অভিনয়জীবনের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং চরিত্র তিতুমীর

আপডেট : ১৭ মার্চ ২০২০, ১১:২৮ পিএম

ঐতিহাসিক চরিত্র ‘তিতুমীর’ হয়ে বড় পর্দায় আসছেন চিত্রনায়ক নিরব। মুক্তি পেয়েছে এ সিনেমার প্রথম লুক। এই সিনেমা ও সমসাময়িক বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন মাসিদ রণ

‘তিতুমীর’-এর প্রথম দর্শনে সাড়া...

‘তিতুমীর’-এর শ্যুটিং শুরু হতে এখনো মাসখানেক বাকি আছে। তার আগেই সিনেমায় আমাকে কেমন দেখা যাবে, সে সম্পর্কে ধারণা দিলেন পরিচালক ডায়েল রহমান। গত পরশু সিনেমার ফার্স্ট লুক প্রকাশ করেছি। অন্য সিনেমার ক্ষেত্রে এত চাপে থাকি না। কিন্তু এটি যেহেতু ঐতিহাসিক চরিত্র, তাই সংশয় ছিল দর্শক কীভাবে গ্রহণ করে। কারণ, ঐতিহাসিক চরিত্র নিয়ে সিনেমা করতে গেলে চরিত্রের লুক খুব গুরুত্বপূর্ণ। কথায় আছে না, প্রথমে দর্শকধারী, তারপর গুণবিচারি। দর্শক প্রথমে অভিনেতার লুককে চরিত্রটির আসল লুকের সঙ্গে মিলিয়ে দেখে। পরিচালক ডায়েল রহমান ইতিহাসের ছাত্র ছিলেন। সে কারণে কিছুটা সুবিধা হয়েছে। সেদিক থেকে আমরা সফল বলতেই পারি। এ পর্যন্ত তেমন কোনো নেতিবাচক কথা শুনিনি ফার্স্ট লুকের জন্য। সবাই এটি পছন্দ করেছে, আমাদের শুভকামনাও জানিয়েছে।

বন্দুক-কাণ্ড...

পোস্টারে আমার হাতে একটি বন্দুক দেখা যাচ্ছে। ১৮২২ সালের তিতুমীরের বন্দুকটি বেশ বড়ই ছিল। তেমন একটি বন্দুক তৈরি করতে গিয়ে বেশ বিপদে পড়েন পরিচালক। পুলিশ দেখলে যদি তাকে ধরে নিয়ে যায়, এই ভয়ে বন্দুকটি বানিয়ে বাসায় আনতে পারছিলেন না তিনি। বড় বন্দুক বলে লুকিয়ে আনার সুযোগও কম। পরে থানায় ফোন দিয়ে তাদের বিষয়টি জানানো হলে তারা আশ্বস্ত করার পর বাসায় আসেন তিনি।

শ্যুটিং শুরু...

এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে শ্যুটিংয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেভাবে এগোচ্ছি আমরা। কিন্তু দেশে করোনা নিয়ে যে আতঙ্ক শুরু হয়েছে, তাতে শ্যুটিং নিয়ে নতুন করে ভাবতে হতে পারে। ‘তিতুমীর’ সিনেমার চিত্রনাট্য করছেন আবদুল্লাহ জহির, সংলাপ লিখছেন ছটকু আহমেদ এবং লাইনআপ করছেন ঢাকার জাকারিয়া সৌখিন ও কলকাতার প্রদীপ কুমার বসাক। বাঁশের কেল্লার অংশ দিয়ে সিনেমাটির শ্যুটিং শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগেই এর নায়িকাসহ অন্যান্য শিল্পীর নাম ঘোষণা করা হবে।

আপ্লুুত নীরব...

একজন অভিনেতার জীবনে এ ধরনের চরিত্রে অভিনয় করা নিঃসন্দেহে অসাধারণ ঘটনা, ইতিহাসের অংশ হয়ে যাওয়া। সে ধরনের চরিত্রে এবার সুযোগ পেয়েছি। তবে ভয়ও পাচ্ছি। কারণ, এটি ঐতিহাসিক চরিত্র। সেই সময়কে ফুটিয়ে তোলা কম কঠিন নয়। এর কাজ শুরুর পরিকল্পনার পর আবার নতুন করে সব জানার চেষ্টা করছি, পড়ছি। আপ্রাণ চেষ্টা থাকবে চরিত্রটি সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলার। কারণ, এটি এখন পর্যন্ত আমার অভিনয়জীবনের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং চরিত্র। সিনেমাটির জন্য ঢাকার পূর্বাচলে প্রায় সাত হাজার বাঁশ দিয়ে প্রায় ৪০ বিঘা জমির ওপর বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করা হচ্ছে। পাশেই সে সময়কার পরিবেশ তৈরি করতে একটি মাটির গ্রামও তৈরি করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত