বাফুফে নির্বাচন পেছানোর আহ্বান

আপডেট : ২০ মার্চ ২০২০, ০৩:৪৮ এএম

করোনাভাইরাস বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ছড়িয়ে পড়ায় একটা দমবন্ধ পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। দেশের ক্রীড়াঙ্গনও পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে। স্থগিত হয়ে গেছে ফিফা ও এএফসির সব খেলা। এ অবস্থায় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের নির্বাচন ২০ এপ্রিল না করে পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন বাফুফের দুই সহ-সভাপতি বাদল রায় এবং মহিউদ্দিন আহমেদ মহি।

বাফুফে নির্বাচন সামনে রেখে বর্তমান সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন নেতৃত্বাধীন পক্ষের বিপরীতে অবস্থান নিয়েছেন বাদল এবং মহি। বাদল রায় এর মধ্যেই সভাপতি পদে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে নির্বাচনের পরিবেশ বিঘিœত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তিনি। তিনি মনে করেন, সরকারের পক্ষ থেকে এখন যেকোনো ধরনের জনসমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু নির্বাচনে একটি বড় জমায়েতের সম্ভাবনা থাকে। সবাইকে যখন যে যার বাড়িতে অবস্থান করার পরামর্শ দিচ্ছে সরকার, তখন বিভিন্ন জেলা থেকে কাউন্সিলরদের ঢাকায় এসে ভোট প্রদান করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করেন বাদল রায়, ‘আমি সব সংগঠকের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি করোনাভাইরাস প্রতিরোধে আপনারা একযোগে কাজ করুন। মানুষকে সচেতন করতে হবে। সামনে ফুটবল ফেডারেশন নির্বাচন। আমরা দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করছি ফুটবলে একটা সুদিন আসবে। নির্বাচনের মাধ্যমেই সেই সুদিন আসবে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনের প্রাক্কালে করোনাভাইরাস আমাদের কিন্তু দারুণভাবে উদ্বিগ্ন করছে। তাই ফুটবল ফেডারেশনকে অনুরোধ করব প্রয়োজনে একটা জরুরি সভা ডাকার, আহ্বান জানাব নির্বাচন স্থগিত করা কিংবা এ বিষয়ে আলাপের জন্য।’

ফিফার নির্দেশনা অনুযায়ী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের একটা বাধ্যবাধকতা রয়েছে বাফুফের। তাই নির্বাচন পেছাতে হলে ফিফার অনুমতির প্রয়োজন হবে। বাফুফে সভাপতির সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার উল্লেখ করে বাদল রায় বলেন, ‘বাফুফে নির্বাচন পেছাতে পারবে না। ফিফা-এএফসির ক্লিয়ারেন্স লাগবে। আমার মতে নির্বাচন পেছানো উচিত, কারণ আমাদের এখন মানুষের পাশে দাঁড়ানো উচিত।’ একই দিন বাফুফে সভাপতির কাছে চিঠি দিয়ে নির্বাচন পেছানোর আবেদন করেন আরেক সহ-সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ মহি।

তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ বলেন, ‘এখন পর্যন্ত বাফুফে ২০ এপ্রিল নির্বাচন সামনে রেখে সব প্রস্তুতিমূলক দাপ্তরিক, প্রশাসনিক কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে। ইতিমধ্যে সব সদস্য, সংস্থার কাছে এজিএম আয়োজন সংক্রান্ত সভাগুলোর নোটিস পাঠানো হয়েছে। প্রতিনিধিদের আহ্বান করার জন্য যে নিবন্ধন ফরম রয়েছে সেগুলো সব সদস্য, সংস্থার কাছে পাঠিয়েছি এবং অন্যান্য যে দাপ্তরিক কাজ আছে সেগুলো কম্পাইল করছি। একই সঙ্গে আমরা এটাও দেখছি যে করোনাভাইরাস সংক্রান্ত উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কোন জিনিসটা করলে ভালো হবে। আমাদের যথোপযুক্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত