নারায়ণগঞ্জে করোনাভাইরাসে (কভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে গেছেন ভেবে গিটারিস্ট হিরু লিসানের (৩০) দাফনে এগিয়ে আসেনি কেউ। মৃত্যুর পর ৯ ঘণ্টা তার লাশ বাড়ির সামনে পড়েছিল।
পরে পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়রের উদ্যোগে হিরুর লাশ দাফন করা হয়।
জানা গেছে, সোমবার দিবাগত রাত দেড়টায় দেওভোগ চেয়ারম্যান বাড়ি (কৃষ্ণচূড়া মোড়) এলাকায় মারা যান হিরু। গত ২৬ মার্চ থেকে জ্বর, নিউমোনিয়া, গলাব্যথা ও শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি।
এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জের মেডিনোভা, ঢাকা মেডিকেলসহ বেশ কয়েকজন চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নিলেও তারা কেউ করোনাভাইরাসের পরীক্ষার পরামর্শ দেয়নি। নিজে থেকে আইইডিসিআরের হটলাইনে প্রায় দুদিন চেষ্টা করেও করোনা টেস্টের ব্যবস্থা করতে পারেনি তার পরিবার।
সোমবার রাতে হিরুর অবস্থা সংকটাপন্ন হলে পরিবারের লোকজন তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যেতে চায়। তবে তাতে বাধা দেয় এলাকাবাসী।
প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া এলাকা থেকে অ্যাম্বুলেন্স বের হতে দেওয়া যাবে না অজুহাতে প্রায় এক ঘণ্টা অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখে তারা। রোগীর জ্বর-সর্দি এবং শ্বাসকষ্ট রয়েছে অর্থাৎ তার করোনার উপসর্গ আছে এমনটা জানতে পেরে অ্যাম্বুলেন্স চালকও গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায়।
আজ খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র-১ আফসানা আফরোজ বিভা ঘটনাস্থলে ছুটে যান তার টিমসহ স্থানীয় থানা পুলিশ নিয়ে। তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় লাশ দাফনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
প্যানেল মেয়র-১ আফসানা আফরোজ বিভা দেশ রূপান্তরকে জানান, মৃতের স্বজনদের হোম কোয়ারেন্টাইন থাকতে বলা হয়েছে। মৃতের নমুনা পরীক্ষা করা হবে।
ফতুল্লা মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) তরিকুল ইসলাম বলেন, আমি নিজেই ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। একজন প্যানেল মেয়রও ছিলেন। আমি তার মায়ের সঙ্গে কথা বলেছি।
তিনি জানান, হিরুকে অ্যাম্বুলেন্সে ওঠানোর সময় চালক ও অ্যাম্বুলেন্সে থাকা অন্যরা বলছিলেন সে মারা গেছে, তাকে আর ঢাকা নিয়ে কী হবে। এরপরই লাশ বাড়ির কাছে ফেলে রেখেছিল। করোনা আতঙ্কে কেউ আর কাছে আসেনি। তার লাশ দাফনের ব্যবস্থা করেছে সিটি করপোরেশন। সেখানে পুলিশের টিম রয়েছে।
এদিকে বেস গিটারিস্ট হিরু লিসানের আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তার সহকর্মীদের মাঝে। শোকে মুহ্যমান পরিবারের সদস্যরা। নিহত হিরুর স্ত্রী ও এক বছরের এক সন্তান রয়েছে।
