টেস্ট দল থেকে মাহমুদউল্লাহ বাদ মোস্তাফিজের ফেরা

আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০১:৫৬ এএম

বাদ পড়লেন চারজন, দলে ফিরলেন চারজন। সঙ্গে দুই নতুন মুখ। সর্বশেষ পাকিস্তান সিরিজের টেস্ট দলের সঙ্গে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের জন্য ব্যাপক এই রদবদল রেখে দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তবে বাদ পড়ার তালিকায় সবচে বড় নাম মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন অবশ্য ‘বাদ’ নয়, মাহমুদউল্লাহকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে বলে জানালেন।

এছাড়া পাকিস্তান টেস্টের দল থেকে বাদ পড়েছেন রুবেল হোসেন, বিয়ের জন্য ছুটি নিলেন সৌম্য সরকার ও ইনজুরির কারণে নেই আল আমিন হোসেন। এতে দলে ফিরেছেন মুশফিকুর রহিম, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান। জাতীয় দলে প্রথমবারের মতো সুযোগ পেলেন ব্যাটসম্যান ইয়াসির আলি চৌধুরী রাব্বি ও পেসার হাসান মাহমুদ। 

প্রাথমিকভাবে ১৬ জনের দল দেওয়া হয়েছে। টেস্ট চলাকালীন দলে ১৩ জন থাকবেন। বাকি তিনজন বিসিএলে খেলবেন। আগামীকাল থেকে শুরু প্রস্তুতি ক্যাম্পের সময়ই টেস্ট স্কোয়াডে কোন ১৩ জন থাকবেন তা ঠিক করবে টিম ম্যানেজমেন্ট। এমনটাই জানালেন প্রধান নির্বাচক। সংবাদ সম্মেলনে সবচেয়ে বেশি মাহমুদউল্লাহকে নিয়েই প্রশ্ন শুনতে হলো তাকে। সম্প্রতি বিসিবি মাহমুদউল্লাহকে টেস্ট দল থেকে বাদ দেওয়ার চিন্তা করছে এমন খবর শোনা যাচ্ছিল। নান্নু জানালেন এটা শুধুই বিশ্রাম, ‘মাহমুদউল্লাহকে বিশ্রামে দেওয়া হয়েছে। আসলে এটা জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ বলে আমরা কিছু ক্রিকেটারকে দেখতে চেয়েছি। কিছু খেলোয়াড়কে পাকিস্তান ট্যুরে নিয়েছি। এই তরুণরা একটা বা দুটো টেস্ট খেলেছে। ওদের আরও একটু সুযোগ করে দেওয়ার জন্য দলে নতুনদের বেশি রাখা হয়েছে। তাই মাহমুদউল্লাহ, রুবেলকে একটু বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। আর পরের টেস্টে কী হবে সেটা এখনো আমরা ভাবিনি। এখন এই টেস্টের জন্যই দল বিবেচনা করা হয়েছে। মাহমুদউল্লাহ এই সময়ে বিসিএলে খেলবে।’

জিম্বাবুয়ে সিরিজ বলেই এমন তারুণ্য নির্ভর দল বানানোর সাহস করেছে বিসিবি। আর এখান থেকেই ভবিষ্যৎ টেস্ট দল তৈরি করার লক্ষ্য বোর্ডের। নান্নু জানালেন, ‘আমরা এখন তরুণদের ওপর আস্থা রাখছি। ওদের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। আমরা চাইছি টেস্টের জন্য একটা নতুন গ্রুপ তৈরি করার। সেখানে অভিজ্ঞরা অবশ্যই থাকবে সঙ্গে নতুনদের তৈরি করার জন্য দলে কিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে। তবে আমরা এটা বিশ্বাস করি এখান থেকেই ভালো একটা টেস্ট দল বের হবে।’

পাকিস্তান সফরের আগে রুবেল হোসেনকে লাল বলে বিবেচনা করার কথা বলেছিলেন নির্বাচকরা। ওই সময়ে মোস্তাফিজকে শুধু সাদা বলের জন্য ভাবা হচ্ছে বলেও জানানো হয়। কিন্তু গতকাল জানালেন এর উল্টোটা। এখন রুবেলকে ভাবা হচ্ছে শুদু সাদা বলে আর মোস্তাফিজকে সাদা বলের পাশাপাশি লাল বলেও নেওয়া হচ্ছে। এই দ্বিমুখী চিন্তার কারণ নান্নু ব্যাখ্যা করলেন এভাবে, ‘মোস্তাফিজকে নিয়ে কোচ আগে বলেছিলেন যে ওকে লাল বলের জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে না। কিন্তু সম্প্রতি বিসিএলের আমরা মোস্তাফিজের খেলা দেখেছি। সে দ্বিতীয় রাউন্ডে ৬ উইকেট পেয়েছে। ওর পারফরম্যান্স আগের মতো ফিরে এসেছে মনে করেছি। এজন্য আজ (রোববার) সকালে কোচের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে তখন মোস্তাফিজের ব্যাপারে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে তাকে এখন লাল বলে খেলানো যেতে পারে।’

মোস্তাফিজের সঙ্গে দলে ফিরেছেন তাসকিন আহমেদ। সর্বশেষ পাকিস্তান দলে তার সুযোগ থাকলেও ইনজুরি নিয়ে সংশয়ের কারণে ডাক পাননি তাসকিন। কিন্তু বিসিএলের দ্বিতীয় রাউন্ডে মোট ৭ উইকেট নিয়ে আবার নজর কাড়েন। এছাড়া বোর্ড এখন পেসারদের ওপর নজর দিচ্ছে বলে তাসকিনকে ফেরানো হয়েছে। একই চিন্তার কারণে হাসান মাহমুদও প্রথমবারের মতো সুযোগ পেয়েছেন। ১৬ জনের দলে ৫ পেসার! প্রধান নির্বাচক জানালেন, দেড় মাস পরের টেস্টের প্রস্তুতি মাথায় রেখে সাজিয়েছেন স্কোয়াড,  ‘ম্যানেজমেন্ট চাচ্ছে কিছু বোলারকে প্রস্তুত করতে। কারণ, এরপর আমাদের পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচ আছে, এর প্রস্তুতিও যেন এক সঙ্গে নেওয়া যায়। এই টেস্টের পর তো আবার ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যাবে। এখানে কিন্তু বেশি সুযোগ নেই অনুশীলনের। যে কদিন হাতে আছে টেস্টের প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করা যায় আরকি।’ হাসান মাহমুদ প্রসঙ্গে তিনি জানালেন, ‘হাসান মাহমুদকে জোরে বল করার জন্য বিবেচনায় দলে নেওয়া হয়েছে। ওকে যখন এক বছর আগে এইচপি দলে নিই তখন থেকেই একটা পরিকল্পনায় আনার চেষ্টা ছিল। হাসান মাহমুদ সেদিক থেকে বেশ ধারাবাহিক এবং গত দুটি বিসিএল ম্যাচে ওর খেলা দেখে মনে হয়েছে ওর যে ইনজুরি সমস্যা ছিল তা থেকে বেশ উন্নতি করেছে। এজন্য তাকে এখন জাতীয় দলের সিস্টেমে নিয়ে আসা হয়েছে।’

ইয়াসির আলি প্রসঙ্গে নান্নুর যুক্তি, এইচপি ও ‘এ’ দলে ধারাবাহিক খেলছে বলে দলে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তাকে আমরা মাহমুদউল্লাহর স্থালাভিষিক্ত বলছি না। সে জাতীয় লিগে ভালো করেছে এবং বিসিএলে গতকাল (শনিবার) সেঞ্চুরি করেছে। এজন্য ওকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে।’

এখানে টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে নির্বাচকদের চিন্তার দূরত্ব হচ্ছে না বলেও দাবি করলেন নান্নু। টানা তিনটি বাজে হারের পর জিম্বাবুয়ে সিরিজ দিয়ে নতুন শুরুর লক্ষ্যে দলে পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জানান তিনি, ‘টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে নির্বাচকদের কোনো গ্যাপ হচ্ছে না। আমরা ওদের সঙ্গেও কথা বলি। একই সঙ্গে অধিনায়কের সঙ্গেও কথা বলি। সব মিলিয়ে যে সিদ্ধান্ত আসে সেটাই নেওয়া হয়। আর এখন এই সিরিজটি দিয়ে আমরা আবার নতুন পরিকল্পনায় যেতে চাচ্ছি। নতুন করে শুরু করতে চাইছি। তাই আগের চিন্তাগুলো শুধরে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমরা চাইছি যেন এই টেস্ট সিরিজে ভালো করে নতুন শুরুটা আনতে পারি।’

মিরপুর টেস্টের বাংলাদেশ দল

মুমিনুল হক (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুশফিকুর রহিম, মোহাম্মদ মিঠুন, লিটন দাস, তাইজুল ইসলাম, নাঈম হাসান, ইবাদত হোসেন, আবু জায়েদ চৌধুরী রাহি, তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, হাসান মাহমুদ, মেহেদী হাসান মিরাজ ও ইয়াসির আলি চৌধুরী রাব্বি।

 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত