চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে মেয়র পদে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনকে মনোনয়ন দিয়েছে দলটির মনোনয়ন বোর্ড। গতকাল সোমবার রাতে গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মনোনয়ন বোর্ডের সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে দলের এ সিদ্ধান্তের কথা জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে চসিকের দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেন বিএনপির মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যরা। এতে স্কাইপের মাধ্যমে সভায় সভাপতিত্ব করেন লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ড. আবদুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেগম সেলিমা রহমান।
সাক্ষাৎকার শেষে ৬ মেয়র পদে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলেন তারেক রহমান। সবাইকে একযোগে দলের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার নির্দেশনাও দেন তিনি।
এর আগে গত ২৮ এপ্রিল ২০১৫ অনুষ্ঠিত চসিক নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন মনজুুর আলম। নির্বাচনের দিন বেলা ১১টায় কারচুপির অভিযোগ এনে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয় বিএনপি। এবার মনজুর আলম ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন।
গত মঙ্গলবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে চসিকের বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মাঝে মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু হয়। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির ৬ নেতা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। মনোনয়নপত্র সংগ্রহকারীরা হলেন মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন, সহসভাপতি নিয়াজ মোহাম্মাদ খান, সহসভাপতি সৈয়দ আজম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর ও সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মো. এরশাদ উল্লাহ ও ডা. লুসি খান।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ১৫ ফেব্রুয়ারি চসিকের মেয়র পদে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক রেজাউল করিম চৌধুরীকে নৌকার প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে। চসিকের মেয়র পদে বর্তমান মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনসহ মোট ১৯ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে ছাত্ররাজনীতিতে উঠে আসা এই নেতা ইতিপূর্বে দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। মেয়র পদে নির্বাচন করার আগ্রহের কারণে সাংগঠনিক সম্পাদক পদ ছেড়ে দিয়ে চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি পদে আসেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কারাবন্দী অবস্থায় ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন নগরীর কোতোয়ালি আসন থেকে।
