উত্তরখানে পুলিশের বিরুদ্ধে পিটিয়ে মেরে ফেলার অভিযোগ

আপডেট : ২২ মার্চ ২০২০, ১২:০২ এএম

রাজধানীর উত্তরখানের চামুরখান এলাকায় মনিরুজ্জামান হাওলাদার মনির (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে পুলিশ বাসা থেকে ধরে ছাদে নিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলার অভিযোগ করেছে তার পরিবার।

শনিবার ভোর ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক দুপুরে মৃত ঘোষণা করেন।

তবে উত্তরখান থানা-পুলিশ দাবি করেছে, মনিরুজ্জামান ভয়ে স্ট্রোক করে মারা গেছে। তাকে আঘাত করা হয়নি। তার মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গে রাখা হয়েছে।

নিহতের ছোট ভাই মিলন হাওলাদার জানায়, তার বড় ভাই মনিরুজ্জামান চামুরখান নিজের চারতলা বাসায় থাকত। তার বাসাতে ভাড়া থাকত জয়নাল আবেদীন ও তার পরিবার। তাদের বাসার পাশের বাসার ঊর্মি নামের এক মেয়ের সঙ্গে জয়নাল আবেদীনের ছেলে জহুরুলের বিয়ে হচ্ছিল শুক্রবার। অনুষ্ঠান হচ্ছিল মনিরুজ্জমানের বাসায়। বিয়ের জন্য রান্না হয়। লোকজনের খাওয়া শেষের দিকে। এমন সময় সোহেল নামের এক ছেলে বিয়ে বাড়িতে আসে এবং বলে মেয়ের সাথে তার পাঁচ বছর যাবৎ সম্পর্ক ছিল। এ বিষয় নিয়ে হট্টগোল শুরু হয়। পরে মনিরুজ্জামান কনে ঊর্মির পরিবারের সঙ্গে কথা বলে এবং সোহেলের সাথে বিয়ে দিতে রাজি হয়।

মিলন আরও জানায়, বিয়েতে ছেলের পরিবারের অনেক টাকা খরচ হয়েছে। টাকা নিয়ে সোহেলের পরিবারকে বাসায় আসার জন্য খবর দিতে বলে। খবর পেয়ে উত্তরখানের বাসায় আসে সোহেলের বোন ও ভগ্নিপতি। সোহেলের বোন ও ভগ্নিপতির সাথে মেয়ের পরিবারের কথা হয় এবং তারা দুই পরিবারই রাজি হয়। কিন্তু এক লাখ টাকা দেবে বলে জানায়। রাতে সোহেল ও তার বোন চামুরখানের বাসায় থাকে। ভোরে উত্তরখান থানা থেকে প্রায় ২৫/২৬ জন পুলিশ তাদের বাসায় আসে। পুলিশ জানায় কাছে অভিযোগ আছে, বাসায় পাঁচজনকে আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে এবং মারধর করা হয়েছে। পুলিশ তিনজনকে আটক করে এবং মনিরুজ্জামানকে মারতে মারতে চার তলার ছাদে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর পুলিশ তাদের জানায়, সে স্ট্রোক করেছে। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে মারা যায়। পরিবারের অভিযোগ পুলিশ ছাদে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে তাকে।

উত্তরখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন বলেন, ভোরে থানায় খবর আসে উত্তরখান চামুরখানের একটি বাসায় পাঁচজনকে আটক রেখে মারধর করছে এবং মুক্তিপণ দাবি করছে। এমন সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। এবং সেখান থেকে রায়হান, রাশিদুল ও রাজীব নামের তিনজনকে আটক করে।

ওসি আরও বলেন, মৃত ব্যক্তি আসামি নয়। সে দৌড়ে পালানোর সময় পড়ে গিয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে মারা যায়। মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি বলেন, তার গায়ে কোন আঘাত করা হয়নি। সে পরে গিয়ে স্ট্রোক করেছে।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত