গতকাল যুক্তরাজ্য থেকে এসেছে ৮৯ জন

যেকোনো মুহূর্তে সব বিমানবন্দর শাটডাউন

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০২০, ০৬:৩০ এএম

বাংলাদেশে করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় প্রতিদিনই কমছে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আকাশপথে যোগাযোগ। ফ্লাইট সংখ্যা কমতে কমতে গতকাল সোমবার মাত্র দুটি ফ্লাইটে ১৫৯ জন যাত্রী লন্ডন ও থাইল্যান্ড থেকে ঢাকা এসেছেন। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, করোনা নিয়ে বিশ্বব্যাপী যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে তাতে যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের সবকটি বিমানবন্দর।

ফ্লাইটের সংখ্যা প্রায় শূন্যের কোঠায় চলে আসায় বিমানবন্দরে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অনেকটা অলস সময় দিন কাটাচ্ছেন। গতকাল দুই ফ্লাইটে যারা দেশে এসেছেন তাদের কড়া নিরাপত্তার মধ্যে হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়। যাত্রীদের বাসার ঠিকানা নিয়ে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে অবহিত করে বিমানবন্দর কর্র্তৃপক্ষ।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্র্তৃপক্ষের (বেবিচক) এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, যেকোনো সময় দেশের বিমানবন্দরগুলো শাটডাউনের ঘোষণা আসতে পারে। নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ওঠানামায়। কয়েকদিন ধরে কঠোর মনিটরিং করা হচ্ছে। বেবিচকের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টরা একের পর এক বৈঠক করছেন। গতকাল সোমবার পর্যন্ত ১০ দেশ ও অঞ্চলের সঙ্গে বিমান যোগাযোগ বন্ধ করা হয়েছে। বর্তমানে শুধু থাইল্যান্ড, চীন, যুক্তরাজ্য ও হংকংয়ের সঙ্গে বিমান চলাচল রয়েছে। তিনি বলেন, গতকাল হংকংয়ে করোনা রোগীর সন্ধান পাওয়ার খবর বের হলেও সত্যতা পাওয়া যায়নি। বাকি তিনটি দেশেই করোনা রোগী আছে। আর এই কারণে যেকোনো সময় এসব দেশ ও অঞ্চলের সঙ্গেও আকাশপথের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাবে। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, এসব দেশ ও অঞ্চল থেকে আসা যাত্রীদের বিমানবন্দরে স্ক্রিনিং করে চিকিৎসকদের মতামত নেওয়া হচ্ছে। তারা নেতিবাচক মতামত দিলে লকডাউনের সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

কিছুদিন আগে বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর রহমান দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছিলেন, বর্তমানে যেসব দেশে ফ্লাইট চলাচল করছে সেগুলো অপেক্ষাকৃত কম ঝুঁকিপূর্ণ। তাই এ রুটে যাত্রী আসা-যাওয়া চালু রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। কোনো ফ্লাইটকে ঝুঁকি মনে হলে তা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিয়মিতভাবে করা হচ্ছে। গতকাল লন্ডন থেকে ৮৯ জন ও থাইল্যান্ড থেকে ৭০ যাত্রী এসেছেন। তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে তাদের হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। যাত্রীদের বাসা বা বাড়ির ঠিকানা রেখে তাৎক্ষণিক থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে।

বেবিচকের দুই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে জানান, করোনার প্রভাবে লোকসানে যাচ্ছে এয়ারলাইনসগুলো। বিমানের সিলেট বাদে সব অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। লন্ডনে মাত্র দুটি ফ্লাইট চলছে বিমানের। এসব ফ্লাইট কয়েকদিনের মধ্যে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। রিজেন্টের ফ্লাইটগুলো ৩ মাসের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বেসরকারি কয়েকটি এয়ারলাইনস অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে চলছে। তবে সেখানে যাত্রী নেই বললেই চলে। যেকোনো সময় এগুলোও বন্ধ হয়ে যাবে। তাহলে সবকটি বিমানবন্দরই শটডাউন করা ছাড়া কোনো উপায় নেই। বিশ্বের অনেক দেশের বিমানবন্দরই শাটডাউন করা হয়েছে। তারা আরও বলেন, অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের দেশের অবস্থা কিছুটা ভালো। ১৬ মার্চ দুপুর ১২টা থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত যুক্তরাজ্য ছাড়া ইউরোপের কোনো যাত্রী বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারবে না। এই তথ্য সংশ্লিষ্ট সব দেশ ও এয়ারলাইনসকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দরগুলোতে ভাইরাস সম্পর্কে এখনো সবাইকে সচেতন করা হচ্ছে। গতকাল যারা বাংলাদেশে এসেছেন তাদের আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যগত পরীক্ষা ছাড়া কারও আসার সুযোগই নেই। আগে দৈনিক ফ্লাইট ছিল ১২০, এখন সেটা ৪টিতে গিয়ে ঠেকেছে। সপ্তাহে ছিল ৪৪১টি ফ্লাইট। আর এখন কটি আছে তা সবাই জানেন। আর এসব কারণেই বিমানবন্দরগুলো শাটডাউন ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।

শাহজালাল বিমানবন্দরে কর্মরত এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ফ্লাইট কমে যাওয়ায় অলস সময় পার করছি। তবে আমাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অফিসে আসার পর পরিবারের সদস্যরাও থাকেন আতঙ্কে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত