‘কাহো হামাক কামত ডাকে না’

আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০২০, ১১:৫৪ পিএম

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সরকার সারা দেশ লকডাউন ঘোষণা করার পর থেকেই খেটেখাওয়া মানুষের কষ্ট বেড়েছে বহুগুণে। বিশেষ করে যারা দিন আনে দিন খায় এমন লোকদের কষ্টের শেষ নেই। এই বিচ্ছিন্ন অবস্থাতেও কাজের খোঁজে বের হয়েছেন অনেকেই। কিন্তু কোথাও কাজ না পেয়ে অনেকেই অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন।

গত বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় দিনাজপুর শহরের ষষ্ঠীতলায় বেশ কয়েকজন নারী-পুরুষের কাজ খোঁজার দৃশ্য চোখে পড়ে। পরিবারের সদস্যদের খাবার তুলে দিতেই করোনাভাইরাস প্রতিরোধের যে নিয়মকানুন সেগুলোর কোনো গুরুত্ব নেই এ অসহায় মানুষদের কাছে। সরকারিভাবে যে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে তাও পাননি তারা।

মরিয়ম বেগম রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। তিনি ছাদ ঢালাইয়ের কাজ খুঁজতে দিনাজপুর শহরের ষষ্ঠীতলায় অন্যদের মতো এসেছেন। কিন্তু কাজে নেওয়ার লোক নেই। সকাল থেকে দুই ঘণ্টা বসে থেকেও কোনো কাজ পাননি। তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী নেই। কাজ বন্ধ। খাব কী? কাজ না করলে খাওয়ার কোনো উপায় নেই। তাই বাধ্য হয়েই কাজে বেরিয়েছি কিন্তু কেউ কাজে ডাকছে না।’

মোহসেনা বেগমের পরিবারে প্রতিদিন তিন কেজি চাল লাগে। এই নারীরও স্বামী নেই। সংসার চালান তিনি ও তার ছেলে মিলে। বর্তমানে কাজ না থাকায় পড়েছেন চরম বিপাকে। এই নারী বলেন, ‘ঘরত চাউল নাই তাই কামত বেরাইছি কিন্তু কাহো হামাক কামত ডাকে না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত