দেশে করোনাভাইরাসে আরও এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া নতুন করে আরও তিনজনের দেহে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। এ নিয়ে গতকাল বুধবার পর্যন্ত দেশে করোনাভাইরাসে ৬ জন মারা গেলেন এবং আক্রান্ত হয়েছেন ৫৪ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২৬ জন। করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল অনলাইন ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
দেশের বেশ কয়েকটি স্থানে কভিড-১৯-এর নমুনা পরীক্ষা শুরু হচ্ছে জানিয়ে জনগণকে বেশি বেশি পরীক্ষা করার আহ্বান জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘যারা সন্দেহজনক অবস্থায় আছেন তারা পরীক্ষা করিয়ে নিন। কারণ টেস্ট (পরীক্ষা) ছাড়া কিন্তু আমরা বুঝতে পারব না। আমি আহ্বান জানাচ্ছি, আপনারা বেশি বেশি করে টেস্ট করুন, নিজেরা সুরক্ষিত থাকুন।’
করোনাভাইরাস সম্পর্কিত গতকালের ব্রিফিংয়ে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা উপস্থিত ছিলেন না। ব্রিফিংয়ে যুক্ত হয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী নতুন আক্রান্ত তিনজন ও একজন মারা যাওয়ার তথ্য দিলেও তাদের বিস্তারিত তথ্য দেননি। মন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আরও একজন সুস্থ হয়েছেন।
ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের (এমআইএস) পরিচালক ডা. হাবিবুর রহমান। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনিও নতুন আক্রান্ত ও মৃতের বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারেননি। পরদিন (আজ) এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানান তিনি। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ১৫৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে জানিয়ে ডা. হাবিবুর বলেন, তাদের মধ্যে ৩ জনের দেহে কভিড-১৯ শনাক্ত হয়।
ডা. হাবিবুর রহমান আরও বলেন, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ৯ জনকে আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ৭৩ জন। এখন পর্যন্ত ৬০ হাজার ৪৭৬ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইন ও ২৩৪ জনকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ১৯ হাজার ৯২৯ জন কোয়ারেন্টাইনে আছেন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় স্থল, নৌ ও বিমানপথে দেশে প্রবেশ করেছেন ৩১৩ জন, তাদের প্রত্যেককেই স্ক্রিনিং করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বাতায়নের ১৬২৬৩ ও ৩৩৩ হটলাইনে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় কভিড-১৯বিষয়ক ৬৭ হাজার ৫০১টি কল করা হয়েছে। এ সময় আইইডিসিআরের হটলাইনে কল এসেছে ৩ হাজার ৯১১টি। এর মধ্যে কভিড-১৯ সংক্রান্ত ছিল ২ হাজার ৬৫৯টি। স্বেচ্ছায় চিকিৎসা ও পরামর্শ দেওয়া নিবন্ধনকৃত ডাক্তারের সংখ্যা ১০ হাজার ৮১২ জনে পৌঁছেছে। এই সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে এ পর্যন্ত ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৪৫০টি পিপিই বিতরণ করা হয়েছে।
মৃতদেহে ভাইরাস ২-৪ ঘণ্টা জীবিত থাকে : মৃতদেহে করোনাভাইরাস সম্ভাব্য ২-৪ ঘণ্টা জীবিত থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের (আইপিএইচ) ভাইরোলজিস্ট ডা. খন্দকার মাহবুবা জামিল। প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভাইরাস সাধারণত জীবিত প্রাণীর মধ্যে থাকে। মৃতদেহের মধ্যে ভাইরাস অবজেক্ট (বস্তু) যেমনভাবে থাকে, তেমনভাবেই থাকবে। মৃতদেহের মধ্যে ভাইরাস কতক্ষণ জীবিত থাকে এটা নির্দিষ্ট করে বলা যায় না, তবে সম্ভাব্য ২-৪ ঘণ্টা পর্যন্ত থাকতে পারে। এই সময়টা মেইনটেইন করেই মৃতদেহ থেকে আমরা স্যাম্পল সংগ্রহ করি। কেউ সত্যিই আক্রান্ত হয়ে থাকলে ভাইরাসের সিক্রেশনগুলো তার নাকের মধ্যে থাকবেই। সেটা হোক মৃত বা জীবিত। ভাইরাসটি মৃত হয়ে গেলেও নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করলে তা শনাক্ত করা যায়। কারণ নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে ভাইরাসের আরএনএ শনাক্ত করা হয়, জীবিত ভাইরাসকে নয়।
আরেক প্রশ্নের জবাবে মাহবুবা জামিল দেশে মৃদুপর্যায়ে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন (সামাজিক সংক্রমণ) হচ্ছে বলে জানান। তিনি বলেন, ‘যে পরিমাণ নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে, সেই তুলনায় খুব কম সংখ্যকই করোনাভাইরাসে পজিটিভ হচ্ছে। কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হলে এর সবগুলো বা আরও অনেক বেশি নমুনা পজিটিভ হতো। সুতরাং কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হচ্ছে কিন্তু তা মৃদু লেভেলে।’
