করোনার ভয়বাদিতা এবং অরূপের সন্ধান

আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০২০, ০৭:০৯ পিএম

সাম্প্রতিক সময়ে চীনের উহান শহর থেকে কোভিড-১৯ এর কারণে পৃথিবীব্যাপী নেমে এসেছে বিপর্যয়। ৫০ হাজারের বেশি মানুষ মৃত্যুকে বরণ করে নিয়েছে। বিশ্বময় জারি হয়েছে ভাইরাস আতঙ্ক। এই আতঙ্কের মধ্যে সৃষ্টি প্রাণ অনেক বেশি যন্ত্রণাকাতর হয়ে ওঠে এবং যন্ত্রণা লব্ধ দৃশ্যকল্প নির্মাণে ব্রতপালন করে। ঘরে ঘরে মরণ ভাইরাসের আতঙ্ক বা ভয়বাদিতা ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতায় কীভাবে শিল্প সৃষ্টিতে প্রভাব ও প্রেষণা তৈরি করেছে সেই বিষয়েই আলোকপাত করার চেষ্টা করেছি।

এই আতঙ্ক বা ভয়বাদিতায় মানবিক সভ্যতা গড়ার শক্তি অর্জন করছে মানুষ; আর তারই হাতিয়ার হয়ে জেগে থাকুক কবিতা, গল্প, গান অথবা চিত্রকর্ম। 

ভয় বা আতঙ্ক কি? ইহা কি আবিষ্কৃত না আরোপিত? হতে পারে তা সন্দেহজনক; হতে পারে প্রমাণ সাপেক্ষে আবার হতে পারে শ্রুতি বাক্য যা হঠাৎ করেই জনশ্রুতি- যা-ই হোক সাম্প্রতিক সময়ে আতঙ্কবাদ বা ভয়বাদিতা হচ্ছে সর্বময় গুরুত্বপূর্ণ একটি টপিক।

প্রথমে আমরা মনে করছি যে এটি মৃত্যুভয়, আসলে কি তাই? বিশ্বজুড়ে যে ভয় বিরাজ করছে তা কিন্তু মোটেও মৃত্যুভয় না, এটা হচ্ছে হারানোর ভয়। যাপিত জীবনে মানুষ যত কিছু অর্জন করেছে এবং যত স্বপ্ন দেখেছে তা হঠাৎ হারিয়ে যাবে কি না! সময়কে যত বেশি ধারণ করবার ইচ্ছা রয়েছে তা শেষ হয়ে যাবে কি না! প্রিয়জন হারিয়ে যাবে কি না! প্রিয় এবং মহৎ কাজগুলো আর সৃষ্টি হবে কি না! সর্বোপরি সর্বশেষ সভ্যতাটুকু আর দেখা হবে কি না! এই সকল কিছুই হচ্ছে ভয় বা আতঙ্কের অন্যতম উপসর্গ। এগুলো একদিকে ভয়ের ভাববাদিতা যা তৈরি করে দেয় আকাঙ্ক্ষা। তাই ভয় বা আতঙ্ক নিঃসন্দেহে একটি মানবিক ক্রিয়া।

আর অ্যারিস্টটল বলেছেন, ‘শিল্প একটি মানবিক ক্রিয়া, এক মানব হৃদয় থেকে অন্য মানব হৃদয়ে সঞ্চারিত করাই এর কাজ’।

আবার ভয় বা আতঙ্ক কোনো বায়বীয় বিষয় নয়; এটা এক ধরনের আইডিয়া বা ধারণা। সুতরাং ভয় বা আতঙ্কের সঙ্গে শিল্পের সম্পর্কটা খুব নিবিড়।

Fearlessness Movement  ব্লগে ভয়বাদিতা নিয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ গবেষণামূলক আর্টিকেল রয়েছে। সেখানে লেখক দেশ সুব্বা তার ""Knowledge is fear. Existence of fear precedes power. Is death of fear possible?" প্রবন্ধে উল্লেখ করেছেন যে, "Knowledge is fear and any kind of structure is constituted by fear. Existence of fear precedes power."

যার অনুবাদ- “জ্ঞান হলো ভয় এবং যে কোনো ধরনের কাঠামো ভয়ের দ্বারা গঠিত হয় এবং ভয়ের অস্তিত্ব শক্তির আগে।”

অর্থাৎ ভয় হচ্ছে জ্ঞান অর্জন প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ; ভয় থেকেই মানুষের মধ্যে শক্তি সঞ্চয়ের মনোবৃত্তি তৈরি হয় যার ফলে গতির সঞ্চারণ ঘটে জীবনকর্মে ও সমাজে। আর তাই তো ভয়বাদিতা শিল্পসৃষ্টির প্রেষণাকে অনুপ্রাণিত করে। আন্দোলিত করে সৃষ্টি চিন্তাকে।

গ্রিক ভাববাদী দার্শনিক প্লাটো সব সময়ই তার চিন্তার যৌক্তিকতার সঙ্গে পরম আত্মার সম্পর্ককে দৃঢ়তার সঙ্গে ব্যাখ্যা করেছেন। তার মতে “ধারণা (Idea) বা ভাব হচ্ছে একমাত্র সত্য এবং পরিদৃশ্যমান জগৎ যা সেই Idea-রই ছায়া বা প্রতিফলন।” আর সে কারণেই প্লাটো বলেছিলেন “Imitation is Art”| অর্থাৎ শিল্প হচ্ছে জগৎ ও  জীবনের  অনুকরণ। ভয়বাদিতাও হচ্ছে জগৎ ও জীবন সত্যের অনুকরণীয় গুরুত্বপূর্ণ পাঠ; যার ফলে ভয়বাদিতা বা আতঙ্কবাদিতা সৃষ্টি চিন্তাকে প্রভাবিত করে এবং সৃষ্টির নমুনা তৈরিতে সহযোগিতা করে থাকে যা বিষয়বাদী সৃষ্টি রূপকে পূর্ণমাত্রায় অবয়ব দান করে থাকে। আবার প্লাটোর শিষ্য অ্যারিস্টটল যদিও গুরুর এই দর্শনতত্ত্বের সঙ্গে একমত ছিলেন না। তিনি শুধুই অনুকরণ শব্দটির ঘোর বিরোধী এবং সেটাকে শিল্প বলতে নারাজি ছিলেন। তাঁর মতে শিল্প হচ্ছে জগৎ ও জীবনের আদর্শায়িত অনুকরণ। এখানে একটি শব্দ ব্যবহার করা খুবই যুক্তিযুক্ত এবং বোধ্যতাপূর্ণ; শব্দটি হচ্ছে ইংরেজিতে “Catharsis” যার অর্থ হচ্ছে হৃদয়াবেগের প্রশমন ঘটানো।  অর্থাৎ ভয়বাদিতা থেকে সৃষ্টিকর্ম নির্মিত হলে সেটাকে আমরা “Catharsis Art”- বলতে পারি যা হৃদয়াবেগের প্রশমন ঘটিয়ে চিন্তা এবং উপলব্ধিজাত ক্রিয়ার ভারসাম্য রক্ষা করে, যেটা সম্পূর্ণরূপে মানবিক একটি ধারা। আর শিল্প সৃষ্টির উৎস এবং উদ্দেশ্যও ঠিক তাই। উপলব্ধিজাত আবেগের দৃশ্যরূপ সৃষ্টির মধ্য দিয়ে আত্মার মুক্তি ঘটে এবং চিন্তার অবয়ব তৈরি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হৃদয়াবেগের প্রশমন ঘটে। সুতরাং ভয়বাদিতা থেকে যে শিল্প সৃষ্টি হয় সেটা “Catharsis Art”। আতঙ্কবাদ বা ভয়বাদিতা অনেক সময় প্রতিবাদী, কখনো হতাশাবাদী কখনো বা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, কখনো নৈরাশ্যবাদিতা, কখনো স্বপ্নবাদিতা বা প্রেমময়তা সর্বোপরি মানবিক আবেদন নির্ভর শিল্প সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে যেটা এক ধরনের কাব্য সত্য বা “Poetic Truth”। আসলে আমরা কখনো কখনো বৈজ্ঞানিক সত্যতার মধ্য দিয়ে আমাদের ধারণা “ভয়”-কে আমরা আবিষ্কার করে থাকি। আবার কখনো কখনো কাল্পনিক রূপকল্পের মাধ্যমেও ভয় চিন্তার অবয়বে অবস্থান করে থাকে। সত্যিকার অর্থেই ভয়বাদিতা প্রথমত মনস্তাত্ত্বিকভাবে নির্মিত হয় যা পরবর্তীতে মানবীয় গুণাবলিতে বিভিন্ন প্রভাব ফেলতে থাকে। সামাজিকভাবে যে “ভয়” নির্মিত হয় তা একধরনের সামাজিক আচরণ নির্মাণে প্রভাবিত করে থাকে; যেমন একদিকে বর্তমান সময়ে মানুষ মানুষের জন্য মানবিক হয়ে উঠেছে আবার এমন ঘটনাও ঘটেছে যে ব্লাডে ইনফেকশন হয়েছে অথচ করোনা সন্দেহে বিনা চিকিৎসায় তাকে মরতে হয়েছে যা সামাজিক ব্যাধির একটি রূপ। এই সকল রূপের মধ্য দিয়েই তো সৃষ্টি প্রাণ অরূপের সন্ধান করে চলে যেখানে আবেগের গতি আর রহস্য পাড়ি জমায় বাস্তবতার নিরীক্ষণে।

image

চিত্রকর্ম ১:  শিল্পী করোনা ভাইরাসের রূপ আলেখ্যে বিস্তৃতির অরূপ আতঙ্কের চিত্ররূপকে ধরার প্রচেষ্টা করেছেন। চিত্রপটজুড়ে যেন আতঙ্কের কক্ষপথ আর কোভিড-১৯ এর বিস্তারের দৃশ্যায়ন এখানে পৃথিবীজুড়ে মরণ কণা ধেয়ে আসছে এক অতল গহ্বর থেকে। উৎসস্থল থেকে ঘরকন্না ছড়িয়ে পরছে ভূপৃষ্ঠে আর সভ্যতার আলোক প্রভা নেভাতে মিশে যাচ্ছে শ্বাস-প্রশ্বাসে। বায়ুমণ্ডলের আস্তরে আস্তরে ব্যাপ্তিময় মরণ সভার খণ্ডিত রূপকাঠামোর অরূপসত্ত্বাকে শিল্পী আরোপ করেছেন এখানে প্রাণের নিষ্প্রাণ ভবিষ্যৎকে আবাহন করেছে।

করোনাা-১৯ চিত্রকর্মটি শিল্পী হীরা সোবহান তৈরি  করেছেন, চিত্রকর্মটি মনোপ্রিন্ট মাধ্যমে আঁকা। কোভিড-১৯ ভাইরাসটি বারবার জিন পরিবর্তন করতে পারে এবং যাকে শনাক্ত করা খুবই কষ্টসাধ্য আর তাই শিল্পী ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র জীবাণুকে পরীক্ষামূলক দৃষ্টিতে দেখার চেষ্টা করেছেন। শিল্পী সমকালীন সংকটে বিদ্যমান ভয়বাদিতা থেকে নীরিক্ষাপ্রবণ হয়েছেন যার ফলে তিনি অজানা জীবাণুর রূপ ও বিস্তার নিয়ে নির্মাণ করেছেন অরূপের আখ্যান।

image

চিত্রকর্ম ২: “Hold Your Breath” (নিশ্বাস ধরে রাখুন) চিত্রকর্মটি রাশিয়ান শিল্পী পাওলিনা সিনিয়াতকিনা ২০১৫  সালে এঁকেছেন। চিত্রকর্মটি আতঙ্ক বা ভয়বাদিতা থেকেই সৃষ্টি প্রেরণা লাভ করেছে। পুরো ক্যানভাসজুড়ে জনভয় আর আতঙ্ক বিরাজ করছে; অদ্ভুত সব দৃষ্টি যেন একটি নির্দিষ্ট রোগের আতঙ্কে ভালোবাসা, স্বপ্ন, সম্পর্কের সততা, বন্ধুত্ব, প্রত্যাশা সবকিছুকেই ম্লান করে দিয়েছে। চিত্রকর্মটিতে এক অন্ধকার চিন্তার রাজ্য নির্মাণ করা হয়েছে যা দেখলে মনে  হয় যেন রোগীর মনস্তাত্ত্বিক একটি প্রতিচ্ছবি; যেখানে হতাশা-ব্যর্থতা আর কলঙ্কের ভার বয়ে বেড়ানোর কষ্টের তীব্রতা ফুটে উঠেছে। শিল্পী পাওলিনা সিনিয়াতকিনা যক্ষ্মারোগে ৬ মাস ১৭ দিন মস্কোর একটি ক্লিনিকে ভর্তি ছিলেন। সেই সময়কার বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকেই চিত্রকর্মটি তিনি নির্মাণ করেছেন। “ভয়বাদিতা” চিন্তাদর্শনের রূপ, প্রতিরূপ এবং প্রভাবিত সমাজরূপের রূপাদর্শকেই প্রকাশ করে থাকে। চিত্রকর্মটি আমাদের আধুনিক বিশ্বসমাজ চিন্তার একটি সত্যাসত্য পাঠ্যরূপ। এ চিত্রকর্মটি ভয়হীন প্রত্যয়বাদিতাকে আবাহন করে এবং বিশ্বজুড়ে আতঙ্কের বিরুদ্ধে মনস্তাত্ত্বিক সংগ্রামের ইতিহাসকে জাগ্রত  করে।

image

চিত্রকর্ম ৩: অদ্ভুত এক চাহনি, সমস্ত আশা-আকাঙ্ক্ষা যেন চূর্ণ-বিচূর্ণ, অতঃপর আগত মৃত্যুকে যেন করবে আলিঙ্গন। মানুষের চিন্তা স্তরের একটি সামগ্রিক রূপ এই চিত্রকর্মে উপস্থাপিত হয়েছে। শিল্পী মিশ্র মাধ্যমে (যদিও চারকোল এ ব্যবহার বেশি) করোনা ভাইরাস ও মানবিক বিপর্যয়ের রূপকাঠামোকে দৃশ্যত এতটাই আবেদনময় করে তুলেছেন যেখানে একটি প্রতিকৃতি যেন বিশ্ব অন্তর কাঠামোর প্রতিবিম্ব হয়ে উঠেছে। শিল্পী ফারহানা ইয়াসমিন এর আঁকা এই চিত্রকর্মটির নাম হচ্ছে The Rolling Death-01 (ঘূর্ণমান মৃত্যু-০১)।

শিল্পীর চিত্রায়ণে যে ব্যাপারটি সবচেয়ে উপলব্ধিকর সেটি হচ্ছে সম্পূর্ণভাবে বিষয়ভিত্তিক ক্ষেত্র বা Subjective space নির্মাণ করা। এখানে করোনা আক্রমণ আর প্রতিরোধের জন্য মুখবন্ধনী বা মাস্ক লাগানোর অসহায় সমাধানকল্পটি গল্পের মতো হয়ে উঠেছে; কারণ বহুগামী শিকড়ের মতো মস্তক কণ্ঠ ভেদ করে বক্ষভেদ এর জন্য আরও শক্তিশালী  হয়ে উঠেছে সহস্রপদ ভাইরাস। চিত্রকর্মটিতে বাংলাদেশের একশত টাকার মাস্ক পরে ভয়ংকর কোভিড-১৯ এর সঙ্গে সংগ্রাম করে যাওয়া দৃঢ়চেতা মানুষের আতঙ্কবাদটা বেশ সাবলীলভাবে প্রকাশ পেয়েছে। কপালজুড়ে খানিকটা আলোর হাতছানি থাকলেও দর্শক চিন্তায় আতঙ্কের মৌলিক ভয়ের রূপকে শিল্পী তুলে এনেছেন সফলতার সঙ্গে। 

ভয় হচ্ছে উপলব্ধিজাত ধারণা যা নিশ্বাসের সঙ্গে মিশে যায়। অন্তর আত্মার ক্রিয়ায় অস্তিত্ব নির্মাণ করে বাস করতে থাকে। যা একবার বাস উপযোগী দেহকাণ্ড পেলে আর বাহির পানে আসতে চায় না। এটি এক ধরনের চেতনাবোধ তৈরি করে দেয় যা আচমকা দমকা হাওয়ার মতো সিদ্ধান্ত দান করতে থাকে। কখনো হাসে, কখনো কাঁদায়, কখনো দৌড়ায় আবার কখনোবা স্থির, জরাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। মানবদেহ এবং মানব চিন্তা আতঙ্ক বা ভয়বাদিতাকে লালন এবং পালনের জন্য খুবই উপযুক্ত আর তাই ভয় থেকেই শক্তি ও সৃষ্টির রূপ আন্দোলিত হয়; জীবন এবং সংগ্রামের বৈভবে বিকশিত হয় সুর, শব্দ বা রেখা যেথায় অভিযোজিত হয় কালের ঘটনাপ্রবাহ। ভয়বাদিতা সমাজের এমন একটি সত্য যা আমরা সব সময়ই অজান্তে লালন করার ভাবে থাকি কিন্তু প্রত্যেকের জীবনেই ভয় থাকে বিভিন্ন মাত্রায়। ভয় অনেক সময় অনুসন্ধিৎসু বা বিজ্ঞানমনস্ক করে তোলে, আবার কখনো ভয় থেকে মুক্তির জন্য প্রবল সাহসী করে তোলে, কখনো দানব, কখনো মানবিক করে তোলে। কখনো অরূপের সন্ধানে আবার কখনো সুর তোলে অসুরের বিরুদ্ধে।

লেখক দেশ সুব্বা (Desh Subba) তার ' Philosophy of Fearism' প্রবন্ধে উল্লেখ করেছেন যে, “আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাসের বাতাসে ভয় রয়েছে। ... ভয় চেতনা এবং শ্বাস এর সঙ্গে একসঙ্গে আসে।” তাই তো ভয়কে আবিষ্কার যেমন করতে হবে তেমনি “ভয়বাদিতাকে” জয় করার আপ্রাণ চেষ্টাও করে যেতে হবে যা বিশ্বমানব সমাজ করে যাচ্ছে। আর ভয়বাদিতা থেকে সৃষ্টি প্রাণ সভ্যতার প্রমাণরূপ নির্মাণ করেন এবং করে যাচ্ছেন যা সভ্যতার আলোকবর্তিকার মতো গণমানুষের চিন্তারাজ্যে অবস্থান করবে; সৃষ্টি সত্যেও এই মৌলিক উদ্দেশ্য সফল হোক, বিশ্বমানবতার জয় হোক।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত