টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার তিন ছাত্রীর সঙ্গে তাদের মেয়েদের পড়াতে আপত্তি জানিয়ছেন অভিভাবকরা। এ প্রেক্ষিতে ওই তিন ছাত্রীকে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।
তবে কোনো টিসি দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেনি এবং নিয়মিত ক্লাস কার্যক্রম করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন স্কুলটির সভাপতি।
২৬ জানুয়ারি চার বান্ধবী ও দুই বন্ধু মিলে পাহাড়ি এলাকায় বেড়াতে গিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয় তারা। পরে পুলিশ সেখান থেকে তাদের উদ্ধার করে। ২৭ জানুয়ারি এক ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে ঘাটাইল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।
পরে বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করে।
দীর্ঘদিন পর নির্যাতিতা ওই কিশোরীরা স্কুলে গেলে স্কুলের প্রধান শিক্ষক তাদের আর এই স্কুলে রাখা হবে না বলে জানিয়ে দেন। পরে তাদের টিসি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ছাত্রীদের।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক বুলবুলি বেগম বলেন, ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্তে একজনকে এবং অপর দুই মেয়েকে তাদের ইচ্ছায় টিসি দেওয়া হয়েছে। ওরা যদি আবার এ স্কুলে পড়তে চায়, সে ক্ষেত্রে ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্তে তাদের আবার স্কুলে ভর্তি করে নেয়া হবে।
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও ঘাটাইল উপজেলা চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইমলাম লেবু বলেন, মেয়েগুলোর বিষয়ে অন্য শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা আমাদের ওপর নানা চাপ প্রয়োগ করে আসছিল। ওই মেয়েরা যদি স্কুলে আসে তবে অভিভাবকরা তাদের মেয়েদের অন্য স্কুলে ভর্তি করাবেন। আর এ বিষয়টিই মৌখিকভাবে তাদের (তিন ছাত্রীকে) জানান হয়েছিল। তবে কোনো টিসি দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেনি। অন্য শিক্ষার্থীরা থাকুক বা না থাকুত তারা আগের মতোই নিয়মিত ক্লাস করতে পারবে।
এ ব্যাপারে মানবাধিকার কর্মী ও আইনজিবী আতোয়ার রহমান আজাদ জানিয়েছেন, সমাজ তাদের সঙ্গে দুইটা অন্যায় করেছে। সমাজের অন্ধকার জগতের মানুষগুলো তাদের নির্যাতন করেছে। অন্যদিকে এখন সমাজের আলোকিত
মানুষগুলো তাদের জীবন অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আমি মনে করি, তাদের শিক্ষার সুযোগ করে দেওয়া দরকার।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শফিকুল ইসলাম বলেন, মেয়েগুলোতো ঘটনার শিকার। তারা কেন শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হবে। বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখে ব্যাবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার সরকার বলেন, সকলেরই শিক্ষার অধিকার আছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সূত্র: ডিবিসি টিভি।
