যমুনার চরাঞ্চলে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০২০, ০৯:৫৩ পিএম

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকারি বিধিনিষেধ অমান্য করে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পৌর এলাকাসহ ১৩টি ইউনিয়নের প্রায় সব হাট-বাজারে দোকানপাট খোলা রেখে বেচাকেনা চলছে। শহরে কিছুটা মানা হলেও গ্রামে একেবারেই মানা হচ্ছে না। উপজেলার সোনাতুনি ও গালা ইউনিয়নের যমুনার চরাঞ্চলের হাট-বাজারে এ অবস্থা সবচেয়ে বেশি লক্ষ করা গেছে।

গত শনিবার যমুনা নদীর চরে অবস্থিত সোনাতুনি ইউনিয়নের শ্রীপুর, ছোট চানতারা, বড় চানতারা, বানতিয়ার, কুরসি হাট-বাজার ঘুরে দেখা যায়, এসব হাট-বাজারে চা স্টল, মুদি দোকান, দর্জির দোকান, মাছের দোকান, সেলুন, হোটেল, সারের দোকান, কসমেটিকস দোকান, খইল-ভুসির দোকান, চাল-ডালের দোকান, ধান, গম, তেল ভাঙানো কল, হার্ডওয়্যারের দোকান, ওয়ার্কশপ থেকে শুরু করে সব ধরনের দোকান খোলা রয়েছে। এসব দোকানে আগের চেয়ে আরও বেশি গাদাগাদি করে ক্রেতারা সদাই ক্রয় করছে। লোকে সরগরম হয়ে উঠেছে এসব হাট-বাজার। চা স্টলে স্থানীয়দের সঙ্গে গার্মেন্টসফেরত শত শত শ্রমিক গা ঘেঁষে বসে একসঙ্গে চা-পান সিগারেট খাচ্ছে। এর মধ্যে ছোট চানতারা বাজারে তিনজন গ্রামপুলিশের দোকানও রয়েছে। পথেঘাটে আগের চেয়ে লোক সমাগম বেড়েছে। শিশুরা প্রখর রোদ উপেক্ষা করে মাঠে খেলাধুলা করছে। বড়রা একসঙ্গে অনেক মানুষ জটলা করে তাস খেলছে। এছাড়া এলাকায় সর্দি, কাশি ও ভাইরাস জ¦রের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। বিশেষ করে শিশুরা এসব রোগে বেশি আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। ফলে এসব এলাকায় করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।

এছাড়া বেতকান্দি, শ্রীফলতলা, ডায়া, শরিষাকোল, তালগাছি, বনগ্রাম, বাঘবাড়ি, পোতাজিয়া, খুকনি, আরকান্দি, নগরডালা, ভেড়াকোলা, কাশিপুর, বর্ণিয়া, পোরজনা, জামিরতা হাট-বাজার পুরোদমে চলছে। পৌর এলাকার দ্বারিয়াপুর, মাছ বাজার, কাঁচাবাজার, পুকুরপাড়, দরগাহপাড়া, রূপপুর, বাড়াবিল, নলুয়া, পাড়কোলাসহ বিভিন্ন এলাকার চা স্টলগুলো খোলা থাকায় সেখানে প্রচুর লোক সমাগম ঘটছে।

সোনাতুনি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান বলেন, দোকানপাট বন্ধ রাখার জন্য ও এলাকাবাসীকে ঘরে থাকার জন্য মাইকিং করা হয়েছে। কিন্তু এলাকার লোকজন ও দোকানদাররা তা কিছুতেই মানছেন না। ফলে চরমভাবে সরকারি নির্দেশ লঙ্ঘিত হচ্ছে। এ ব্যাপারে পুলিশ ও প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

শাহজাদপুর থানার ওসি আতাউর রহমান জানান, চরাঞ্চলের গ্রামে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার তেমন কোনো আশঙ্কা নেই। তারপরও এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মো. শামসুজ্জোহা বলেন, এটি অবশ্যই বিপজ্জনক। তাই প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত