নিজের ছেলের নির্যাতনে ‘নিরাপত্তাহীনতায়’ ভুগছেন এক মা। এ থেকে রেহাই পেতে সরকারের বিভিন্ন মহল ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো ফল পাননি তিনি। গতকাল বুধবার সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন সব অভিযোগ করেছেন সাহিদা রহমান (৭৬) নামে ওই বৃদ্ধা। এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সাহিদা রহমান বলেন, ‘রাজধানীর পল্লবী থানার ১০ নম্বর সেকশন, ১ নম্বর লেন, এ-ব্লকের ৬ নম্বর বাড়িতে আমাদের বসবাস। ২২ বছর আগে আমার স্বামী মারা যান। পৈতৃক ও ক্রয়সূত্রে বাড়ির ৮২ শতাংশের মালিকানাই আমার ছোট ছেলে হাফিজুর রহমান জুয়েলের। কিন্তু সে দীর্ঘদিন ধরে জার্মানিতে বসবাস করায় বিভিন্ন সময়ই বাড়িটি দখলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে বড় ছেলে আজিজুর রহমান। জুয়েলের অনুপস্থিতিতে একপর্যায়ে প্রায় পুরো বাড়িটিই দখলে নিয়ে নেয় আজিজ। এ কাজে বাধা দিতে গিয়ে তার হাতে বেশ কয়েকবার নাজেহালও হয়েছি আমি। এমনকি ছেলে ও ছেলের বউ ফরিদা বেগম মিলে এ নিয়ে আমাকে নির্যাতনও করেছে। আমি বৃদ্ধা জেনেও আমাকে ৬তলার একটি ফ্ল্যাটে থাকার ব্যবস্থা করেছে তারা, যা অমানবিক।’
আজিজের বিরুদ্ধে স্বাক্ষর নকল করার অভিযোগ এনে ভুক্তভোগী আরও বলেন, ‘জুয়েলের স্বাক্ষর নকল করে গ্রামীণফোনকে বাড়ির ছাদে টাওয়ার নির্মাণের অনুমতি দিয়ে প্রতি মাসে ভাড়া আদায় করছে আজিজ। এসব ঘটনায় আজিজের বিরুদ্ধে মামলা করার পর তাকে কারাগারে পাঠায় আদালত। গত ১২ ফেব্রুয়ারি জামিনে মুক্ত হয়ে বাসায় এসে আমার ওপর হামলা চালায় ও মারধর করে আজিজ। তা ছাড়া জুয়েল দেশে থাকায় মামলা তুলে নিতে তাকেও বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দিচ্ছে সে। এ ঘটনায় বাসার আশপাশে প্রায়ই অপরিচিত লোকজনের আনাগোনা চোখে পড়ে। এসব দেখে আমি আতঙ্কিত। এ অবস্থা থেকে রেহাই পেতে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’
