পনেরো বছরের ক্লাব ক্যারিয়ারে মুশফিকুর রহিম প্রথমবার গায়ে জড়িয়েছেন আবাহনী লিমিটেডের জার্সি। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের হয়ে অভিষেকটাও দারুণ হয়েছে এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যানের। রবিবার সেঞ্চুরি করে দলকে উপহার দিয়েছেন দারুণ এক জয়। হয়েছেন ম্যাচসেরা।
তবে দলকে জিতিয়ে মুশফিক সাংবাদিকদের বলেছেন, এক সময় আবাহনীর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবকে সাপোর্ট করার কথা।
ক্রিকেট, ফুটবল কিংবা হকি। দেশের ক্লাব ক্রীড়া মানেই আবাহনী-মোহামেডান দ্বৈরথ। সময়ের পরিক্রমায় আধুনিক সময়ে সেই দ্বৈরথ, বিশেষ করে দর্শক উন্মাদনায় ভাটা পড়েছে বেশ খানিকটা। কিন্তু সাম্প্রতিক অতীতও বলে ভিন্ন কিছু।
মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে ম্যাচের পর মুশফিক যেমন বলছিলেন, ‘আবাহনী-মোহামেডান...। স্বাভাবিক, আমরা অনেক গল্পও শুনেছি। যে টিমটা হেরে যেতো, কখনো সেই টিম সন্ধ্যা বা রাত হয়ে যেতো, কিন্তু বের হতে পারত না। এমন দর্শক সাপোর্টাররা আসতো।’
‘সেই হিসেবে হয়তো আমাদের সে রকম সৌভাগ্য হয়নি। কারণ এখন আন্তর্জাতিক ম্যাচ এতো সহজভাবে আমাদের দর্শকরা দেখেন। তাদেরও হয়তো লিগের জন্য আলাদা সময় করা কঠিন হয়ে যায়।’
দর্শক উন্মাদনার সেই সময়টাতেই মুশফিক মোহামেডানের সাপোর্টার ছিলেন বলে অকপটে জানান, ‘আমি আসলে মোহামেডানের সাপোর্টারই ছিলাম।’
কিন্তু সেই মোহামেডানের সাপোর্টার মুশফিকের দুর্বলতা এখন আবাহনীর প্রতি, ‘কালেভদ্রে যখন দেখলাম, তারা (আবাহনী) টপ টিম, সেটা ফুটবল বলেন বা ক্রিকেটে। সব সময় তারা চ্যাম্পিয়ন দল গড়ে, সব সময় তারাই চ্যাম্পিয়ন হয়। ধীরে ধীরে আবাহনীর প্রতিই আমার দুর্বলতা।’
পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে হয়তো সব সময় নির্দিষ্ট কোনো ক্লাবের প্রতি দুর্বলতার কথা কেউ বলতে চান না। তবে এদিন সেঞ্চুরির পর মুশফিক হাসিমুখে মনের সব কথাই বলেন, ‘সাপোর্টার হিসেবে আপনি চাইবেন, এমন একটা দলকে সাপোর্ট করতে যারা চ্যাম্পিয়নশিপ বা জেতার ভেতরে থাকে।’
প্রিমিয়ার লিগের উদ্বোধনী দিনে আবাহনী ৮১ রানে হারিয়েছে পারটেক্স স্পোর্টিং ক্লাবকে। ম্যাচসেরা মুশফিক খেলেন ১২৭ রানের ইনিংস। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে নিজের দ্বাদশ সেঞ্চুরি পাওয়া মুশফিকের ১২৪ বলের ইনিংসে ছিল ১১ চার ও ৪ ছক্কা।
