গাজীপুরে হেফাজতে নারীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০১:৫৩ এএম

গাজীপুর নগরীতে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে ইয়াসমিন বেগম (৪০) নামে ‘মাদক মামলার আসামি’ ওই নারীর মৃত্যু হয়। এর আগে সন্ধ্যায় মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগে নগরীর গজারিয়াপাড়ার (ভাওয়াল গাজীপুর) বাড়ি থেকে তাকে ডিবি পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। কয়েক ঘণ্টা পর রাতে স্বজনরা হাসপাতালে গিয়ে ইয়াসমিনকে মৃত দেখতে পান।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, পুলিশের নির্যাতনের শিকার হয়ে ইয়াসমিনের মৃত্যু হয়েছে। তবে পুলিশ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তিনি হৃদরোগী ছিলেন, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনা তদন্তে মহানগর পুলিশ তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। মৃত ইয়াসমিন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের ভাওয়াল গাজীপুর এলাকার আবদুল হাইয়ের স্ত্রী। তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

মারা যাওয়া ইয়াসমিনের ছেলে ইয়াসিন আরাফাত জিসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, তার বাবা আবদুল হাইকে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার করতে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এএসআই নূরে আলমের নেতৃত্বে একদল পুলিশ তাদের বাড়িতে যায়। এ সময় পুলিশ সদস্যরা তার বাবা আবদুল হাইকে খুঁজতে থাকে। একপর্যায়ে পুলিশ বাসার কলাপসিবল গেট ভেঙে ঘরে ঢোকে। পরে বাবাকে না পেয়ে পুলিশ সদস্যরা তার মা ইয়াসমিনকে মারধর করে ধরে নিয়ে যায়। পরে মায়ের মোবাইল ফোনে কল দিলে ডিবি পুলিশ সদস্যরা জিসানকে ডিবি কার্যালয়ে যেতে বলে। কিছুক্ষণ পর পুলিশ তাকে ডিবি কার্যালয়ে না গিয়ে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে বলে। হাসপাতালে গেলে পুলিশ জিসানকে ভেতরে যেতে বাধা দেয়। একপর্যায়ে ডিবি পুলিশ জানায়, তার মা মারা গেছেন। তার মা হৃদরোগী ছিলেন বলেও জানান জিসান।

তবে ইয়াসমিনকে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার মনজুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ভাওয়াল গাজীপুর এলাকার একটি বাড়িতে মাদক বেচাকেনা হচ্ছে এমন খবরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইয়াসমিনদের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় মাদক মামলার আসামি ইয়াসমিনকে গ্রেপ্তার এবং তার হেফাজত থেকে ১০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তবে তার মাদক ব্যবসায়ী স্বামী পালিয়ে যান। গ্রেপ্তারের পর ইয়াসমিনকে গোয়েন্দা অফিসে নিলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে রাত ১০টা ১০ মিনিটে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য কর্তব্যরত চিকিৎসকরা ইয়াসমিনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। কিন্তু ঢাকায় পাঠানোর প্রস্তুতিকালে ইয়াসমিন মারা যান।’

ইয়াসমিন ও তার স্বামী আবদুল হাইয়ের বিরুদ্ধে মাদক আইনে একাধিক মামলা রয়েছে বলেও ভাষ্য এই পুলিশ কর্মকর্তার।

শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক মো. রফিকুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘১০টা ১০ মিনিটে ইয়াসমিনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ সময় তার বুকে ব্যথা ও প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট ছিল। পরে তার ইসিজিও করা হয়। লক্ষণ থেকে প্রাথমিকভাবে বোঝা গেছে, তিনি স্ট্রোক করেছেন। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। এক পর্যায়ে রাত ১১টা ২০ মিনিটে তিনি মারা যান।’

তদন্ত কমিটি গঠন : ডিবি হেফাজতে ইয়াসমিনের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. আনোয়ার হোসেন তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। এই কমিটির প্রধান গাজীপুর মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. আজাদ মিয়া। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার এমএ হানিফ ও সহকারী পুলিশ কমিশনার আহসান হাবিব। আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে এই কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত