নোয়াম চমস্কিকে অনেকেই চেনেন। বিশেষ করে বুদ্ধিজীবী শ্রেণির কাছে তিনি যথেষ্ট পরিচিত। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হলেও যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর সমালোচক। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, নিরাপত্তা ইত্যাদি তার বিষয় ছিল না। তিনি ভাষাবিজ্ঞানের অধ্যাপক ছিলেন। কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, নিরাপত্তা, বৈদেশিক নীতি,বিশ্বায়ন, সন্ত্রাসবাদ নিয়ে যেসব বই লিখেছেন, তা যেকোনো অধ্যাপকের লেখনীকে হার মানিয়ে দেয়। করোনাভাইরাস নিয়ে সারা বিশ্ব যখন আতঙ্কের মধ্যে আছে, তখন সম্প্রতি তার একটি সাক্ষাৎকার ছাপা হয়েছে। একটি নিউজ পোর্টাল Truthout তার সাক্ষাৎকারটি ছাপে ১ এপ্রিল। সেখানে তিনি মন্তব্য করেছেন এভাবে ‘Ventilator shortage Exposes the Cruelty of Neoliberal Capitalism’। বিশ্বের এক নম্বর অর্থনৈতিক শক্তি যুক্তরাষ্ট্রের। সেই যুক্তরাষ্ট্রে এখন করোনা আক্রান্তে মানুষের মৃত্যুর মিছিল। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য দরকার ভেন্টিলেটর। সেই ভেন্টিলেটরের কি না অভাব যুক্তরাষ্ট্রের! মার্কিন পুঁজিবাদী সমাজে সাধারণ মানুষের ন্যূনতম যে চাহিদা ভেন্টিলেটর জোগানো, তাতে ব্যর্থ যুক্তরাষ্ট্র এ কথাটাই বলতে চেয়েছেন চমস্কি। চমস্কি যে মিথ্যা বলেননি, তার প্রমাণ যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি। হোয়াইট হাউজের করোনাভাইরাসবিষয়ক টাস্কফোর্সের কর্মকর্তা ডা. ডেবোরা ব্রিস্ক বলেছেন, যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হলেও এক লাখ মৃত্যু কিছুতেই এড়াতে পারবে না যুক্তরাষ্ট্র। ডেবোরা ব্রিস্কের আশঙ্কা বাস্তবে রূপ নিলে তা ভিয়েতনাম যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনাদের সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে যাবে। তিনি আরও বলেছেন, ‘সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং মেনে না চললে যুক্তরাষ্ট্রে মৃতের সংখ্যা হতে পারে ১৫ থেকে ২২ লাখ পর্যন্ত। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশনাল ডিজিজের পরিচালক ডা. অ্যান্থনি ফাউসি এর আগে সিএনএনের সঙ্গে আলাপকালে যুক্তরাষ্ট্রে এ ভাইরাসে ১০ লক্ষাধিক মানুষ আক্রান্ত এবং দুই লাখ মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজে করোনাভাইরাসকে ‘বাঁচা মরার ইস্যু’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমেরিকার নাগরিকদের। আমেরিকার পুঁজিবাদী সমাজ সেখানে মানুষদের ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পারেনি। যুক্তরাষ্ট্র যে কত অসহায়, তা বোঝা যায় যখন জানা যায় হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় ভেন্টিলেটর নেই। করোনা রোগীদের জন্য এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অথচ হাসপাতালগুলোতে তা নেই। ট্রাম্পকে এখন তাকাতে হচ্ছে রাশিয়া ও চীনের দিকে। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস পেইচিং কিংবা সাংহাইয়ে ছড়াল না, ছড়িয়ে পড়ল নিউ ইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি স্টেটে। যুক্তরাষ্ট্র পৃথিবীর এক নম্বর অর্থনৈতিক শক্তি। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ব্যর্থ হলো করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে রাখতে। নিউ ইয়র্ক পোস্ট আমাদের জানাচ্ছে (২৭ মার্চ) প্রতি ১৭ মিনিটে একজন করে মানুষ মারা যাচ্ছে নিউ ইয়র্কে। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতরাও সেখানে মারা গেছেন। কি দুর্ভাগ্যজনক সংবাদ কবরস্থানে জায়গা নেই! তাই বড় বড় ফ্রিজ রাখা হয়েছে হাসপাতালগুলোর সামনে, যেখানে মৃতদেহগুলো ফ্রিজ করে রাখা হচ্ছে এ-সংক্রান্ত একটি ছবিও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে।
চিন্তা করা যায়, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের এক নম্বর অর্থনীতির দেশ হলেও, দেশটি স্বাস্থ্য খাতকে কখনো গুরুত্ব দেয়নি। সংবাদপত্রে একটি খবর বেরিয়েছে যে, গত জানুয়ারিতেই গোয়েন্দারা একটি রিপোর্ট দিয়েছিলেন করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঘটতে পারে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই রিপোর্টটি উপেক্ষা করেছিলেন। ওই সময় যদি ব্যাপক প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতো, তাহলে এত মৃত্যু এড়ানো যেত। যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকে নেতৃত্ব দেওয়ার দাবি করলেও, নিজ জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি। আরও কিছু তথ্য দিই। ২০০১ সালের পর থেকে এ যাবৎ যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের পেছনে খরচ করেছে পাঁচ ট্রিলিয়ন ডলারের ওপরে (৫,০৫,১৫০ কোটি ২৬ লাখ ৩৫ হাজার ৫৭৭ ডলার, সূত্র : Informatin Clearing House, 28 march) । নিউজউইক ম্যাগাজিন গত ২৬ মার্চ (২০২০) একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তাতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র এক বছর পারমাণবিক কর্মসূচিতে যে অর্থ ব্যয় করে, তা দিয়ে তিন লাখ আইসিইউ বেড তৈরি করা সম্ভব, ৩৫ হাজার ভেন্টিলেটর তৈরি করা যায় ও ৭৫ হাজার ডাক্তারের বেতন দেওয়া যায়। নিউজউইক International Campaign to Abolish Nuclear Weapons নামক একটি সংস্থার উদ্ধৃতি দিয়ে এই তথ্যটি প্রকাশ করেছে। বলা ভালো, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য ভেন্টিলেটর খুবই প্রয়োজন। কিন্তু দেখা গেল, যুক্তরাষ্ট্রের হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত ভেন্টিলেটর নেই। এক নম্বর শক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের যেখানে আক্রান্ত দেশগুলোতে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসা উচিত ছিল, সেখানে যুক্তরাষ্ট্র ব্যর্থ।
এ ক্ষেত্রে এগিয়ে এসেছে চীন। News.com.au নামের একটি নিউজ পোর্টাল থেকে জানা গেছে (২৯ মার্চ) চীন ইতিমধ্যে করোনায় আক্রান্ত দেশগুলোকে মাস্ক ও অন্য সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে। গ্লোভস, সুরক্ষা ড্রেস দিয়েছে লাইবেরিয়াকে, এক লাখ টেস্ট কিট দিয়েছে ফিলিপাইন ও বাংলাদেশকে, চেক রিপাবলিক পেয়েছে মাস্কসহ সুরক্ষা ড্রেস। পশ্চিম ইউরোপ, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ইরান, ইরাক ও বেশ কিছু আফ্রিকার দেশও এই সহযোগিতা পেয়েছে। ইতিমধ্যে চীন ঘুরে দাঁড়িয়েছে। চীন (২০ মার্চ) ইতিমধ্যে শতকরা ৮৫ ভাগ তাদের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে ফিরে এসেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এপ্রিলের প্রথম ভাগেই শতকরা ১০০ ভাগে তারা উন্নীত হতে পারবে। ব্লুমবার্গ ইকোনমিকসের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ১৪ ফেব্রুয়ারি অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের পরিমাণ যেখানে ছিল শতকরা ৪০-৫০ ভাগ, সেখানে ২০ মার্চ শতকরা ৮৫ ভাগে উন্নীত হওয়া কম দক্ষতার পরিচয় নয় (ব্লুমবার্গ, ২৭ মার্চ)। তুলনামূলক বিচারে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতা চোখে লাগার মতো। তবে করোনা-সংকট চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এক ধরনের পারস্পরিক নির্ভরশীল সম্পর্ক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। কিন্তু ওয়াশিংটনের কট্টরপন্থিরা পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এই সুযোগটি গ্রহণ করবে কি না সেটা একটা প্রশ্ন বটে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কট্টরপন্থিদের চাপ উপেক্ষা করে চীনের দিকে হাত বাড়াবেন কি না সে ব্যাপারেও সন্দেহ রয়েছে অনেকের। জাতীয় নিরাপত্তার নতুন এক ধারণা এখন তৈরি হবে। অপ্রচলিত নিরাপত্তা যে বিশ্বকে কত বড় হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে, করোনাভাইরাস তার বড় প্রমাণ। প্রতিটি রাষ্ট্রই এখন অপ্রচলিত নিরাপত্তাকে বেশি গুরুত্ব দেবে। এ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য সেক্টর গুরুত্ব পাবে বেশি। করোনা মহামারী বিশ^ব্যবস্থার ধরনকেই বদলে দিয়েছে। একটি নয়া বিশ্বব্যবস্থা এখন বিকশিত হবে। তবে প্রশ্ন আছে অনেক।
সবাই এটা জানে যে, মার্কিন অর্থনীতি হচ্ছে যুদ্ধ অর্থনীতি। পুঁজিবাদের এটাই বৈশিষ্ট্য যুদ্ধ শুরু করা ও যুদ্ধ প্রলম্বিত করা। সাম্প্রতিক সময়গুলোতে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধ শুরু করে তাদের স্বার্থ আদায় করে নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ডিফেন্স এসটাবলিশমেন্টের পেন্টাগনের ওপর প্রভাব অনেক বেশি। এজন্য তারা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে লাইসেন্স পাওয়ার জন্য। তিনটি বড় অস্ত্র উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করি লকহিড মার্টিন, বোয়িং ও রেথিওন। লকহিড মার্টিনের অস্ত্র বিক্রির পরিমাণ ৪৪.৯ বিলিয়ন ডলার (মোট প্রতিরক্ষা খাতের শতকরা ৮৮ ভাগ), বোয়িংয়ের ২৬.৯ মিলিয়ন (শতকরা ২৯ ভাগ) ও রেথিওন ২৩.৮ মিলিয়ন ডলার (৯৪ ভাগ)। এসব কোম্পানি এক এক ধরনের অস্ত্র তৈরি করে ও রপ্তানি করে। এজন্যই যুদ্ধটা দরকার। যুদ্ধ না হলে তো অস্ত্র রপ্তানি করা যাবে না। যুক্তরাষ্ট্র যে একটা যুদ্ধবাজ জাতি, তার আরও কিছু তথ্য দিই। ২০০০ সালে যেখানে যুক্তরাষ্ট্র অস্ত্র রপ্তানি করেছিল ৭৫০০ মিলিয়ন ডলারের, সেখানে ২০১৭ সালে এর পরিমাণ এসে দাঁড়ায় ১২০৫০ মিলিয়ন ডলারে। ২০১৯ সালে অবশ্যই তা কমে এসে দাঁড়ায় ১০৭৫২ মিলিয়ন ডলারে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে বাঁচিয়ে রেখেছে এই অস্ত্র বিক্রি। অথচ ভেন্টিলেটর উৎপাদনের দিকে যায়নি মার্কিন কোম্পানিগুলো। এই ভেন্টিলেটর এখন আনতে হচ্ছে চীন থেকে। সামরিক খাতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট বরাদ্দ ৯৩৪ বিলিয়ন (billion) ডলার। ২০২০ সালের ১ অক্টোবর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২১ সাল পর্যন্ত এই অর্থ ব্যয় হবে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজেটের এটা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। সোশ্যাল সিকিউরিটি খাতে সর্বোচ্চ অর্থ ব্যয় করা হয়, তারপরই সামরিক খাতে ব্যয় বরাদ্দ বেশি। তুলনামূলক বিচারে সামরিক খাতে চীনের অবস্থান দ্বিতীয় (২৩৭ বিলিয়ন ডলার), সৌদি আরবের তৃতীয় (৬৭.