করোনাভাইরাসের কারণে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত ৩১ মার্চ থেকে বাড়িয়ে আগামী ৯ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার পর শিক্ষার্থীরা যেন পড়াশোনার প্রস্তুতি বাসায় বসেই নিতে পারে সে ব্যবস্থা হিসেবে প্রাথমিক স্তর থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত ক্লাস কার্যক্রম অনলাইন এবং টেলিভিশনের মাধ্যমে পরিচালনা করবে। ইতিমধ্যে কিছু বিশ্ববিদ্যালয় এ কার্যক্রম শুরুও করে দিয়েছে। এদিকে অন্যদিকে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে এমনকি এই ছুটি আগামী ঈদুল ফিতর পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষাবোর্ডের কর্মকর্তারা।
গতকাল শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধূরীসহ মন্ত্রণালয়ের অন্য কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এক বৈঠকে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ৩১ মার্চ থেকে বাড়িয়ে আগামী ৯ এপ্রিল পর্যন্ত করার সিদ্ধান্ত হয়। ওই বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, ‘আগামী ৯ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে এবং শিক্ষার্থীরা অবশ্যই এই সময়ের মধ্যে বাইরে বের হবে না, বাসায় অবস্থান করবে।’
অন্যদিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় গতকাল এক প্রজ্ঞাপন জারি করে কিন্ডারগার্টেনসহ দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয় আগামী ৯ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করেছে।
কিন্তু এই ছুটি করোনা পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আরও কয়েক ধাপে বেড়ে ঈদুল ফিতর পর্যন্ত হতে পারে বলে জানা গেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মাহবুব হোসেন বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতি সহজে নিয়ন্ত্রণ হবে বলে মনে হচ্ছে না। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি ৩১ মার্চ থেকে বাড়িয়ে আপাতত ৯ এপ্রিল পর্যন্ত করা হলো। পরে এই ছুটি পরিস্থিতির ওপর বিবেচনা করে ঈদ পর্যন্তও গড়াতে পারে। তবে সেটা এখনো নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।’
এর আগে গত ১৬ মার্চ করোনাভাইরাসের কারণে ৩১ মার্চ পর্যন্ত স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলসহ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কোচিং সেন্টার বন্ধ ঘোষণা করে আদেশ জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এদিকে, করোনাভাইরাসের কারণে স্কুল বন্ধ থাকায় ‘সংসদ টেলিভিশন’-এর মাধ্যমিকের বিষয়ভিত্তিক শ্রেণি কার্যক্রম প্রচার শুরু হচ্ছে। এটুআইয়ের সহযোগিতায় কয়েকদিন পরীক্ষামূলকভাবে প্রচার করার পর আগামী ২৮ মার্চ থেকে পুরোদমে প্রচার করার প্রস্তুতি রয়েছে। যতদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে ততদিনই টেলিভিশনের মাধ্যমে পাঠদান কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে। দীর্ঘসময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলে বাসায় অবস্থান করেই ছাত্র-ছাত্রীরা যাতে ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারে সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই সংসদ টেলিভিশনে রেকর্ড করা শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে প্রতিদিন সাতটি করে প্রতি সপ্তাহে ৩৫টি ক্লাস প্রচার করা হবে। শিক্ষার্থীরা বাসায় বসেই টেলিভিশনে নিজ নিজ বিষয়ের ওপর অভিজ্ঞ শিক্ষকদের দেওয়া শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে।
এদিকে ছুটিকালীন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ গবেষণা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (বিডিরেন) সহযোগিতায় দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী-শিক্ষকরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ক্লাসে অংশ নেবেন। গত সোমবার ইউজিসিতে এক জরুরি বৈঠক শেষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। অন্যদিকে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, সাউদার্ন ইউনিভার্সিটিসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব তত্ত্বাবধানে শিক্ষার্থীদের অনলাইনের ক্লাস নিচ্ছেন।
