সর্বশেষ ঘোষিত ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে অবনমন হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলের। চার ধাপ পিছিয়ে ১৩৪তম স্থানে এখন বাংলাদেশ। দীর্ঘ দিন আন্তর্জাতিক ফুটবলের বাইরে থাকায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের র্যাঙ্কিং থেকে ছিটকে যাওয়াটাও চোখ রাঙাচ্ছে।
বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দল সবশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে গেল বছর ২০ মার্চ। নেপালে অনুষ্ঠিত নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনাল ম্যাচটিতে ভারতের বিপক্ষে ০-৪ গোলে হারে তারা।
এরপর বয়সভিত্তিক ফুটবলের একাধিক আসরে খেললেও ছিল না জাতীয় দলের কোনো কার্যক্রম। স্বাভাবিকভাবেই সেই প্রভাব পড়েছে র্যাঙ্কিংয়ে।
ফিফার নিয়ম অনুসারে কোনো দেশ ১৮ মাস কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ না খেললে জায়গা হারাবে র্যাঙ্কিং থেকে। জাতীয় নারী দলের প্রধান কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন তাই আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন।
সংবাদমাধ্যমকে ছোটন বলেন, ‘এক বছর কোনো ম্যাচ না খেলাই র্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে পড়ার কারণ। এখন তালিকায় নাম রাখতে হলে আমাদের ফিফা উইন্ডো ব্যবহার করতে হবে। এই অবস্থায় আগামী ৬ মাসের মধ্যে আমাদের জাতীয় দলের ফিফা ম্যাচ খেলা প্রয়োজন। যদি তা সম্ভব না হয়, তবে আমরা র্যাঙ্কিং থেকে ছিটকে যাব।’
তবে করোনাভাইরাসের কারণে আপাতত বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনই স্থবির। বাংলাদেশের সামনে তাই সেই পথ আপাতত বন্ধই বলা চলে। বাফুফের উইমেন্স উইংয়ের চেয়ারম্যান ও ফিফা কাউন্সিলর সদস্য মাহফুজা আক্তার কিরনও মনে করিয়ে দিয়েছেন সেটিই।
সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘আমরা এই বছর কয়েকটি ফিফা উইন্ডো ব্যবহারের প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। কিন্তু এখন সবকিছু অনিশ্চিত। মার্চে একটি উইন্ডো হারিয়েছি, এপ্রিল উইন্ডোও অনিশ্চিত। এখন সামনে কি হয় সেটির জন্যই অপেক্ষা। আগস্ট এবং সেপ্টেম্বরে আমরা কিছু করতে পারি কিনা দেখতে হবে।’
কিরন জানান এ মাসে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ আয়োজন চূড়ান্ত ছিল। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে তা ভেস্তে গেছে।
সবশেষ প্রকাশিত র্যাঙ্কিংয়ে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোর মধ্যে ভারত দুই ধাপ এগিয়ে ৫৫তম স্থানে অবস্থান করছে। নেপাল দুই ধাপ পিছিয়ে আছে ৯৯তম স্থানে। এই দুই দেশের পর বাংলাদেশের অবস্থান। শ্রীলঙ্কা ১৪০তম ও মালদ্বীপের অবস্থান ১৪২তম। ভুটান আছে ১৫৪তম স্থানে।
গত বছর ১৩ ডিসেম্বর প্রকাশিত র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৩০তম। এর দুই বছর আগে ২০১৭ সালের ১৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ছিল ১০০তম স্থানে। যা তাদের সেরা র্যাঙ্কিং। মাঝে একবার জায়গাও হারিয়েছিল দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক ফুটবলে না থাকায়।
অর্থাৎ জাতীয় দলের খেলা না থাকায় র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ কেবল পেছাচ্ছেই। যার পেছনে বাফুফের সিনিয়র জাতীয় দল নিয়ে উদাসীনতাই একমাত্র কারণ।