৬ বিলিয়ন), আর ভারতের চতুর্থ (৬১ বিলিয়ন) সূত্র : Golbal Firepower) । সামরিকভাবে বিশ্বকে কর্তৃত্ব করার উদ্দেশ্য নিয়েই যুক্তরাষ্ট্র সামরিক খাতে ব্যয় বরাদ্দ বাড়িয়ে চলেছে। শুধু তাই নয়, যুক্তরাষ্ট্র পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সামরিক ঘাঁটি প্রতিষ্ঠা করে তাদের কর্তৃত্ব বজায় রাখছে। ডেভিড ভাইন (David Vine) তার গ্রন্থ Base Nations : How u.s. Military Bases Abroad Harm America and the would-এ উল্লেখ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র পৃথিবীর ৭০টি দেশে ৮০০ সামরিক ঘাঁটি তথা স্থাপনা (রাডার স্টেশন) প্রতিষ্ঠা করেছে (সূত্র : Politico Magazine)।
এই যখন পরিস্থিতি, তখন দেশটির স্বাস্থ্য খাত ছিল উপেক্ষিত। ৩ এপ্রিলের খবর, যেখানে বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের মৃত্যু ৫১৩৭৫ উল্লেখ করা হয়েছে, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান তৃতীয় (৫৬২৪)। মৃত্যুর এই সংখ্যা ইতিমধ্যে চীনকে (৩৩২৮) ছাড়িয়ে গেছে। ইতালির অবস্থান এক নম্বরে (১৩৯১৫)। স্পেনে মারা গেছেন ১০০৯৬ জন। তবে সবচেয়ে বেশি লোক আক্রান্ত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে ২৩৫৭৪৭ জন। এ মুহূর্তে নিউ ইয়র্কে সবচেয়ে বেশি লোক আক্রান্ত হয়েছেন এবং মারা গেছেন। সংবাদপত্রে খবর বেরিয়েছে, নিউ ইয়র্কের চেয়ে সাত গুণ বেশি মানুষ মারা যাবে নিউঅরলিন্সে। সংবাদপত্রের আরও খবর বাড়িভাড়া দিতে পারছে না লাখ লাখ মার্কিনি। সংবাদ সংস্থা এএফপির খবর দেশটিতে চাকরি হারিয়ে বেকারত্ব ভাতার জন্য আবেদন করেছেন সাড়ে ৬৬ লাখ মানুষ।
যুক্তরাষ্ট্রের এই পরিস্থিতি প্রমাণ করে মার্কিন পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থা মার্কিন জনগণের ন্যূনতম চাহিদা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই চমস্কি যখন ভেন্টিলেটর তৈরির ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করেন, তখন পুঁজিবাদী সমাজের কালো দিকটার কথাই বলতে চান। করোনাভাইরাস প্রমাণ করল নতুন করে বিশ্বব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকে নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা হারিয়েছে। ভবিষ্যতে নতুন যে বিশ্বব্যবস্থা গড়ে উঠবে, তাতে আর যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অবস্থান থাকবে না। একটি ‘মানবিক যুক্তরাষ্ট্র’ গড়ে তোলার দাবিও শক্তিশালী হবে। ট্রাম্পের যুদ্ধবাজনীতি ও ‘আমেরিকা ফার্স্ট’-এর মতো নীতি ব্যর্থ হয়েছে। ফলে নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এর একটি প্রতিক্রিয়া থাকবেই। একজন মানবতাবাদী প্রেসিডেন্ট যদি ২০২১ সালের জানুয়ারিতে শপথ নেন, আমি অবাক হব না।
লেখক
প্রফেসর ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক
