ফেনী ও শরীয়তপুরে মৃত তরুণরা করোনা আক্রান্ত ছিলেন না

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২০, ০১:১৩ এএম

ফেনী সদরে গত বুধবার ও শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের আইসোলেশনে গত মঙ্গলবার রাতে মারা যাওয়া দুই তরুণ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন না। গতকাল শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সিভিল সার্জনরা।

ফেনীর সিভিল সার্জন ডা. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, বুধবার সদর উপজেলার পশ্চিম ছনুয়া এলাকার সুজা মিয়ার ছেলে মো. রিপন (৩০) মারা যান। সপ্তাহখানেক আগে থেকে তিনি জ¦র ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। তার মৃত্যুর পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ফেনী জেনারেল হাসপাতালে তার মৃতদেহের নমুনা সংগ্রহ করা হয় এবং ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসারে তাকে দাফন করা হয়। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশন ডিজিজ (বিআইটিআইডি) সেন্টারে নমুনা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর শুক্রবার সকালে তার শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছিল না বলে নিশ্চিত করা হয়।

তিনি আরও বলেন, জেলার চার উপজেলা থেকে আরও ছয় ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করে বিআইটিআইডিতে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন ছাগলনাইয়া, দুজন সোনাগাজী এবং বাকি দুজন সদর ও দাগনভূঞা উপজেলার বাসিন্দা। তারা বেশ কয়েক দিন ধরে জ্বর, সর্দি, কাশিতে ভুগছেন। স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে ওই ছয়জনের বাড়ির বাসিন্দাদের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার শহরের মাস্টারপাড়া এলাকার এক ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। সন্ধ্যা পর্যন্ত তার ফলাফল পাওয়া যায়নি।

শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন ডা. এস এম আবদুল্লাহ আল মুরাদ বলেন, ‘জ¦র, হাঁচি-কাশি ও শ^াসকষ্ট নিয়ে সদর হাসপাতালের আইসোলেশনে মঙ্গলবার রাতে মারা যাওয়া তরুণের শরীরে করোনাভাইরাস ছিল না। আজ (গতকাল) সকালে আমরা ঢাকার মহাখালীতে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর) পাঠানো তার নমুনা পরীক্ষার ফলাফল হাতে পাই।’

নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়ন্তী রুপা রায় জানান, ওই তরুণের আশপাশের পাঁচটি বাড়ি লকডাউন ও তার সংস্পর্শে আসা ২৩ ব্যক্তিকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছিল। আজ আইইডিসিআর পরীক্ষার ফল নেগেটিভ আসায় লকডাউন প্রত্যাহার ও তাদের কোয়ারেন্টাইন থেকে অবমুক্ত করা হয়েছে।

নড়িয়া থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘মৃত রফিকুল ইসলাম (৩৪) উপজেলার ব্যাপারীকান্দি গ্রামের মৃত হামেদ মাদবরের ছেলে। বুধবার তার মরদেহ মুলফৎগঞ্জ মাদ্রাসা কবরস্থানে দাফনের জন্য নিয়ে গেলে কবরস্থান কর্র্তৃপক্ষ সেখানে দাফন না করার জন্য অনুরোধ জানায়। পরে আমরা চণ্ডীপুর সরকারি গণকবরস্থানে মরদেহটি দাফন করি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত