'মুন্নাভাই এমবিবিএস'-এর সার্কিট আরশাদ ওয়ার্সি মাত্র ১৪ বছর বয়সে এতিম হন। এরপর জীবন বাঁচাতে নানান পেশায় যুক্ত হন। এক সময় দরজার দরজার কসমেটিকসও বেচতে হয়েছে!
আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে জানা যায়, দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় বাবা-মা দুজনকেই হারান আরশাদ। তখন তার বয়স মাত্র ১৪ বছর। তাই আর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি।
আরশাদের বাবা একজন মিউজিসিয়ান ছিলেন। সেই দিক থেকে পারিবারিক আর্থিক অবস্থা যথেষ্ট স্বচ্ছল ছিল। কিন্তু কম বয়সে এতিম হওয়া আরশাদ সে সময় পাশে কাউকেই পাননি। যে বাড়িতে তিনি থাকতেন, সেখান থেকে বাধ্য হয়ে মুম্বাইয়ের অন্য একটি বাড়িতে উঠে আসেন। পারিবারিক সম্পত্তির বেশিরভাগই ভাড়াটিয়াদের দখলে চলে যায়।
এ দিকে পড়াশোনাতেও ইতি পড়ে গিয়েছিল। কী করবেন, কী ভাবে খাবার জোটাবেন তা ভেবে উঠতে পারছিলেন না।
বাধ্য হয়েই মাত্র ১৭ বছর বয়সে চূড়ান্ত অর্থাভাবে দরজায় দরজায় গিয়ে কসমেটিকস বিক্রির কাজ শুরু করেন আরশাদ। তারপর কিছুদিন একটা ফটো ল্যাবে কাজ শুরু করেন।
ল্যাবে কাজ করার সময় পরিচালক মহেশ ভাটের সঙ্গে পরিচয় হয় আরশাদের। তার সঙ্গে কয়েকটি ফিল্মে ফটোগ্রাফির কাজ পান। সে সময় শুটিং সেটে পূজা ভাটও আসতেন। শোনা যায়, পূজার সঙ্গেও বেশ ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়।
স্কুলে পড়ার সময় থেকেই জাতীয় স্তরের জিমন্যাস্ট ছিলেন আরশাদ। তাই ফিটনেস ভালো ছিল। সেটার সুবিধা নিয়েই নাচের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় তার। এক সময় আকবর শামির নাচের দলে যোগ দেন। বেশ কিছু পুরস্কার জেতার পর ‘অসম’ নামে নিজের ডান্স স্টুডিও খোলেন। তখন থেকেই কোরিওগ্রাফার হিসেবে বলিউডে নিজের ক্যারিয়ার তৈরি করতে শুরু করেন তিনি।
১৯৯৩ সালে‘রূপ কি রানি চোর কা রাজা’ ছবির টাইটেল ট্র্যাক কোরিওগ্রাফ করার দায়িত্ব পান আরশাদ। তার ফোকাস ছিল বলিউডের অন্যতম কোরিওগ্রাফার হওয়া। কিন্তু ভাগ্য তার জন্য অন্য কিছুই লিখছিল। সে সময়ই ১৯৯৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘তেরে মেরে স্বপ্নে’ ছবির অন্যতম প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের জন্য প্রস্তাব দেন খোদ জয়া বচ্চন। ওই ফিল্মে তার অভিনয় প্রশংসিত হয়।
এরপর একে একে বেতাবি, মেরে দো আনমোল রতন, হিরো হিন্দুস্তানি, হোগি প্যায়ার কি জিত, মুঝে মেরি বিবি সে বাঁচাও-এর মতো একের পর এক জনপ্রিয় ছবিতে অভিনয় করেন আরশাদ। তবে ২০০৩ সালের ‘মুন্নাভাই এমবিবিএস’-এর ‘সার্কিট’ চরিত্রটি জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছে দেয়। পাশাপশি ‘চকোলেট’, ‘কাবুল এক্সপ্রেস’-এর মতো অন্য ধারার ছবিতেও তার অভিনয় দেখেছেন দর্শক।
আরশাদের প্রথম একক হিট ছিল ‘জলি এলএলবি’তে আইনজীবীর চরিত্র।
তার এই সংগ্রাম-পূর্ণ জীবনে পাশে থেকেছেন স্ত্রী মারিয়া গোরেতি। যখন আরশাদ ক্যারিয়ার তৈরির জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলতেন, স্ত্রী মারিয়া পরিবারের সমস্ত দায়িত্ব একা পালন করতেন।
১৯৯১ সালে একটি কলেজের অনুষ্ঠানে গিয়ে মারিয়া গোরেতির সঙ্গে আলাপ হয় আরশাদের। আট বছরের সম্পর্কের পর ১৯৯৯ সালে বিয়ে করেন তারা। দম্পতির এক পুত্র ও এক কন্যা রয়েছে।
