রাজশাহীর একটি বেসরকারি ক্লিনিকের এক নার্সকে রাজশাহী সংক্রমণ ব্যাধি হাসপাতালে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।
শুক্রবার জ্বর-কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রিমেক) হাসপাতালে ভর্তি হন। তার অবস্থা অপরিবর্তিত থাকায় শনিবার সকালে তাকে আইসোলেশনে স্থানান্তর করা হয়।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা চিকিৎসা টিমের প্রধান ডা. আজিজুল হক আজাদ এসব তথ্য দিয়ে জানান, ওই নার্সের করোনা শনাক্তের পরীক্ষা করা হবে।
তিনি জানান, রামেক হাসপাতালের করোনা পর্যবেক্ষণ ওয়ার্ডে গত ২৪ ঘণ্টায় ১২ জন ভর্তি হয়েছিল। পর্যবেক্ষণ শেষে এদের ৮ জনকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। এখন ৪ জন পর্যবেক্ষণে রয়েছে।
এদিকে, শনিবার জেলা প্রশাসনের সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত মার্চ মাসে রাজশাহীতে বিদেশ থেকে এসেছেন ২ হাজার ৯৫৯ জন। এর মধ্যে শুক্রবার পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয় এক হাজার ৮০ জনকে। বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ৩১৪ জন। আর ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে ৭৬৬ জনকে। গত ২০ ঘণ্টায় চারজনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে। এরা সবাই মোহনপুরে।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা প্রশাসক মো. হামিদুল হক বলেন, রাজশাহীর সব উপজেলা থেকে নমুনা সংগ্রহের কাজ চলছে। কোন রোগী যেন চিকিৎসা বঞ্চিত না হয় এবং সব কর্মহীন মানুষ যেন খেতে পান, সেদিকে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া মানুষকে বাড়িতে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
রামেক ল্যাবে আরও ২২ নমুনা
এদিকে, রাজশাহী মেডিকেল কলেজে (রামেক) স্থাপিত করোনাভাইরাস শনাক্ত ল্যাবে আরও ২২ জনের নমুনা এসেছে। এর মধ্যে পাবনা থেকে এসেছে ১৯ জনের। অন্য তিনটি রাজশাহী থেকে এসেছে বলে জানিয়েছেন রামেকের ভাইরোলজি বিভাগের প্রধান ও করোনা ল্যাবের ইনচার্জ ডা. সাবেরা গুলনাহার।
শনিবার বিকেল ৫টার দিকে ডা. সাবেরা গুলহার জানান, এ পর্যন্ত আমরা ২২ জনের নমুনা পেয়েছি। এগুলো নিয়ে আমরা কাজ করছি।
তিনি বলেন, আমরা এ পর্যন্ত সাতজনের নমুনা পরীক্ষা করে ঢাকায় জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইইডিসিআর) পাঠিয়েছি। সেখান থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে ফলাফল প্রকাশ করা হচ্ছে।
গত বুধবার থেকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে নমুনা সংগ্রহ ও করোনা পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়।
