মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে ‘সংশয় প্রকাশ’ ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে ‘কটূক্তির’ জেরে মানহানির অভিযোগে নড়াইলে করা এক মামলায় বৃহস্পতিবার বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে প্রথমে স্থায়ী জামিন দেয় হাইকোর্ট। জামিন প্রশ্নে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে এ রায় দেওয়া হলেও রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে দুপুর ২টার তা প্রত্যাহার (রিকল) করে নেয় আদালত।
বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি এএসএম আব্দুল মোবিনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। রুলের শুনানি সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন ছুটি শেষে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহের পর হবে বলে আদেশে বলে আদালত।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সামিরা তারান্নুম রাবেয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আদালত প্রথমে রুল যথাযথ ঘোষণা করে তাকে জামিনের রায় দিলেও, আবেদনে আমরা বলেছি আমাদের কাছে এ মামলার নথি নেই। এ নিয়ে আমরা শুনানি করতে চাই। এরপর আদালত তাদের রায়টি প্রত্যাহার করে নিয়ে জানান, রুল শুনানি সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন ছুটি শেষ হলে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহের পর হবে।’
বিএনপির চেয়ারপারসনের আইনজীবী কায়সার কামাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হাইকোর্ট প্রথমে রুল যথাযথ ঘোষণা করে বেগম খালেদা জিয়াকে জামিন দেয়। কিন্তু পরে সেটি রিকল করে আদালত।’
ঢাকায় একটি অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে ‘সংশয়’ প্রকাশ ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ‘কটূক্তির’ অভিযোগে ২০১৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর নড়াইল সদর আমলি আদালতে মামলাটি করেন জেলার নড়াগাতী থানার চাপাইল গ্রামের এক ব্যক্তি। ২০১৮ সালের ৫ আগস্ট এ মামলায় নড়াইলের আদালতে খালেদা জিয়ার জামিনের আবেদন নামঞ্জুর হয়। এরপর জামিন চেয়ে একই বছরের ৯ আগস্ট হাইকোর্টে আবেদন করেন খালেদা জিয়া। ১৩ আগস্ট তাকে এ মামলায় অন্তর্বর্তীকালীন (ছয় মাস) জামিন দিয়ে জামিন প্রশ্নে রুল জারি করে হাইকোর্ট। এরপর তার জামিনের মেয়াদ কয়েক দফায় বাড়ানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রুল যথাযথ ঘোষণা করে রায় দেয় হাইকোর্ট।
বিএনপির চেয়ারপারসনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জেষ্ঠ আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী। আরো ছিলেন আইনজীবী কায়সার কামাল।
