জাতীয় ভোটার দিবসে সিইসি

ভোটার অনুপস্থিতির জন্য নির্বাচন কমিশন দায়ী না

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০২০, ০২:২৩ এএম

সাম্প্রতিক কয়েকটি নির্বাচনে ভোটারখরার প্রসঙ্গটি জাতীয় ভোটার দিবসের আলোচনায়ও উঠে এসেছে। দিবসটি উপলক্ষে শোভাযাত্রার আগে গতকাল সোমবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদাসহ নির্বাচন কমিশনাররা এ বিষয়ে মন্তব্য করেন। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ভোটার কেন্দ্রে উপস্থিত না থাকার অনেক কারণ থাকতে পারে। এর জন্য নির্বাচন কমিশন দায়ী না।

নির্বাচন কমিশনের প্রতি মানুষের ও ভোটারদের আস্থা ফেরাতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেবেন এ প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের ওপর মানুষের আস্থা নেই বা আছে এটা নির্ধারিত করে বলার কোনো সুযোগ নেই। ভোটার ভোট দিতে যাবেন, নির্বাচন কমিশন ভোটের ব্যবস্থাপনা করবেন। ব্যবস্থাপনার দিক থেকে যা যা করণীয়, আমরা সব করেছি, করে থাকি বা থাকব। রিটার্নিং কর্মকর্তা, প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োগ এগুলো করে থাকি।’

এ সময় জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘সম্প্রতি ভোটারদের ভোটবিমুখতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এটি গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত। এর কারণসমূহ বিশ্লেষণ করে তা প্রতিকারের প্রচেষ্টা চালানো প্রয়োজন। যেকোনো মূল্যে আইনানুগভাবে ভোটের প্রতি ভোটারদের আস্থার সংকট মোচন করতে হবে। ভোটাররা অবারিতভাবে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ইচ্ছা অনুযায়ী ভোট দিতে পারলেই শুধু জাতীয় ভোটার দিবস পালনের উদ্দেশ্য সফল হবে।’

তিনি আরও বলেন, “গত বছর প্রথম জাতীয় ভোটার দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘ভোটার হব, ভোট দেব’। এবার দ্বিতীয় জাতীয় ভোটার দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে ‘ভোটার হয়ে ভোট দেব, দেশ গড়ায় অংশ নেব’। অর্থাৎ ভোটার হিসেবে আমাদের প্রত্যাশা একধাপ এগিয়ে গেছে। ভোটার হিসেবে এখন আমরা উন্নয়নের অংশীদার হতে চাই।” জাতীয় সংসদ, সিটি করপোরেশন এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যারা কেন্দ্রে গিয়েও ভোট দিতে পারেননি, এটা তাদের ব্যর্থতা বলে দাবি করেন ইসি কবিতা খানম। তিনি বলেন, “এবারের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘ভোটার হয়ে ভোট দেব, দেশ গড়ায় অংশ নেব’ এ প্রতিপাদ্যের মধ্যে একটা স্পিরিট আছে, ফোর্স আছে। নিজের অধিকারকে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে হয়। অন্য কেউ এসে আপনার অধিকারকে প্রতিষ্ঠা করে দেবে না। শুধু এটুকু বললেই হবে না যে, আমি ভোট দিতে গিয়ে দিতে পারিনি, এটা আপনার (ভোটার) ব্যর্থতা। ভোটার হবেন, ভোটকেন্দ্রে যাবেন এবং নিজের অধিকার স্বাধীনভাবে প্রতিষ্ঠা করার সর্বাত্মক চেষ্টা নেবেন।”

এদিকে ঢাকা-১০ আসনের উপনির্বাচনে পরীক্ষামূলক প্রচার কার্যক্রম সফল হলে বিধি পরিবর্তন করা হবে বলে জানিয়েছেন সিইসি। নুরুল হুদা সাংবাদিকদের বলেন, ‘পরীক্ষামূলকভাবে আমরা শুরু করেছি। পোস্টার লাগানোর জন্য জায়গা নির্ধারণ করে দিয়েছি। আমরা বলেছি যে, পাড়ায় পাড়ায় মাইক ব্যবহার করা যাবে না। আমরা বলেছি যে, পথসভাও সংকুচিত করতে হবে। এতে কাজ হলে বিধি পরিবর্তন করে সব নির্বাচনে এটা প্রয়োগ করব।’ তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকা সিটি করপোরেশনের আগের নির্বাচনে দেখেছি যে, পোস্টারে সয়লাব হয়ে যায়। অন্যান্য জায়গায়ও একই অবস্থা। মাইক ব্যবহার করায় শব্দদূষণ হয়। এগুলো আমরা প্রার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। তারা আমাদের সমর্থন দিয়েছেন। এটা ইতিবাচক বিষয়। তারা নির্ধিদ্বায় সম্মত হয়েছেন যে, যেভাবে মাইকিং ও পোস্টারিং হলো বিশেষ করে গত সিটি নির্বাচনে, এটা কাম্য নয়।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত