ভেকু-ট্রাকে ক্ষতবিক্ষত টাঙ্গাইলের পৌলী নদী

অবাধে বালু তোলায় হুমকির মুখে রেল ও সড়ক সেতু

আপডেট : ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২:১৫ এএম

ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার পৌলী নদীতে ভেকু বসিয়ে ৪টি পয়েন্টে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন ও বিক্রির মহোৎসব চলছে। এতে চরম হুমকির মুখে পড়েছে নদীর ওপর নির্মিত রেল সেতু ও মহাসড়ক ব্রিজ। অপরিকল্পিতভাবে মাটি উত্তোলনের ফলে সেতুর দুপাশ থেকে মাটি ধসে গিয়ে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসী জানান, অবৈধ মাটি কাটায় আশপাশের এলাকায় বর্ষা মৌসুমে ব্যাপক ভাঙন দেখা দেয়। এরইমধ্যে ভাঙনে শতাধিক পরিবারের ভিটেবাড়ি নদীগর্ভে চলে গেছে। দুবছর আগে রেলসেতুর দুপাশের নিচ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ দুই দফায় বন্ধ হয়ে যায়। এতে ভোগান্তির শিকার হন হাজার হাজার মানুষ।

সরেজমিনে দেখা যায়, বঙ্গবন্ধু সেতু-ঢাকা মহাসড়কের জেলার কালিহাতীর পৌলী নদীর ওপর নির্মিত মহাসড়ক ও রেল সেতুর অদূরে ভেকু বসিয়ে মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। অসংখ্য ট্রাক ভর্তি মাটি যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাইড রক্ষা বাঁধটিও রয়েছে হুমকির মুখে। ভেকু বসিয়ে মাটি কাটার ফলে গ্যাসপাইপ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ভেকু বসিয়ে মাটি কাটার কারণে দুবার তিতাস গ্যাসের মূল পাইপলাইন ফেটে ভেসে ওঠে। এতে টাঙ্গাইল, গাজীপুরসহ আশপাশের জেলাগুলোতে গ্যাস সংযোগ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এ কারণে সাধারণ মানুষকে পোহাতে হয় চরম দুর্ভোগ। ওই সময় নদী থেকে বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করলে বেশ কিছুদিন বালু উত্তোলন ও বিক্রি বন্ধ থাকে। পরে পাইপলাইন মেরামত করা হলে আবার অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করতে শুরু করে প্রভাবশালীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সচেতন ব্যক্তিরা আরও জানান, সরকার দলীয় লোকজন প্রভাব খাঁটিয়ে বালু উত্তোলন ও বিক্রি করছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় এই বালু উত্তোলন বন্ধ না হলে সরকারি স্থাপনাসহ এই জনপদ ধ্বংস হয়ে যাবে। এলাকাবাসী আরও জানান, বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে বালু ব্যবসায়ীদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে সংঘর্ষ হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। 

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, পৌলী নদীতে রেল ও মহাসড়কের পাশাপাশি দুইটি বড় সেতু থাকায় এলাকাটিকে স্পর্শকাতর ও বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ কারণে এলাকাটি বুড়িগঙ্গা নদী পুনরুদ্ধার (নিউ ধলেশ্বরী-পুংলী-বংশাই-তুরাগ-বুড়িগঙ্গা রিভার সিস্টেম) প্রকল্পের (দ্বিতীয় পর্যায়) আওতারও বাইরে রাখা হয়েছে। এখানে বালু উত্তোলনের জন্য কাউকে অনুমতি দেওয়া হয়নি।

কালিহাতী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহরিয়ার রহমান বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে বালু উত্তোলনকারীদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত