মহমারী করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে দেশব্যাপী সাধারণ ছুটি চলছে। এ সময় জনসাধারণকে ঘরে আটকে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সেনাবাহিনীও টহল চালাচ্ছে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বেশিরভাগ শাখাও বন্ধ রাখা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অনেক গ্রাহক ক্রেডিট কার্ডের বিল নির্ধারিত সময়ে পরিশোধ করতে পারছেন না।
তাই বিদ্যমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নির্ধারিত সময়ে ক্রেডিট কার্ডের বিল পরিশোধ না করলে আগামী মে মাস পর্যন্ত গ্রাহকের কাছ থেকে জরিমানা বা বাড়তি চার্জ না নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
গতকাল সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো এক সার্কুলারে এমন নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসের বিস্তার ও সংক্রমণের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ অর্থনৈতিক কর্মকান্ড সীমিত হয়ে পড়ায় জনসাধারণের আয় বর্ধনকারী কর্মকা-ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব লক্ষ করা যাচ্ছে।
করোনা সংক্রমণ রোধে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া জনসাধারণকে বাইরে বের হওয়া থেকে বিরত থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অনেকের পক্ষেই নির্ধারিত সময়ে ক্রেডিট কার্ডের বিল পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।
চলতি বছরের মার্চের শুরুতে দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এরপর থেকে ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের রোগীর পরিমাণ বাড়ছে। গতকাল পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৭০-এ দাঁড়িয়েছে। ইতিমধ্যেই এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সাধারণ ছুটির পাশাপাশি গণপরিবহন চলাচল সীমিত করা হয়েছে। জরুরি সেবাকাজের বাইরে সব ধরনের সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, ক্রেডিট কার্ড গ্রাহকদের অর্থিক সামর্থ্য ও চলমান অন্যান্য সীমাবদ্ধতার বিষয়টি বিবেচনায় যেসব ক্রেডিট কার্ড গ্রাহকের বকেয়া বিল পরিশোধের শেষ সময় ১৫ মার্চ বা তার পরে, সেসব গ্রাহক নির্ধারিত সময়ে বিল পরিশোধ না করলে কোনো বিলম্ব ফি, অতিরিক্ত চার্জ, অতিরিক্ত মুনাফা, দন্ড সুদ বা অন্য কোনো নামে আদায় করা জরিমানা না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এরই মধ্যে যদি কোনো ব্যাংক চার্জ আরোপ করে থাকলে গ্রাহককে তা ফেরত দিতে হবে। এ নির্দেশনা চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে কার্যকর হবে এবং ৩১ মে পর্যন্ত তা বলবৎ থাকবে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে।
এর আগে এক সার্কুলারে গাড়ি, বাড়ি, ব্যবসাসহ অন্য সব ঋণের মতো ক্রেডিট কার্ডের গ্রাহককেও আগামী জুন পর্যন্ত খেলাপি না করতে বলেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রতিটি ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডে বিল পরিশোধের নির্দিষ্ট একটি সময়সীমা আছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রতি মাসের ১ থেকে ১৫ তারিখের মধ্যে বকেয়া বিল পরিশোধের সময় বেঁধে দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ে কোনো গ্রাহক ন্যূনতম বিল পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাকে নির্দিষ্ট অঙ্কের জরিমানা দিতে হয়।
এছাড়া অপরিশোধিত বিলের ওপর নির্ধারিত হারে সুদ আরোপ করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে নির্ধারিত সময়ে গ্রাহক ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া পরিশোধ না করলেও তার ওপর কোনো ধরনের বিলম্ব ফি বা জরিমানা বা অতিরিক্ত সুদ ৩১ মে পর্যন্ত আরোপ করতে পারবে না ব্যাংকগুলো।
