জয়পুরহাট সদর উপজেলা জাতীয় পার্টির (জাপা) সাধারণ সম্পাদক ও দোগাছী ইউপি সদস্য আবু বায়েজীদের বিরুদ্ধে তার ভাবি বিলকিস বানুকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে আদালতে মামলা হয়েছে। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি জয়পুরহাট জেলার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আমলী-১ আদালতে মৃত বিলকিস বানুর বড় বোন মর্জিনা বেগম বাদী হয়ে এ মামলা করেন। ওই মামলায় জাপা নেতা ও ইউপি সদস্য আবু বায়েজীদ ও তার স্ত্রী ফাতেমাকে আসামি করা হয়েছে। আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইকবাল বাহার মামলাটি আমলে নিয়ে জয়পুরহাট থানায় এজাহারভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মৃত বিলকিস বানুর স্বামী গরিব হওয়ায় তিনি অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করতেন। তিন সন্তানকে নিয়ে তারা খুব কষ্টে জীবনযাপন করছিলেন। বিলকিস পিতার বাড়ির সম্পত্তি বিক্রি করে বসতবাড়ির পাশে একখণ্ড জমি কেনেন। তার দেবর আবু বায়েজীদ ও তার স্ত্রী ফাতেমা ওই জমি নেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রায়ই বিলকিস বানুকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছিল। আবু বায়েজীদ প্রভাবশালী হওয়ায় বিলকিসের স্বামীও তাকে কিছু বলতে পারত না। বিলকিস নিরুপায় হয়ে গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা করেন। এতে বায়েজীদ ক্ষিপ্ত হয়ে গত ১০ ফেব্রুয়ারি বিকেলে বসতবাড়ির সামনে কলা বাগানে নিয়ে পেটালে বিলকিস অজ্ঞান হয়ে পড়েন। প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় তাকে জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে পরের দিন ১১ ফেব্রুয়ারি সকালে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল ৫টার দিকে বিলকিস মারা যান। পরে লাশটি তার পরিবার নিয়ে আসে। লাশের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখে জয়পুরহাট থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হয় এবং থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়। তবে পুলিশ বিলকিসের পরিবারকে ভুল বুঝিয়ে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। এরপর বিলকিসের মরদেহ তার মায়ের বাড়ি ধামইরহাট নিয়ে যাওয়ার পথে বায়েজীদের নেতৃত্বে অজ্ঞাতনামা ২০-২৫ জন তাদের পথরোধ করে। লাশের সঙ্গে থাকা লোকজনকে পিটিয়ে লাশ ছিনিয়ে নিয়ে বায়েজীদ নিজ এলাকায় দাফন করে। পরে থানায় খবর নিয়ে জানা যায়, আগের দেওয়া অভিযোগটি রেকর্ড করা হয়নি। এ ব্যাপারে আবু বায়েজীদ ও তার লোকজন বাদী মর্জিনা বেগমকে বলে মামলা করলে তার মেয়েকে অপহরণ করা হবে। এরপর মর্জিনা বেগম বাদী হয়ে জয়পুরহাট আদালতে মামলা করেন।
মামলার বাদী মর্জিনা বেগম ও তার পরিবারের লোকজন বলেন, বায়েজীদ প্রভাবশালী। বিলকিস নিরাপত্তা চেয়ে গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১০৭/১১৭ ধারায় মামলা করেন। প্রভাবশালী বায়েজীদ সুকৌশলে বিলকিসকে ভয়ভীতি ও প্রভাবিত করে ২০২০ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি মামলাটি প্রত্যাহার করে নেন। পরের দিন ১০ ফেব্রুয়ারি তাকে মারপিট করে গুরুতর আহত করেন। ১১ ফেব্রুয়ারি বিলকিস বানু মারা যান। এরপর থানায় অভিযোগ করা হলেও পুলিশ অসহযোগিতা করে। বাধ্য হয়ে আদালতে মামলা করা হয়েছে। মামলার পর থেকে বায়েজীদ ও তার লোকজন আমাদের ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। বিলকিসের ছেলেদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। পুলিশও হয়রানির চেষ্টা করছে। বিলকিস হত্যার বিচার চান তারা।
এ ব্যাপারে আবু বায়েজীদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। গত ২০ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় থানায় মামলার তথ্য জানতে গেলে বায়েজীদকে দলবলসহ দেখা যায়। সেখানে তার বক্তব্য নিতে চাইলে ‘অভিযোগ সত্য নয়’ বলে দ্রুত সেখান থেকে সটকে পড়েন।
জয়পুরহাট থানার অফিসার ইনচার্জ শাহরিয়ার খান বলেন, আদালতের এজাহারটি এসেছে কি না তা দেখতে হবে। অবশ্যই আদালতের নির্দেশ অনুয়ায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
