দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন আরও তিনজন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ নিয়ে গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ২০ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া আইসোলেশনে ৩০ ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে আছেন আরও ৪৪ জন। গতকাল বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা এসব তথ্য জানান।
ডা. নাসিমা বলেন, ‘নতুন আক্রান্ত তিনজনের মধ্যে একজন নারী ও দুজন পুরুষ। আক্রান্ত নারীর বয়স ৩০ বছর। পুরুষ দুজনের মধ্যে একজনের বয়স ৩০ ও অন্যজনের ৭০ বছর। ৭০ বছর বয়সী ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। তিনি অন্যান্য দুরারোগ্য ব্যাধিতে ভুগছেন। তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আক্রান্ত নারীর মৃদু সংক্রমণ
হয়েছে। ত্রিশোর্ধ্ব পুরুষ রোগী ইতালি থেকে এসেছেন। বাকি দুজন ইতালিফেরত একজনের সংস্পর্শে এসেছিলেন।
তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ৭ হাজার ২৩৬ জনকে স্ক্রিনিং করা হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরে ২২১, তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৩ হাজার ১৬৯ এবং স্থলবন্দরগুলোতে স্ক্রিনিং করা হয়েছে ৩ হাজার ৮৫৬ জনকে। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) হটলাইনে কল করেছেন ২ হাজার ৪১৭ জন। স্বাস্থ্য বাতায়নে কল এসেছে ২৯ হাজার ৯৬২টি। ৩৩৩ নম্বরে কল এসেছে ১ হাজার ৩২০টি। আইইডিসিআর থেকে সেবাগ্রহণ করেছেন ৫০ জন। নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৩৬ জনের।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, কুর্মিটোলায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল যে দুজন মারা গেছেন, তাদের করোনাভাইরাস সম্পর্কিত পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এসেছে, অর্থাৎ তারা করোনায় আক্রান্ত ছিলেন না। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
আজ ঢাকা-১০ আসনসহ তিনটি সংসদীয় আসনে উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। এর মধ্যে ঢাকা-১০ আসনে ভোট হচ্ছে ইভিএমে।
সামাজিকভাবে এখনো করোনা সংক্রমণ ঘটেনি : দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এখনো ব্যক্তি ও পারিবারিক পর্যায়েই সীমাবদ্ধ রয়েছে অর্থাৎ সামাজিকভাবে তা এখনো ছড়িয়ে পড়েনি বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা। তিনি বলেন, ‘এ নিয়ে জনগণের দুশ্চিন্তা বা আতঙ্কগ্রস্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই। এ রোগটি যেন ছড়িয়ে পড়তে না পারে সে লক্ষ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সমাজের সর্বস্তরের মানুষ সচেতন থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরামর্শ মেনে চললেই সংক্রমণ এড়িয়ে সুস্থ থাকতে পারবেন।’
নির্দেশনা না মানলে কঠোর ব্যবস্থা : করোনাভাইরাস নিয়ে সরকারের দেওয়া পরামর্শ না মানলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা। তিনি বলেন, ‘বিদেশ থেকে এলে অবশ্যই ১৪ দিন বাসার একটি নির্দিষ্ট কক্ষে অবস্থান করতে হবে। ঘরের বাইরে যাবেন না। আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী কারও সঙ্গে দেখা করবেন না। পরিবারের যারা আছে, তাদের সঙ্গেও কন্টাক্ট (সংস্পর্শ) হয় এরকম কিছু করবেন না। খাবারও ঘরের ভেতরে খাবেন। তাদের ব্যবহার করা জিনিসও অন্যদের থেকে আলাদা রাখতে হবে। আলাদাভাবে পরিষ্কারের ব্যবস্থা করতে হবে। এগুলো মানলে সবাই নিরাপদ থাকবে। সবাই সুস্থ থাকার স্বার্থে এগুলো মেনে চলতে হবে। এ পরামর্শ কেউ না মানলে সরকার অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা নেবে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জায়গায় জরিমানা করা হয়েছে। একটি এলাকা লকডাউন করা হয়েছে। এরপরও লোকজন সচেতন না হলে সরকার আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে।’
