জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা শাবনূর কখন দেশে থাকেন আর কখন বিদেশে থাকেন তা বলা মুশকিল। অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ যাতায়াতের মধ্যেই থাকেন এই নায়িকা।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে স্বামী ও ছেলেকে নিয়ে বসবাস করেন শাবনূর- এই খবরই এতোদিন সবাই জানতেন। সিডনিতে ভাই-বোনসহ পরিবারের অন্য সদস্যরাও থাকেন।
তবে এরইমাঝে খবর প্রকাশ পেয়েছে স্বামী অনিকের সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটেছে এই নায়িকার। সাত বছর আগে অনিক মাহমুদের সঙ্গে বিয়ের পিঁড়িতে বসেছিলেন বাংলা চলচ্চিত্রের একসময়কার তুমুল জনপ্রিয় নায়িকা শাবনূর। এ দম্পতির রয়েছে এক পুত্রসন্তান। চলতি বছরের জানুয়ারিতে সেই সংসার ভেঙেছে বলে জানা গেছে।
গত ২৬ জানুয়ারি স্বামী অনিককে তালাক দিয়েছেন শারমীন নাহিদ নূপুর ওরফে শাবনূর। নিজের সই করা নোটিশটি অ্যাডভোকেট কাওসার আহমেদের মাধ্যমে স্বামীকে পাঠিয়েছেন তিনি। নোটিশে অনিকের সঙ্গে ‘বনিবনা হয় না’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
নোটিশের অনুলিপি অনিকের এলাকার আইন ও সালিশ কেন্দ্রের চেয়ারম্যান এবং কাজী অফিস বরাবরও পাঠানো হয়েছে। এই তালাক নোটিশে সাক্ষী রয়েছেন মো. নুরুল ইসলাম ও শামীম আহম্মদ নামে দুজন। শাবনূর বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় থাকেন। স্বামীকে তালাকের নোটিশ দেওয়ার বিষয়ে জানতে তাঁর অস্ট্রেলিয়ার ফোন নম্বরে কল করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
তবে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন তালাকের নোটিশ এবং হলফনামা প্রস্তুতকারী অ্যাডভোকেট কাওসার আহমেদ বলেন, ‘গত ২৬ জানুয়ারি অনিকের সঙ্গে বিবাহ বন্ধন ছিন্ন করেছেন শাবনূর। গত ৪ ফেব্রুয়ারি অনিকের উত্তরা এবং গাজীপুরের বাসার ঠিকানায় সেই নোটিশ পাঠানো হয়।
উত্তরার নোটিশটি ফেরত এলেও গাজীপুরের ঠিকানায় পাঠানো নোটিশ এখনো ফেরত আসেনি। নোটিশটি অনিক গ্রহণ না করলে এর মধ্যেই ফেরত আসত। তবে আইনগতভাবে তাঁদের এই তালাক কার্যকর হবে ৯০ দিন পর।’
তালাকের নোটিশে শাবনূর বলেছেন, ‘আমার স্বামী অনিক মাহমুদ হৃদয় সন্তান এবং আমার যথাযথ যত্ন ও রক্ষণাবেক্ষণ করেন না। সে মাদকাসক্ত। অনেকবার মধ্যরাতে মদ্যপ অবস্থায় বাসায় এসে আমার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়েছে। আমাদের ছেলের জন্মের পর থেকে সে আমার কাছ থেকে দূরে সরে থাকছে এবং অন্য একটি মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে আলাদা বসবাস করছে।
নব্বই দশকের শুরুতে পরিচালক ইহতেশামের হাত ধরে চলচ্চিত্রে আগমন ঘটে শাবনূরের। এরপর সালমান শাহ’র সঙ্গে জুটি গড়ে তুমুল আলোচনার জন্ম দেন। গত ২৬ বছর ধরেই নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছেন শাবনূর।
উল্লেখ্য, প্রয়াত নায়ক সালমান শাহ’র মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সমাপ্তি এখনো হয়নি। সম্প্রতি পিবিআই নতুন তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এই তদন্ত প্রতিবেদন জানিয়েছে, সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছিলেন। তাকে কেউ হত্যা করেনি।
পিবিআই জানিয়েছে, শাবনূরের সঙ্গে সালমানের প্রেম, স্ত্রী সামিরার সঙ্গে সালমানের দাম্পত্য কলহ, মা নীলা চৌধুরীর সঙ্গে নানা ঝামেলাসহ বেশ কিছু কারণে সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছেন।
এদিকে পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই সালমানের পরিবার, সালমানের স্ত্রী সামিরা ও চিত্রনায়িকা শাবনূরের পক্ষ থেকে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া পাওয়া গিয়েছে।
সালমানের মৃত্যু রহস্য নিয়ে আলোচনার মধ্যেই আবার খবর এলো নায়িকা শাবনূরের বিচ্ছেদের।
