গ্রিসের জনাকীর্ণ শরণার্থী শিবিরে অবস্থানরত শিশুদের একটি অংশকে আশ্রয় দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে জার্মানি। গতকাল সোমবার জার্মান কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইউরোপের অন্য যেসব দেশ শিশুদের আশ্রয় দিতে আগ্রহী, সেসব দেশ নিয়ে গড়া জোটের অংশ হিসেবে শিশুদের দায়িত্ব নিতে চান তারা।
জোট সরকারের সঙ্গীদের সঙ্গে গ্রিস সীমান্ত সংলগ্ন শরণার্থী শিবিরগুলোতে সৃষ্ট মানবিক সংকট নিয়ে চ্যান্সেলর অ্যাগেলা মের্কেলের আলোচনার পর এই ঘোষণা দিয়েছে দেশটি। সম্প্রতি গ্রিসে প্রবেশে আগ্রহী শরণার্থীদের জন্য সীমান্ত খুলে দেওয়ার তুরস্কের ঘোষণার পর থেকে দেশটিতে অবস্থিত অনেক শরণার্থী গ্রিস সীমান্তে জড়ো হয়। তবে গ্রিক সরকার এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন তখন সাফ জানিয়ে দিয়েছিল যে, নতুন এই শরণার্থীদের জন্য ইউরোপের সীমান্ত খোলা হবে না।
শিশু শরণার্থীদের ক্ষেত্রে জার্মানি ঘোষণা দিয়েছে প্রাথমিকভাবে গ্রিক শরণার্থী শিবিরে অবস্থানরত জরুরি সহায়তা দরকার এমন এক থেকে দেড় হাজার শিশুকে শনাক্ত করা হবে। বিশেষ করে ১৪ বছরের কম বয়সী অভিভাবকহীন শিশুরা এবং জরুরি চিকিৎসা সহায়তা প্রয়োজন এমন শিশুদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। আর নীতিমালা অনুসারে মেয়েরা প্রাধান্য পাবে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
জার্মানির ক্ষমতাসীন জোট সরকারের অন্যতম শরিক দল সিডিইউর চেয়ার আনেগ্রেট ক্রাম্প-কারেনবাওয়ার জানিয়েছেন, ফ্রান্সও সম্ভবত শিশুদের নিতে আগ্রহীদের জোটের
অংশ হবে। তবে ইউরোপের অন্য কোন কোন দেশ এই জোটে থাকবে তা এখনো পরিষ্কার নয়। প্রসঙ্গত, সিরিয়ার ইদলিব রাজ্যে কিছুদিন আগে তুর্কি বাহিনীর সঙ্গে রাশিয়া সমর্থিত সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর সঙ্গে সংঘাত সৃষ্টি হলে তুরস্ক সীমান্তে শরণার্থীর সংখ্যা বেড়ে যায়। তুরস্ক ইতিমধ্যে ২০১৬ সালে ইইউর সঙ্গে এক চুক্তির আওতায় ৩৫ লাখের মতো সিরীয় শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে। আর এজন্য দেশটিকে কোটি কোটি ইউরো দিচ্ছে ইইউ। তবে ইইউ এই অর্থ সহায়তা আরও না বাড়ালে নতুন আগত শরণার্থীদের দেশটিতে আশ্রয় দেওয়া হবে না বলে জানান তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। কিন্তু ইইউর বিদেশনীতি বিষয়ক কাউন্সিল গত সপ্তাহে সাফ জানিয়েছে, কোনোরকম চাপের কাছে নতিস্বীকার করে তুরস্ককে বাড়তি পয়সা দেওয়া হবে না।
