রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় প্রবাসীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করার কাজ শুরু করেছে পুলিশ।
গত কয়েক দিন ধরে সচেতনতা সৃষ্টি ও আইনানুগ শাস্তির বিষয় উল্লেখ করে উপজেলার সর্বত্র ব্যাপক হারে মাইকিং করা হলেও তাতে প্রবাস ফেরত স্থানীয়রা কর্ণপাত না করায় প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে মাঠে নামে পুলিশ।
প্রবাস ফেরত ব্যক্তিদের তালিকা ধরে ধরে শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সচেতনতামূলক পরামর্শ প্রদান ও স্টিকার লাগানোর কার্যক্রম শুরু হয়। বিকেল ৪টা পর্যন্ত এভাবে ৩৫ জন প্রবাসীর বাড়িতে পৌঁছাতে পারে পুলিশ।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি আশিকুর রহমান, ওসি (তদন্ত) আব্দুল্লাহ আল তায়াবীরসহ থানা-পুলিশের একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করেন।
এ বিষয়ে ওসি আশিকুর রহমান বলেন, শুধু শাস্তির ভয় দেখিয়ে মানুষকে সঠিক লাইনে আনা অনেক ক্ষেত্রেই কষ্টকর। তাই এ ক্ষেত্রে নিজেরাই ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও প্রবাসীদের বাড়ি বাড়ি যাওয়া শুরু করেছি। প্রবাসী ব্যক্তি ছাড়াও পরিবারের অপর সদস্য ও প্রতিবেশীদের করোনার বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছি। সেই সঙ্গে প্রবাসী ব্যক্তির হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করে অন্যদের বোঝার জন্য তার ঘরে একটি স্টিকার লাগিয়ে দিয়ে আসছি। এ কাজ চলতে থাকবে।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুবায়েত হায়াত শিপলু জানান, সরকারিভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ১ মার্চ থেকে ১৯ মার্চ পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ১০৮ জন ব্যক্তি গোয়ালন্দে ফিরেছেন। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী এদের প্রত্যেকের বাধ্যতামূলক ১৪ দিন করে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার কথা। আমরা এ লক্ষে সচেতনতার জন্য মাইকিংসহ নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। কিন্তু বৃহস্পতিবার পর্যন্ত স্বেচ্ছায় হোম কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন মাত্র ৫ জন। শুক্রবার এ সংখ্যা বেড়ে ৪০ জন হয়েছে। বাকিদেরও কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা হবে। তবে এখনো পর্যন্ত কেউ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হননি।
তিনি বলেন, তবে ইতিমধ্যে যাদের ১৪ দিন পার হয়ে গেছে এবং আক্রান্ত হননি তাদের ক্ষেত্রে আর কোয়ারেন্টাইন প্রয়োজন নেই।
