা চাঁদা দিতে না পারায় তাদের মতো একই বিদ্যালয়ের ১৮ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের ছাড়পত্র ধরিয়ে দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক।

ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার দুপুরে পার্বতীপুর উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের জমিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে।

র্বনির্ধারিত ঘোষণা অনুযায়ী সোমবার রংপুরের পায়রাবন্দে বনভোজনের আয়োজন করে জমিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়। এ জন্য শিক্ষার্থী জনপ্রতি চার শ টাকা চাঁদা ধরা হয়। তবে বিদ্যালয়ের ২৫০ শিক্ষার্থীর মধ্যে দরিদ্র ১৮ শিক্ষার্থী চাঁদার টাকা জোগাড় করতে না পারায় তারা বনভোজনে অংশ নিতে পারেনি।

বনভোজন উপলক্ষে বিদ্যালয় দুদিন ছুটি ঘোষণা করে। বনভোজনের ছুটি শেষে বুধবার ওই ১৮ শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে উপস্থিত হলে প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম তাদের প্রত্যেকের হাতে ছাড়পত্রের নোটিশ তুলে দেন। তাদের মধ্যে ৬ষ্ঠ শ্রেণির পাঁচ, ৭ম শ্রেণির দুই, ৮ম শ্রেণির সাত ও ৯ম শ্রেণির চার শিক্ষার্থী রয়েছে।

বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী ৬ষ্ঠ শ্রেণির আতিকের অভিভাবক মতিউর রহমান ও একই শ্রেণির রাকিবুল ইসলামের অভিভাবক রেজিনা বেগম বলেন, তাদের সন্তানরা চাঁদা দিতে না পারায় বনভোজনের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

এ ব্যাপারে জমিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা স্থানীয় বখাটে ছেলেদের সঙ্গে নিয়ে তিনটি মাইক্রোবাসে আমাদের সারা দিন অনুসরণ ও বিদ্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত বনভোজনে অংশগ্রহণকারী ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করায় ওই ১৮ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। 

শিক্ষার্থী বহিষ্কারের ব্যাপারে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির মতামত নেয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক বলেন, তিনি ঢাকায় থাকায় তার মতামত নেয়া হয়নি। তবে, সভাপতি ছাড়া বনভোজনে অংশ নেয়া বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সব সদস্যের পরামর্শে ১৮ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়।

এ ঘটনার বিষয়ে পার্বতীপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মেরাজুল ইসলাম বলেন, বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে বিচার চেয়ে আবেদন করেছে। এর একটি অনুলিপি আমি পেয়েছি।

প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্ত ছাড়াই তিনি নিজস্ব প্রশাসনিক ক্ষমতা বলে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন বলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত