লোক সমাগমে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা উপেক্ষা করে কুড়িগ্রামের চিলমারীতে অষ্টমীর স্নানে অংশ নিয়েছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীর কয়েক হাজার পুণ্যার্থী। ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে সমবেত হয়ে স্নানে অংশ নেন তারা। একই সঙ্গে ওই স্থানে বসেছে মেলা। গতকাল বধুবার ছিল পুণ্য তিথি প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার গভীর রাত থেকে বিভিন্ন অঞ্চলের সনাতন ধর্মাবলম্বীর পুণ্যার্থীরা ব্রহ্মপুত্র পাড়ে সমবেত হয়ে স্নানে অংশ নেন। গতকাল সকালে চিলমারী থানা পুলিশ তীর্থস্থানে সমবেত বিভিন্ন জায়গায় ছত্রভঙ্গ করে দেওয়ার চেষ্টা চালায়। বর্তমানে করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে দেশব্যাপী সব ধরনের গণজমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাই এবার ব্রহ্মপুত্র তীরে অনুষ্ঠিতব্য অষ্টমীর স্নানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন।
জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী থেকে কানাই সরকার নৌকা নিয়ে সপরিবারে এসেছেন চিলমারীতে স্নানে। জলধর বর্মণ এসেছেন রাজারহাটের পাঠকপাড়া থেকে। তিনি জানান, এবার বুধবার অষ্টমীর স্নান অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অনেক বছর পর পর বুধবার অষ্টমী তিথি আসে। তাই আমরা এটাকে বুধা অষ্টমী বলে থাকি। এই তিথিতে স্নান বড় পুণ্যের। তাই পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে এসেছি।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন কমিটি চিলমারী শাখার সভাপতি ডা. সলিল কুমার সরকার জানান,পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে এবারের অষ্টমী স্নানে ৫ লক্ষাধিক পুণ্যার্থীর সমাগম ঘটত। করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে গণজমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় অষ্টমী স্নান ওভাবে অনুষ্ঠিত হয়নি। তবে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু পুণ্যার্থী স্নান করেছে।
চিলমারী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ব্রহ্মপুত্র তীরের প্রায় ৫ কিমি এলাকাজুড়ে আমাদের টহল অব্যাহত ছিল। এর মধ্যে যারা এসেছিল তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ ডব্লিউ এম রায়হান শাহ্ বলেন, অষ্টমী স্নানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে গণবিজ্ঞপ্তি, মাইকিং ও বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রচার করা হয়েছে। ব্রহ্মপুত্র তীরে যাতে মানুষ জমায়েত না হয়, সে ব্যাপারে চিলমারী থানার অফিসার ইনচার্জকে নজরদারি রাখতে হয়েছে।
